Loading...

রূপোলি পর্দায় সোনালি বন্ধুত্ব

| Updated: August 01, 2021 12:12:26


রূপোলি পর্দায় সোনালি বন্ধুত্ব

সিনেমার পর্দায় সাধারণত ‘বন্ধুত্ব’ জিনিসটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, অথচ অবহেলিত বিষয় হিসেবেই রাখা হয়। অধিকাংশ সিনেমায়ই দেখা যায়, প্রেম বলুন, প্রতিষ্ঠিত হওয়া বলুন, বন্ধুর সফলতায় বন্ধু ভূমিকা রাখছে ঠিকই, অথচ তাদের বন্ধুত্ব কিংবা বন্ধুত্বের মাত্রাটা ঠিক সেভাবে পর্দায় উঠে আসছে না। তবে এই ‘অধিকাংশ’ সিনেমার বাইরেও এমন কিছু সিনেমা আছে, যেগুলো সত্যিই বন্ধুত্বকে নতুন চোখে দেখায়, বন্ধুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবায়। আজকে তেমন কয়েকটি সিনেমা নিয়েই আমরা কথা বলবো।

দ্য শশাঙ্ক রেডেম্পশন

আইএমডিবির প্রথম স্থান অধিকার করে রাখা এই সিনেমাটিতে দেখানো অনেকগুলো জীবনমুখী উপাদানের মধ্যে বন্ধুত্ব একটি। সিনেমার প্রধান চরিত্র হচ্ছে ব্যাংকার অ্যান্ডি ডুফ্রেইন (টিম রবিন্স), খুনের মামলার আসামী হয়ে যার ঠাঁই হয় শশাঙ্ক নামক বিশাল এক কারাগারে। সেই কারাগারে প্রথম পা ফেলার অভিজ্ঞতাটিই অ্যান্ডির জন্য জেলখানার নির্বান্ধব জীবন সম্পর্কে ধারণা করে নেবার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু না, ধীরে ধীরে অ্যান্ডির বন্ধুত্ব হয় কারাগারেরই অন্য এক কয়েদী রেডের (মরগ্যান ফ্রিম্যান) সাথে। অ্যান্ডি মূলত কারাগারের বাইরে থেকে কিছু শখের জিনিসপত্র আনবার জন্যই রেডের শরণাপন্ন হয়েছিল। ধীরে ধীরে তাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হয় এবং কারাগারে নানান ঘটনা ঘটার সাথে সাথে সিনেমা এগিয়ে যেতে থাকে।

মূলত দুই বন্ধুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ভালোবাসা, বিশ্বাস ও একে অপরের কথা রাখার মত বিষয়গুলোই খুব হৃদয়স্পর্শীভাবে সিনেমাটিতে উঠে এসেছে।

ফরেস্ট গাম্প

১৯৯৪ সালের এই সিনেমাটিতে আমাদের জীবনবোধের মধ্যে বন্ধুত্বের জায়গাটি খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমার নামভূমিকা, অর্থাৎ ফরেস্ট গাম্প (টম হ্যাংকস) মূলত মানসিকভাবে অপরিপক্ব একজন ব্যক্তি। বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে তার জীবন অতিবাহিত করার কাহিনীটিই ফুটে উঠেছে সিনেমাটিতে।

যদিও ফরেস্টের মা, প্রেমিকা, সন্তান প্রত্যেকেই তার জীবনের কোনো না কোনো অধ্যায়ে বন্ধুত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, কিন্তু ফরেস্টের দু’জন বন্ধুর কথা বিশেষ করে বলতে হয়। এদের একজন হচ্ছে বাব্বা, যার সাথে ফরেস্টের প্রথম দেখা হয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে যাওয়ার সময়। সেনাবাহিনীতে থাকতে থাকতে বাব্বা একটা পর্যায়ে হয়ে ওঠে ফরেস্টের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। বাব্বা যুদ্ধে মারা যাওয়ার পর শুধুমাত্র তার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করার জন্যই ফরেস্ট নিজ উদ্যোগে চিংড়ির ব্যবসা শুরু করে।

এছাড়াও ফরেস্টের বন্ধু ছিলো জেনারেল ড্যান, যে কিনা একসময় ফরেস্টকে নানাভাবে গালিগালাজ করেছিলো। অথচ পঙ্গু অবস্থায় এই জেনারেল ড্যানকে অনেকগুলো দিন বাঁচিয়ে রাখার শক্তি জুগিয়েছিলো এই ফরেস্টের বন্ধুত্বই!

