Loading...

সমস্যার এক দশকে ব্রিটিশ ডাক বিভাগ

| Updated: September 02, 2021 13:23:27


ব্রিটেনের রয়্যাল মেইলের একজন কর্মী ব্রিটেনের রয়্যাল মেইলের একজন কর্মী

ব্রিটেনের ডাক বিভাগ থেকে রয়্যাল মেইল সার্ভিস আলাদা করা হয় ২০১২ সালে। ব্রিটেন জুড়ে শাখা ডাকঘরগুলো হতে পার্সেল ও চিঠি বহনকারী সংস্থাকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এ কাজটি করেন দেশটিরমন্ত্রীরা। তাঁরা ভাবলেন, বেসরকারি ডাক সেবাপ্রদানকারী হিসেবে অনলাইন কেনাকাটার জোয়ারে এবারে গা ভাসাতে পারবে এই চিঠি ও পার্সেল বহনকারী রয়্যাল মেইল।

এভাবে আলাদা করার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ সরকার দেশটির স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং ব্যবস্থাটি দেশটির ব্যাংকগুলোর আওতাধীন বিতরণ ব্যবস্থার থেকেও বড় ছিলো। তবে এতে ২০১২ সালে বার্ষিক লোকসান গুণতে হয় ১১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড স্টারলিং।

এদিকে, ২০১৬-১৭ সালে ডাক বিভাগ (পোস্ট অফিস লিমিটেড) বহু আকাঙ্ক্ষিত লাভের টাকা ঘরে তোলে। ১৬ বছরের মধ্যে সেবারই প্রথম লাভ করে ব্রিটেনের ডাক বিভাগ। ২০১৪ সালের পর থেকেই ডাক বিভাগের বার্ষিক আয় ১০০ কোটি পাউন্ড স্টারলিংয়ের নিচে নেমে যায়।

ডিজিটাইজ করার কারণেই ডাক বিভাগের মূল অনেক ব্যবসা লাটে ওঠে। পাশাপাশি ই-বাণিজ্যের বিকাশ ঘটায় ডাক বিভাগের আয়ের তিন ভাগের এক ভাগই এ খাত থেকে আসে। সরকারি খাত থেকে আয়ের ৮০ ভাগ পথই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ির শুল্ক, পেনশন দেওয়া বা শিশুর জন্য দেওয়া নগদ সুবিধা সংক্রান্ত তৎপরতা অনলাইনে হতে থাকায় এ পরিস্থিতি দেখা দেয়।

২০১৯-২০ সালে মামলার হিড়িক পড়লে ডাক বিভাগ ৩০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড স্টারলিং-এর ক্ষতির মুখে পড়ে। ২০১৯-২০ সালে ডাক বিভাগ আট কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড স্টারলিং লাভ করেছিল। কিন্তু বিশ্বমারিতে প্রায় ধরাশায়ী হয়ে গেছে ভ্রমণ ব্যবসা। এসত্ত্বেও ২০২০-২১ সালে ডাক বিভাগের লাভ সাড়ে তিন কোটি থেকে চার কোটি পাউন্ড স্টারলিংয়ে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডাক দফতরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিকরিড।

ব্রিটেনের ডাক বিভাগরে সমস্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, শাখা ডাকঘরগুলোর ৯৭ শতাংশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চালানো হচ্ছে। স্বতন্ত্র পোস্টমাস্টার না হয় ডব্লিউএইচস্মিথের মতো খুচরা বিকিকিনিতে জড়িত ব্যবসা-সংস্থার সহায়তায় চলছে এগুলো।

সহকারী পোস্ট মাস্টাররা অভিযোগ করেন, প্রতি পার্সেল, চিঠি বা বিলের কমিশনভিত্তিক টাকা নেওয়ার আদল গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকে পড়ায় এক দশক আগেই তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ২০১০ সালে ঘোষিত নেটওয়ার্ক ট্রান্সফর্মেশন প্রোগ্রামের আওতায় সহকারী পোস্টমাস্টাররা নির্দিষ্ট বার্ষিক আয় হারায়। এ ব্যবস্থায় লেনদেনের ভিত্তিতে কমিশনের বদলে কেবল মাত্র কমিশনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে একে লোভনীয় করার জন্য ডাকঘরের শাখাগুলো এবং লেনদেনের তৎপরতাকে আধুনিকায়ন করা হয়। আশা করা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে ডাকঘর খোলা রাখায় বিক্রিবাট্টা আরো বাড়বে।

কিন্তু ২০১৯ সালে ডাক বিভাগের কার্যক্রমের ভবিষ্যত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটেনের সংসদ। তাতে উঠে আসে যে ২০১২-১৩ সালে সেবা খাত থেকে ডাক বিভাগ আয় করতে পেরেছে ৮৭ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড স্টারলিং। কিন্তু ২০১৮-১৯ সালে তা নেমে আসে সাড়ে ৩৬ কোটি পাউন্ড স্টারলিং-এ। একটা পার্সেলের জন্য কমপক্ষে ৩৮ পেন্স আয় করে ডাকঘর।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল ফেডারেশন অব সাব-পোস্টমাস্টারস ২০১৯ সালে এক জরিপ চালায়। ব্রিটেনে তখন ঘণ্টায় সর্বনিম্ন মজুরি বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৮.২১ পাউন্ড স্টারলিং কিন্তু জরিপে উঠে আসে এ সংস্থার তিন চতুর্থাংশ সদস্যের আয় এর চেয়েও কম।

৬৩ বছর বয়সী ডেভিড বেকার কম্যুনিকেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন সাব-পোস্টমাস্টার্স শাখার সাধারণ সম্পাদক। গত ৩৩ বছর ধরে উইল্ট শায়ারের লার্ক হিলে একটি ডাকঘর পরিচালনা করছেন তিনি। ডাকঘরের ব্যবসায় তার আয় হালে অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালে তার আয় ছিল ৩৪ হাজার পাউন্ড স্টারলিং। ২০১৬তে এসে তা দাঁড়ায় ১৪ হাজারে। কেবলমাত্র নাক ভাসিয়ে বেঁচে থাকার জন্য তাঁকে এখন নির্ভর করতে হচ্ছে খুচরা ব্যবসার ওপর।

ডেভিড বেকার মনে করেন, ২০১০ সালের আগের পদ্ধতিই ভালোভাবে কাজ করেছে। ‘ডাকঘরে কাজ করার খরচা এতে উঠে এসেছে’, বলে জানান তিনি, ‘নির্ধারিত হারে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা শাখা ডাকঘরগুলোকে চালু রাখতে সাহায্য করেছে।’

বেতন-ভাতাদি নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করেন রিড। পাশাপাশি বলেন, ‘সহকারী পোস্টমাস্টারদের বেতন গত দুই বছরে ১৬ শতাংশ বেড়েছে।’ ‘আধুনিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চলা, বাণিজ্যিকভাবে টিকে থাকা এবং সামাজিক দায়-দায়িত্ব পূরণ করার মতো কাজগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার ব্যবস্থা ডাকবিভাগের জন্য করতে হবে’, জানান তিনি।

[ফাইনান্সিয়াল টাইমস থেকে বাংলায় রূপান্তর করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা]

Share if you like

Filter By Topic