লবণ আমদানিতে কড়াকড়ির উদ্যোগ


দৌলত আকতার মালা | Published: February 14, 2021 21:13:16 | Updated: February 16, 2021 09:04:57


লবণ আমদানিতে কড়াকড়ির উদ্যোগ

শিল্প মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) যে কোনো ধরনের লবণ আমদানির অনুমতি প্রদানের আগে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছে ।

শুল্ক বন্ড কমিশনারেটের অনুমতি দেওয়ার আগে মন্ত্রণালয় আমদানিকারকদের নাম এবং আমদানির পরিমাণসহ লবণ আমদানির বিষয়ে বিশদ তথ্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কতিপয় লবন আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে শিল্পখাতে ব্যবহার্য লবণের নামে ভোজ্য লবণ আমদানির অভিযোগের পরেই এ প্রস্তাব আসে।

জাতীয় লবণ নীতি-২০১৬ এবং আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ভোজ্য লবণ আমদানি নিষিদ্ধ।

সরকার শুধুমাত্র শিল্পখাতে ব্যবহারের জন্য কাঁচামাল হিসেবে শিল্প লবণ আমদানির অনুমতি দিয়ে থাকে।

শিল্প সচিব কেএম আলী আজম সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমতুল মুনিমের কাছে একটি চিঠিতে দেশীয় লবণ উৎপাদকদের টিকে থাকার জন্য এ অপব্যবহার বন্ধে সহযোগিতা চেয়েছেন।

আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লবন উৎপাদনকারীদের এ সংক্রান্ত অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার পরই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণ চাষী এবং ভোজ্য লবণ পরিশোধন ও আয়োডিইজেশন বা (আয়োডিনীকরণ) আয়োডিনযুক্তকরণ কলমালিকেরাও সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ এসেছে যে কিছু লবণ আমদানিকারক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), তাঁত বোর্ড এবং বন্ড কমিশনারকে ভুল তথ্য দেয়।

তারা শিল্পখাতে ব্যবহার্য লবণের আড়ালে ভোজ্য লবণ আমদানি করে।

শিল্প সচিব বলেন, এই আমদানিকারকরা আংশিক বা পুরোপুরি ভোজ্য লবণ আমদানি করে, যার কিছুটা শিল্পখাতে ব্যবহার করে এবং প্যাকেট পরিবর্তন করে বাকি অংশটুকু স্থানীয় বাজারে ভোজ্য লবণ হিসেবে বিক্রি করে।

তিনি আরও বলেন, এ অনিয়মের কারণে স্থানীয় লবণ চাষীরা লোকসানের মুখ দেখছে, এ বিষয়ে সরকারের উচ্চমহলও চিন্তিত।

তার মতে বন্ড কমিশনার যদি কোন ধরনের লবণ আমদানির পূর্বে মন্ত্রনালয়ের সুপারিশ ও মতামত আমলে নেয় তবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবে।

এর আগে, বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে যে, তারা অসৎ ব্যবসায়ীদের শিল্প লবণের আড়ালে ভোজ্য লবণ আমদানির সুযোগ দিয়ে থাকে।

এছাড়াও এ সমিতি স্থানীয় বাজারে লবণের চাহিদা ও উৎপাদন সম্পর্কিত সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানায়।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতি সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, দেশে লবণ উৎপাদন সম্পর্কে বিসিক বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করছে।

বিসিকের তথ্যমতে, ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়; তারা এ তথ্যেরও প্রতিবাদ জানায়।

শনিবার মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১৫ হাজার হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করেছে, যা লবণ চাষে ব্যবহার হতো।

তিনি দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, আমদানি নীতিমালার ২৮ ও ২৯ অধ্যায়ে ফাঁকফোঁকর রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে কিছু লোক ভোজ্য লবণ আমদানি করে।

যদিও নীতিমালায় ভোজ্য লবণ আমদানি নিষিদ্ধ, তবে জনাব কবিরের মতে, এখানে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে ভোজ্য লবণের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১০ লক্ষ টন, যেখানে শিল্প লবণের নামেই ৭ থেকে ৮ লক্ষ টন লবন আমদানি হয়ে থাকে।

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, এই তিনমাসে দেশে প্রায় ৫ লক্ষ টন লবণ আমদানি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা শিল্প লবণ আমদানির বিরুদ্ধে নই। সরকার চাইলেই শিল্প লবন ভিন্ন রঙ করে আমদানির অনুমতি দিতে পারে, যাতে তা আলাদা করে চেনা যায় ও এ অপব্যবহার বন্ধ হয়।

এদিকে শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রায় তিনশত লবণ মালিক এই অবৈধ লবণ আমদানির হুমকির শিকার হয়ে পড়েছেন।

Share if you like