রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে এক দিনে আরও ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টার মধ্যে তারা মারা যান বলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান।
তিনি বলেন, তাদের মধ্যে নয়জনের পজেটিভ ছিল। অন্য ১৬ জন মারা যান উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তাদের মধ্যে রাজশাহীর ১২ জন, চাঁপাইনবাগঞ্জের পাঁচজন, নাটোরের পাঁচজন, নওগাঁর দুইজন ও চুয়াডাঙ্গার একজন রয়েছেন। তাদের ১৫ জন পুরুষ আর ১০ জন নারী।
তাদের মধ্যে ১১ জনের বয়স ৬১ বছরের ওপরে। অন্যদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে চারজন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের তিনজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের দুইজন রয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি মাসে হাসপাতালটির কোভিড ইউনিটে ৩৪০ জন মারা গেলেন বলে জানান পরিচালক।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন। তাদের মধ্যে রাজশাহীর ৩৬ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০, নওগাঁর ১১, নাটোরের সাত আর পাবনা, কুষ্টিয়া, সিরাগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরের রয়েছেন একজন করে। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ জন। মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কোভিড ইউনিটে ৪০৫ বেডের বিপরীতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪৫৯ জন। অতিরিক্ত রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসার দেওয়া হচ্ছে। কোভিড ইউনিটের রোগীদের মধ্যে রাজশাহীর ৩০৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫১ জন, নাটোরের ৩১ জন, নওগাঁর ৩৭ জন, পাবনার ২৪ জন আর অন্যরা কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর, মেহেরপুর ও ঢাকার। আইউসিইউতে আছেন ১৮ জন।
শামীম ইয়াজদানী বলেন, সোমবার রাজশাহী জেলায় শনাক্ত হয়েছে ৩৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা এর আগের দিন রোববার ছিল ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। শনিবার ছিল ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ, শুক্রবার ৩৪ দশমিক ৫০, বৃহস্পতিবার ২৯ দশমিক ৭৫, বুধবার ৩৩ দশমিক ৯৫, মঙ্গলবার ৩৩ দশমিক ৫ এবং সোমবার ছিল ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।
ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে শনাক্তের হার ৬০ শতাংশের ওপরে উঠলে গত ১১ জুন সিটি করপোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। এরপর দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে লকডাউন আগামী ৩০ জুন মধ্য রাত পর্যন্ত করা হয়।
