Loading...

লকডাউন শিথিল হলেও শপিংমলে ক্রেতাদের ‘ভিড় নেই’

| Updated: July 18, 2021 12:58:48


লকডাউন শিথিল হলেও শপিংমলে ক্রেতাদের ‘ভিড় নেই’

ঈদ সামনে রেখে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর শপিংমল খুলে দেওয়া হলেও বেশিরভাগ দোকানেই ক্রেতার আনাগোনা প্রত্যাশার চেয়ে কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলে ঘুরে পোশাক, জুতা এবং অন্যান্য দোকানের বেশিরভাগই ফাঁকা দেখা গেছে। বেশিরভাগ মার্কেটে দোকানের বিক্রয় কর্মীরা অলস সময় পার করছেন।

বিক্রেতারা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপ ভয়াবহ হয়ে ওঠায় এবারের ঈদে ক্রেতা অনেক কম দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের ‘সাবেরা ফ্যাশন’ এর বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, “সকালের দিকে কাস্টমার একবারেই ছিল না। বিকেলের দিকে কাস্টমার আসছে, দেখছে। কেউ কেউ কিনছে, আবার কেউ দেখে চলে যাচ্ছে।

“বেচা-বিক্রি একেবারেই কম। কোরবানির ঈদে নতুন পোশাক খুব একটা বিক্রি হয় না। মানুষ কোরবানি দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগী থাকেন। আর এবার যেহেতু মহামারীর মধ্যে ঈদ পড়েছে, তাই বিক্রি আরও কমে গেছে।”

এই শপিংমলে ‘ক্যাটস আই’ এর বিক্রয়কর্মী অনিক বলেন, “ক্রেতা আছে, বিক্রিও হচ্ছে। তবে ঈদের আগে যেমন বেচা-বিক্রি হয়, তেমনটা না।

“আমরা আগেই ধরে নিয়েছে এই ঈদে খুব একটা বিক্রি হবে না। তাই ঈদ উপলক্ষে তেমন নতুন কালেকশন নিয়ে আসিনি। রোজার ঈদে যে মাল ওঠানো হয়েছিল, তার বেশিরভাগই রয়ে গেছে।”

দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এই শপিং মলে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা উৎপল ভট্টাচার্য বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে মেয়েরা ঘর থেকে বের হয়নি। কিছু জামা অতি প্রয়োজন হয়ে গেছে, তাই জামা কিনতে এসেছি। দ্রুত কেনাকাটা করে চলে যাব।”

নগরীর অন্যতম বড় এই বিপণিকেন্দ্রে  প্রবেশের সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের জীবাণুনাশক টানেলের মধ্যে দিয়ে যেতে হলেও চলন্ত সিঁড়িতে বা দোকানে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানতে দেখা যায়নি খুব একটা।

এ বিষয়ে জানতে প্রশ্ন করলে পোশাকের দোকান ‘ইজি’র এক বিক্রয়কর্মী বললেন, “এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে দোকান বন্ধ। বেচা-বিক্রি নাই। এখন ক্রেতারা আসছে, আমরা বাধা দেব কেন?”

ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় ‘বাটা’ জুতার বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মী সুমন বললেন, “ঈদ মার্কেট যেমন হওয়া কথা তেমন নেই, তবে ভিড় কিছুটা বেড়েছে। ক্রেতারা দেখছেন, যেখানে পছন্দ হয় সেখান থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন।”

এই মার্কেটের কাপড়ের ব্যবসায়ী রায়হান মিয়া বলেন, “মহামারী আমাদের বড় ক্ষতি করে দিয়ে গেছে। রোজার ঈদে অনেক নতুন মাল তুলেছিলাম। কিন্তু বিক্রি খুব একটা হয়নি।

“কোনো রকমে আসল টাকা ওঠাতে পেরেছিলাম। আর কোরবানির ঈদে বিক্রি কম হবে এটাই স্বাভাবিক। তারপরও যেটুকু বিক্রি হওয়ার কথা তাও হচ্ছে না।”

মৌচাক মার্কেটের ঘড়ি ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, “রোজার ঈদে যে মাল তুলেছিলাম, তার অর্ধেকই বিক্রি করতে পারিনি। আর এবার নতুন মাল তোলার তো সুযোগই পাইনি।

“যখন নতুন মাল তোলার কথা, তখনই লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। রোজার ঈদে যে মাল তোলা ছিল, তা দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছি। মাঝে মধ্যে দুয়েকজন ক্রেতা আসছেন। এতে কোনো রকমে ঈদের খরচ উঠবে বলে মনে হচ্ছে।”

এই মার্কেটে আসা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিশা আক্তার বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে গত রোজার ঈদে মার্কেটে আসা হয়নি। আমরা বের না হলেও অন্যরা ঠিকই বের হচ্ছেন। করোনাভাইরাসের প্রকোপও কমছে না। তাই এবার সাহস করে মার্কেটে চলে এলাম। দুইটা থ্রিপিছ নিয়ে বাসায় ফিরে যাব।”

যমুনা ফিউচার পার্কে পোশাকের দোকান এক্সটেসির কর্মচারী সাজ্জাদ বলেন, “লকডাউনের আগে আমাদের ভালই ক্রেতা ছিল। এখন শপিংমল খুললেও ক্রেতা নেই। ঈদ সামনে রেখে শুক্রবার ক্রেতা বেশি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।”

ফ্যাশন চেইন ইনফিনিটির ম্যানেজার আবু হুরায়রা বলেন, “ক্রেতা খুব কম। নির্দিষ্ট করে বললে সকালে কাস্টমার একেবারেই ছিল না। বিকালে কিছুটা বেড়েছে।”

ইয়েলোর শোরুমে গিয়ে কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে ম্যানেজার বলেন, “বিক্রি অনেক খারাপ। লোকজন আসে, কেউ নিয়ে যায়, বেশিরভাগই দেখে চলে যায়। শুক্রবারে ঈদের আগে কেন, সাধারণ সময়েও এত কম বিক্রি হয় না।”

Share if you like

Filter By Topic