সকল শিল্প কারখানার জন্য বাধ্যশতামুলক গ্রুপ বিমা বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগিতা চেয়েছে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় নানা দুর্ঘটনায় ব্যারপক হতাহতের ঘটনায় গ্রুপ বিমা বাস্তবায়নের বিষয়টি পুণরায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে গ্রুপ বিমা বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনীয় কৌশল উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে অংশীদারদের সাথে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করতে অনুরোধ করেছে।
শ্রম মন্ত্রণালয়কে শীঘ্রই একটি সভার আয়োজনের অনুরোধ জানাতে দুতিয়ালি করার জন্য্ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছে আইডিআরএ।
নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি কারখানায় সদ্য ঘটে যাওয়া প্রাণনাশক অগ্নি দুর্ঘটনার পর গ্রুপ বিমার ব্যাপারটি দৃষ্টিপাত করা হয়। উক্ত দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় অনেকে।
শ্রম আইনের বিধি অনুযায়ী, যেসব কারখানা ও শিল্প ইউনিটে ১০০ জন বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রমিক কাজ করে তাদের জন্য গ্রুপ বিমা করা আবশ্যক।
আইডিআরএ-র পাঠানো চিঠিতে এর চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন লিখেছেন যে, বেশিরভাগ কারখানা ও শিল্প ইউনিটেই গ্রুপ বিমার প্রচলন নেই।
গ্রুপ বিমার অভাবে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরো লিখেছেন, “শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য তাদের আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করা গ্রুপ বিমার প্রধান উদ্দেশ্য”।
কারো মৃত্যু হলে তার পরিবারকে অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেওয়াও এর অন্যতম লক্ষ্য।
শ্রমিকদের জন্য গ্রুপ বিমা থাকলে যেকোনো দূর্ঘটনা ঘটলে কারখানা মালিকদের আর্থিক দায়ের সিংহভাগ বহন করবে জীবন বিমা কোম্পানিগুলো।
মোশাররফ হোসেন আরোব লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অগ্নি ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় অনেক শ্রমিকের জখম ও মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।
তাছাড়া এসব দুর্ঘটনায় সরকারকে নিজস্ব তহবিল থেকে শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য দিতে হচ্ছে।
তিনি লিখেন, “গ্রুপ বিমার প্রচলন শুরু হলে শ্রমিক এবং মালিক উভয়ই উপকৃত হবে।"
তিনি আরো বলেছেন যে, শ্রমিকদের জন্য গ্রুপ বিমা করতে কারখানা মালিকদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিমার প্রিমিয়াম ও বিমার অর্থ আয়করমুক্ত করা আছে।
শ্রম আইনে গ্রুপ বিমা বাধ্যতামূলক করা হলেও বেশিরভাগ কারখানা মালিকই এই বিধি মেনে চলেননি।
syful-islam@outlook.com