টয় স্টোরি

অ্যান্ডি নামের এক কিশোরের জীবন্ত পুতুলদের গোপন জীবনযাপনের গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে এই অ্যানিমেশন সিনেমাটি। টয় স্টোরির দুই প্রধান চরিত্র উডি (টম হ্যাংকস) আর বাজ (টিম অ্যালেন)-কে সিনেমার শুরুতেই পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সিনেমার এক পর্যায়ে এই চিরপ্রতিদ্বন্দী দুই পুতুল একই সাথে হারিয়ে যায়, পড়ে যায় দুষ্টু এক ছেলের খপ্পরে, যে কিনা পুতুলদের ওপর নানারকম অত্যাচার চালিয়ে মজা পায়। এই ছেলেটির হাত থেকে পালিয়ে আসার সূত্র ধরেই অবশেষে বন্ধুত্ব হয় উডি আর বাজের, একে অপরের সাহায্যে তারা মুক্তির চেষ্টা করতে থাকে।

অবশ্য শুধু টয় স্টোরি নয়, টয় স্টোরির বাকি কিস্তিগুলোও উডি, বাজ এবং অন্য পুতুলদের বন্ধুত্বের গল্প নিয়েই তৈরি করা হয়েছে।

থ্রি ইডিয়টস

থ্রি ইডিয়টস নিয়ে সম্ভবত নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রচন্ড জনপ্রিয় এই বলিউডি সিনেমার পুরো গল্পটাই আবর্তিত হয় র‍্যাঞ্চো, ফারহান আর রাজু নামের তিনটি সদ্য ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসা ছেলের বন্ধুত্বকে ঘিরে।

বন্ধুত্বের জন্য কী না করা যায়? বন্ধুর সাথে বিনা দাওয়াতে বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়া যায়, বন্ধুর বাবা অসুস্থ হলে তাকে তাড়াতাড়ি করে স্কুটারে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা যায়, বন্ধু আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে বোধশক্তিহীন হয়ে গেলে বিচিত্র-অবাস্তব-হাস্যকর মিথ্যে কথা বলে তার বোধ ফিরিয়ে আনা যায়, বন্ধুর স্বপ্ন পূরণের জন্য তারই মা-বাবার বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়াই করা যায়, বন্ধুকে খুঁজতে চষে ফেলা যায় গোটা একটা দেশের এমাথা থেকে ওমাথা! বন্ধুর জন্য বোধহয় এই সবই করা যায়।

আমির খান, আর মাধবন, শারমান জোশী তাদের সেরা অভিনয়টি দেখিয়ে দিয়েছেন এই সিনেমায়। সিনেমাটির কিছু জায়গা এতটাই বাস্তব-আবেগী যে, চোখের কোণ ভিজে যাওয়াটাও বিচিত্র নয়।

দীপু নাম্বার টু

মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা একই নামের বই থেকে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। সিনেমার প্রধান চরিত্র হচ্ছে দীপু। নতুন স্কুলে ভর্তি হবার পর বেশ কিছু ছেলের সাথেও তার বন্ধুত্ব হলেও তারিক নামের একটি মাস্তান গোছের ছেলের সাথে তার আদায়-কাঁচকলায় একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অবশ্য একটা পর্যায়ে গিয়ে এই তারিকই হয়ে ওঠে দীপুর সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তারিক-দীপুর বন্ধুত্ব ও তাদের অন্যান্য বন্ধুদের নিয়ে এক বিশাল দুষ্কৃতিকারীর দলকে পাকড়াও করার কাহিনীই সিনেমাটির প্রাণ।

প্রতি বছর আগস্ট মাসে প্রথম রোববারের মতোই আজ, ১লা আগস্টও বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বন্ধুর জন্য বিশেষ এই দিবসে বন্ধুকে নিয়ে চাইলেই দেখে ফেলতে পারেন উপরোল্লিখিত সিনেমাগুলোর যেকোনো একটি, আর তাজা করে নিতে পারেন বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোকে।

শুভদীপ বিশ্বাস বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগ, তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

shuvodipbiswasturja1999@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic