Loading...
The Financial Express

সন্তানের দেখভাল করতে গিয়ে ভুল করছেন না তো?

| Updated: January 29, 2022 19:17:08


ছবি: রয়টার্স। ছবি: রয়টার্স।

লালনপালনে ভুল করলে কমে যেতে পারে সন্তানের মানসিক শক্তি।

সব বাবা-মায়ের ইচ্ছে থাকে সন্তান ভালোমতো বেড়ে উঠুক। তবে নিজেদের কিছু ভুল বা অনুশাসনের অভাবে অনেকসময় সন্তান নিজের অজান্তেই বদমেজাজী বা বিশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

‘সাইকোলজি টুডে’র কলাম লেখক এবং ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের গবেষক ট্রেসি হাচিনসনের পরামর্শ নিয়ে সিএনবিসি ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে সন্তান মানুষ করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কিছু ভুল ত্রুটি সম্পর্কে তুলে ধরা হল।

শিশুর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ

অনুভূতি প্রকাশ করা বা মনের কথা বলা স্বাস্থ্যকর। ‘এটা নিয়ে মন খারাপ করো না’, ‘এটা তেমন বড় কোনো বিষয় না’ ইত্যাদি এমন ধরনের কথা বাবা-মা বললে সন্তানের অনুভূতির প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

যেমন- ঝড়ের সময় সন্তান ভয় পেয়ে কান্নাকাটি করলে তাকে থামিয়ে না দিয়ে বরং কী করলে তার ভালো অনুভূত হবে তা জানতে চাওয়া উচিত।

এতে সন্তান নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা শিখবে।

সন্তানের অনুভূতির কার্যকর বহিঃপ্রকাশের জন্য উপযুক্ত পথ খুঁজে পেতে ‘ব্রেইন স্টরমিং’ অনুশীলন করানো যেতে পারে।

পরাজয় থেকে রক্ষা করা

বাবা মায়ের পক্ষে সন্তা্নকে হেরে যেতে দেখা বা কোনো প্রতিকূলতার সঙ্গে সহজে তাল মেলাতে পারছে না এমনটা দেখা বেশ কষ্টকর। অনেকেই সন্তানের বাড়ির কাজ করে দেন বা অনলাইনে পরীক্ষার সময় সাহায্য করেন। যা আসলে সন্তানের জন্য ক্ষতি ডেকে আনে।

পরাজয় সাফল্যের ভিত্তি, এটা মাথায় রেখে সন্তানকে তার মতো করে বেড়ে উঠতে দিতে হবে। একবার খারাপ করলে পরেরবার সে ভালো করার চেষ্টা করবে।

সন্তানকে একবার পরাজয় থেকে বাঁচাতে গিয়ে মানসিকভাবে তার দুর্বলতা সৃষ্টি করা উচিত নয়।

চাওয়া মাত্রই সাধ পূরণ

উপহার পেতে শিশুরা ভালোবাসে। তাছাড়া পছন্দের জিনিসের জন্য তারা বায়না করেই থাকে এবং এটা স্বাভাবিক।

তবে চাওয়া মাত্রই শিশুর আবদার পূরণ করা তার মানসিক বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। চাওয়া মাত্র জিনিস পাওয়া শিশুর আত্মনিয়ন্ত্রণের পথে বাঁধা সৃষ্টি করে।

শিশুর আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়াতে তাদের বাড়ির কাজ শেষ করে ‘গেইম খেলা’ বা টেলিভিশন দেখার সময় নির্ধারিত করে দেওয়া ইত্যাদি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।   

সব কিছুতেই নিখুঁত আশা করা

সবাই চান তার সন্তান হবে সেরা এবং নিখুঁত। তবে এর জন্য তার পক্ষে অসম্ভব বা কষ্টকর এমন কোনো লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত নয়।

এমন ক্ষেত্রে বিফল হলে শিশু মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। আর পরবর্তী জীবনে হীনমন্যতায় ভুগতে পারে।

শিশুর মানসিক স্বাস্থের কথা বিবেচনা করে তার প্রতি বাস্তবিক আশা পোষণ করা উচিত, যেন সে তাতে সফল হয় ও জীবনে চলার পথে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।

নিরাপদ অনুভব করানো

অনেক কারণেই শিশু নিরাপত্তাহীনতা বা অস্বস্তিতে ভুগতে পারে। নতুন কিছু করা যেমন- নতুন কোনো খাবার, নতুন বন্ধু, নতুন কোনো খেলা, সিনেমা বা বই ইত্যাদির সঙ্গে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া তার মাঝে ক্ষেত্র বিশেষে অস্বস্তি কমাতে পারে।

পরাজিত হওয়ার সময়ের মতো তার অস্বস্তি অনুভূতির সময়ে তার পাশে থাকা মানসিক জোর বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে শিশুকে শুরুতেই সাহায্য করার আগে দেখে নিতে হবে সেই সাহায্য তার জন্য উপযুক্ত কি-না। অথবা আসলেই তার এই সাহায্য এখন প্রয়োজন কি-না।

অভিভাবক সন্তানের মাঝে স্বাস্থ্যকর সীমারেখা রক্ষা

সন্তান্ত নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে শিখবে ঠিকই কিন্তু তার মাথায় এটাও থাকবে যে আপনি তার গুরু।

যেমন- আপনার বারো বছরের সন্তানকে কোনো বিষয়ে নিষেধ করলে তা নিয়মিত যথাসম্ভব বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

সাধারণত যেসব বাবা-মা সন্তানের মাঝে স্বাস্থ্যকর সীমারেখা বজায় রাখেন তাদের শিশুরা মানসিকভাবে দৃঢ় হয়ে থাকে। 

নিজের প্রতি যত্নশীল না হওয়া

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিজের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে – স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, বিশ্রাম নেওয়া ইত্যাদিতে ব্যঘাত ঘটে।

তবে শিশুকে সঠিক শিক্ষা দিতে নিজেকের তার কাছে আদর্শ মডেল হিসেবে তুলে ধরতে হবে। আর তাই নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া জরুরি। কারণ শিশুরা যা দেখবে তা-ই শিখবে।

Share if you like

Filter By Topic