সরকার তেল-চিনির দাম বেঁধে দিলেও বাজারে তার কার্যকারিতা নেই


FE Team | Published: September 24, 2021 16:22:38 | Updated: September 26, 2021 16:46:43


সরকার তেল-চিনির দাম বেঁধে দিলেও বাজারে তার কার্যকারিতা নেই

সরকার দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার ১৫ দিন পরেও বাজারে চিনির দাম কমেনি। সরকার সয়াবিন তেলের দাম বেঁধে দিলেও বাজারে তার কার্যকারিতা নেই।

বিশ্ববাজারে এখন তেল-চিনির দাম ঊর্ধমুখী, এর প্রভাবে দেশের বাজারেও পণ্য দুটির দাম বেড়েই চলছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ঘুরে দেখা যায়, খুচরায় চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৮ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। আর প্যাকেটের সাদা চিনি প্রতিকেজি ৮০ টাকা, লাল চিনি বা আখের চিনি প্রতিকেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

সয়াবিন তেলের দাম প্রতিকেজি ১৪৩ টাকা আর প্রতি লিটার ১৩৭ টাকা। যদিও গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১২৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো চিনির প্রতিকেজি ৭৪ টাকা থেকে ৭৫ টাকা ঠিক করে দেয় সরকার।

মীরপুর পীরেরবাগে মুদি দোকানি শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি মীরপুর-১ নম্বরের পাইকারি বাজার থেকে প্রতিকেজি চিনি ৭৬ টাকা ৬০ পয়সায় কিনে এসেছেন। এখন ৮০ টাকার কমে বিক্রি করলে তার ব্যবসা হবে না।

একইভাবে খোলা সয়াবিন তেল প্রতিকেজি ১৪১ টাকা ৬০ পয়সা দরে কেনার কথা বললেন শফিকুল। খুচরায় তিনি প্রতিকেজি বিক্রি করছেন ১৪৩ টাকায় আর প্রতি লিটার ১৩৭ টাকা দরে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো অবশ্য দাবি করছেন, ভোজ্যতেল এখন সরকার নির্ধারিত দরের মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে প্রতিমণ খোলা সয়াবিন তেল ৫০৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা দাবি করলেন তিনি। সে হিসেবে প্রতি লিটারের দাম পড়ে ১২৪ টাকা।

এর সঙ্গে লাভের অংশ যোগ করে খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাজারে এখনই সর্বোচ্চ দাম চলছে। সুতরাং খুচরায় সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্য ১২৯ টাকা থেকে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রির সুযোগ নেই।

পুরান ঢাকার মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম মাওলা অভিযোগ করলেন, সরকার চিনির দাম নির্ধারণ করে দিলেও মিল মালিকরা সেটা মানেন না।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় বসে বসে দাম নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু তারা তো আর মাল সরবরাহ করে না। আমরা প্রতি কেজি চিনি ৭৫ টাকা করে মিল গেইট থেকে চিনি কিনছি। তাহলে সেই চিনি এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করব কীভাবে?

মন্ত্রণালয় তো খুচরায় ৭৫ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিল। সরকার দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর মিলগুলো সেই দামে কোনো পণ্যই বিক্রি করেনি। তাহলে এই নাটকগুলো করার মানে কী?

তবে কোনো মিলের নাম নির্দিষ্ট করে বলতে রাজি হননি ১৭ বছর ধরে পুরান ঢাকার পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিয়ে আসা গোলাম মাওলা।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার মৌলভী বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতিলিটার ১২৩ টাকা ৭৮ পয়সা, পাম তেল ১১৫ টাকা ৮০ পয়সা এবং সুপার পাম তেল ১১৮ টাকা ২১ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। আর চিনি বিক্রি হয়েছে ৭৪ টাকা ২৫ পয়সায়।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারির উদ্যোগ জানতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Share if you like