Loading...

শীত জমবে কবে, অপেক্ষায় দোকানিরা

| Updated: December 26, 2021 18:30:25


ফাইল ছবি ফাইল ছবি

শীতের আগমনী বার্তা বেশ ভালোভাবেই পৌঁছেছে উত্তরের জনপদে; তাপমাত্রা এর মধ্যে এক অংকের ঘরেও নেমেছে। কিন্তু পৌষের প্রথম সপ্তাহ পেরোলেও ইট-পাথরের ঢাকায় তেমন হিমভাব নেই। শীতবস্ত্রের বিক্রেতাদের তাই হাপিত্যেশ, কবে জমবে শীত, বাড়বে তাদের বিক্রি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা কিছুটা বাড়লেও গরম কাপড়ের বড় বিপণিবিতানগুলো সরগরম হয়ে উঠেনি। এর মধ্যেই যেসব শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে, তার দাম আগের বছরগুলোর চেয়ে কিছুটা বেশিই মনে হচ্ছে ক্রেতাদের কাছে।

গত কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ধরা পড়েছে তেঁতুলিয়ায়, ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন ঢাসর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলিসিয়াস।

গত দুদিন রাজধানী ঘুরে মার্কেটগুলোতে শীতবস্ত্রের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা এখনও তেমন নেই। ৩৫ বছর ধরে শীতের কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বায়তুল মোকাররম এলাকার শাহজাহান।

তিনি বলেন, “আগে তো কার্তিক মাস থেকে বিক্রি শুরু হত, গ্রাম থেকে বাচ্চা-বড় সবাই শীতের কাপড় চাইতো, তখন শহরে থাকা মানুষটি কাপড় কিনে গ্রামে তার বাচ্চা, মা-বাবার জন্য কিনে পাঠিয়ে দিতো। এখন আগের মত শীতও নেই, সেই কেনাবেচার উৎসবও যেন নেই।”

ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেচাকেনা কিছুটা জমে উঠেছে। হাঁকডাক করে ক্রেতাদের ভেড়ানোর চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। দরকষাকষি করে পছন্দের কাপড় কিনছেন অনেকেই। শীত না জমায় ভারি ও মোটা কাপড়ের বিক্রি কম। হালকা উষ্ণ কাপড়ের দিকে ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

পল্টন এলাকায় ফুটপাতে জ্যাকেট-সোয়েটার বিক্রি করেন কামরুল হাসান। তার ভাষ্য, রাতে কিছুটা শীত লাগলেও দিনে যেন শীত নেই। অনেকে শীতের কাপড় ছাড়াই ঘর থেকে বের হন, সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতে গিয়ে যখন কিছুটা শীত অনুভূত হয় তখন গরম কাপড় কিনতে আসছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ক্রেতা কম থাকায় যারা আসেন তাদের বেশির ভাগই দাম-দর করেন, কেউ কিনছেন, কেউ না কিনে চলে যান। বিক্রির পরিমাণ কম বলে আমরাও অল্প লাভেই বিক্রি করে দিচ্ছি।”

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে হরেক রকমের স্যুট ও কোট পাওয়া যায়। সারি সারি এসব স্যুট-কোট ঝুলিয়ে বিক্রির জন্য বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। এই বাজারে পাইকারি বিক্রি হলেও তার চেয়ে খুচরা বিক্রি হয়ে থাকে বেশি।

সৈকত হোসেন নামে এক বিক্রেতার বলেন, খুব বেশি শীত পড়লে তখন জ্যাকেট ও সোয়েটারের দোকানে ভিড় লাগে। এখন স্যুট-কোট বিক্রি হচ্ছে বেশি।

তার দোকানে মুজিব কোট ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা ও ফুট কোট একহাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে জানিয়ে এই শীতবস্ত্র বিক্রেতার বলেন, “আমরা দিনে অন্তত ৫০ পিস কোট বিক্রি করতে পারছি।”

সেখানে স্যুট কিনতে এসেছেন নারায়ণগঞ্জের একটি কলেজের শিক্ষার্থী আসাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কোথাও বেড়াতে গেলে একটা স্যুট লাগে।

“এবার শীত যেহেতু কম, এই সুট হলেই হয়ে যাবে। শীতকাল উপলক্ষে একটা কিনে নিলাম।”

শীত জমে না উঠেলেও পাতলা কম্বলের জন্য দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে বলে বিক্রেতারা জানান। বায়তুল মোকাররম মসজিদের পশ্চিম পাশের গেইটসংলগ্ন এলাকার কম্বল বিক্রি করেন ফয়েজ আহমেদ।

তিনি বলেন, শীত এলে খুচরা বিক্রি বেড়ে যায়। আর এবার মানুষ ডাবল পার্টের কম্বল কম কিনছে, সিঙ্গেল পার্টের কম্বল বেশি কিনছে।

ফয়েজ জানান, তাদের এখানে এক পার্টের কম্বল আড়াই হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর দুই পার্টের কম্বল বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায়।

পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও আশানুরূপ শীত না পড়ায় কিছুটা হতাশ এই এলাকার শীতবস্ত্রের খুচরা বিক্রেতা ফরিদ উদ্দিন। এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যবসা হবে না বলে তার ধারণা। তার ভাষ্য, এবার বিক্রি এখনও না জমলেও কাপড়ের দাম বেশি।

বড়দের কানঢাকা টুপি দাম ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছোটদেরটা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। ছোটদের মোজা চার জোড়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা ও ছোটদের জুতা ৬০ থেকে ২৫০ টাকায় তিনি বিক্রি করছেন বলে পরিদ জানান।

গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শীতবস্ত্র বিক্রেতা শরীফুল ইসলাম বলেন, বরাবরে মতোই তিনি দোকানে কম্বল ও কমফোর্টার উঠিয়েছেন। কিন্তু শীত পড়ছে না বলে বিক্রি হচ্ছে না।

“গত মাসেই মনে হয়েছিল শীত চলে এসেছে, কিন্তু গত এক মাস ধরে শীত কিছুটা বাড়লেও তীব্রতা বাড়েনি। শীতে চাহিদা থাকে বলে বেশ কিছু কম্বল ও কমফোর্টার আমরা সংগ্রহ করেছি। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসেও বিক্রি বাড়ছে না।”

Share if you like

Filter By Topic