মহামারীর ধাক্কা সামলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় আমদানির চাপে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঘাটতিতে পড়েছে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাব ভারসাম্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুন-জানুয়ারি) এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
আগের অর্থবছরে এই সময়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ছিল ১৫৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর পুরো ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৫৮ কোটি ডলার। তার আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ছিল ৫৪৪ কোটি ডলার।
দেশের ইতিহাসে লেনদেন ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অব পেমেন্টে এত বড় ঘাটতি আর কখনও হয়নি। এর আগে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের ৯৫৬ কোটি ডলারের ঘাটতিই ছিল সবচেয়ে বড়।
সাধারণভাবে কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৭৯৮ কোটি ডলার; আর আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ডলারের পণ্য। তাতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮৬৯ কোটি ডলার।
আগের অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছিল ১ হাজার ২৭ কোটি ডলার। চলতি বছরে রপ্তানির তুলনায় আমদানি খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি বেড়েছে।
২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিটেন্স এসেছে ১ হাজার ২৩৩ কোটি বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের এই সময়ের তুলনায় ২৯৯ কোটি ডলার কম।