পৌষের শুরুতে বয়ে যাওয়া এক দফা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতার অনুভূতি রেখে গেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গাণিতিক হিসাবে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বেশ কুয়াশা, মেঘলা আকাশ ও উত্তরী হাওয়ায় তাপমাত্রা কমেছে। এতে শীতের অনুভূতি কমছে না।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ জানান, শনিবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। আর আগামী ৭২ ঘন্টায় রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যান্য স্থানের মধ্যে ময়মনসিংহে ১৩ ডিগ্রি, সীতাকুণ্ডে ১১.৪ ডিগ্রি, সিলেটে ১০.৬ ডিগ্রি, ঈশ্বরদীতে ১১ ডিগ্রি, রাজারহাটে ১০.৫ ডিগ্রি, চুয়াডাঙ্গায় ১১.৪ ডিগ্রি ও বরিশালে ১২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
চলতি মৌসুমে ২০ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অফিস বলছে, সোম থেকে বুধবার এ তিন দিন শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এ সময় গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও বরিশাল অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ ছিল।
আবহাওয়াবিদ ড. আব্দুল মান্নান জানান, টানা তিন দিন বয়ে যাওয়ার পর শৈত্যপ্রবাহ ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে।
“গাণিতিকভাবে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় শীতের অনুভূতি কমছে না। অন্যান্য বছরের মতো এবারও স্বাভাবিক শীতের প্রবণতা রয়েছে।”
তিনি জানান, উত্তরী বাতাসের এমন দিনে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি কখনও কখনও কুয়াশা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি বাড়ছে। কোথাও কুয়াশা তেমন নেই, কিন্তু তাপমাত্রা বেশ কম এবং মেঘলা আকাশে রোদ কম হওয়ায় শীতের অনুভূতি সহজে কমে না।
বড় এলাকাজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে।
আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মান্নান বলেন, “শৈত্যপ্রবাহ কেটে যাওয়ায় এখন স্বাভাবিক শীত থাকবে। আগামী চার-পাঁচ দিন এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ডিসেম্বরের একেবারে শেষ দিকে বা জানুয়ারির শুরুতে তাপমাত্রা কমতে থাকবে। এ সময় আরেক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে। জানুয়ারিতে শীতের প্রকোপটা থাকে বেশি।”
আগামী ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের সব নদ-নদী অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
