সরকারি ঘোষণায় লকডাউন আছে আরও দুদিন, তবে ঢাকার রাস্তায় সেই বিধিনিষেধের প্রভাব খুব বেশি আর নেই।
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর এই লকডাউনের সপ্তদশ দিন রোববার রাজধানীর রাজপথে দেদারসে চলাচল করছে গাড়ি। মানুষও চলছে নিজের মত করে।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সড়কে আছে, টুকটাক গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের এক বার্তায় জানানো হচ্ছে- নিষেধ না মানায় এক দিনে কত গ্রেপ্তার হল, কত জরিমানা হল। কিন্তু বাস্তবে সেই কড়াকড়ি আর দেখা যাচ্ছে না।
প্রধান সড়কে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু তৎপরতা দেখা গেলেও অলিগলির চিত্র এখন স্বাভাবিক সময়ের মতই।
করোনাভাইরাস মহামারীর দেড় বছরে এখনই সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পার করছে বাংলাদেশে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১ জুলাই দেশে লকডাউন জারি করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কোরবানির ঈদের সময় নয় দিন তা শিথিল করা হয়েছিল।
ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই থেকে আবার লকডাউন শুরু হলেও এর মধ্যে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। চলমান এই লকডাউন আগামী ১০ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।
রোববার সকালে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গড়ি চাপ গত কয়েক দিনের মতই বেশি। পাড়া মহল্লার অধিকাংশ দোকানপাটও খোলা।
সকালে রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যেই আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকায় দেখা গেল মাছের দোকানে উপচে পড়া ভিড়।
অলিগলির সড়ক ধরে প্রচুর রিকশা আর ব্যক্তিগত গাড়ি প্রধান সড়কের দিকে যাচ্ছে। হেঁটে চলা মানুষেরও কমতি নেই। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ফুটপাতে কাপড়ও বিক্রি করতে দেখা গেল।
আজিমপুর চৌরাস্তায় এতদিন আটটি লেইনের মধ্যে চারটি লেন বন্ধ ছিল, কিন্তু এখন আর কোনো বাধা নেই। আটটি লেইন ধরেই গাড়ি যাতায়াত করছে।
চারটি লেইন খুলে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আজিমপুর ফাঁড়ির এসআই দেলোয়ার হোসেন বললেন, “চার লেইনে বাঁশ দিয়ে আড়াআড়ি করে বাঁধা ছিল, কিন্তু কে যেন রাতের বেলায় বাঁশগুলো নিয়ে গেছে।”
এসআই দেলোয়ারের দাবি, পুলিশের তৎপরতা কমেনি। লকডাউনে অযথা কেউ বের হলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখা গেল, নিত্যপণ্যের দোকানের পাশাপাশি পোশাক, লন্ড্রি, হার্ডওয়্যারসহ ধব ধরনের দোকানই খোলা। অনেক খাবারের দোকানে ভেতরে বসে খাওয়াদাওয়াও চলছে।
মালিবাগ, রামপুরা, মৌচাক, চৌধুরী পাড়ার অলি-গলি থেকে সকালে বহু মানুষকে সকাল বেলা কর্মস্থলে ছুটতে দেখা গেল।
রামপুরায় ফাতেমা বেগম নামের এক পোশাক শ্রমিক বললেন, “সময় মত কারখানায় না গেলে ঢুকতে পারব না। এজন্য ঘর থেইকা তাড়াতাড়ি বের হইছি।”
প্রাইভেট কার, পণ্যবাহী গাড়ি, রিকশা আর ভ্যানে প্রধান সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে যানজটও হচ্ছে। কাকরাইল, মালিবাগ, মৌচাক, রামপুরা, বাড্ডা, নতুন বাজার, গুলশান ঘুরে এরকম দৃশ্যই দেখা গেল।
নতুন বাজারের কাছে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা আবুল হোসেন বললেন, “এখনই যে অবস্থা দেখছি রাস্তায়। দুদিন পর গণপরিবহন নামলে কী যে হবে কে জানে।
“শুধু গাড়ি কেন, ফুটপাতগুলোতেও দেখেন মানুষের ভিড় অনেক বেশি। কাউকে এখন আর ঘরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।”
উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা জিন্নাত আলী পেশায় একজন পরিবহন শ্রমিক। রাস্তায় অনেক গাড়ি থাকলেও তাদের বাস চালানোর অনুমতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তিনি।
“আর কতদিন এভাবে বসে থাকব কন। লকডাউনে সব চলতেছে, শুধু আমাগো মানা। এডা কেমন আইন? আমার মতো হাজার হাজার শ্রমিক কাম ছাড়া বইসা রইছে। ঘরে খাওয়া যোগাড় করতে টাকা-পয়সা হাওলাদ করতে করতে ফতুর হইয়া গেছি।”
বাড্ডার কাছে সড়কের এক পাশে কয়েক ডজন মিনিবাস লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। রোববার সকালে সেসব গাড়ি ধোয়া-মোছা করতে দেখা গেল। জিন্নাত জানালেন, বুধবার ভোর থেকে বাস চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
