রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের কার্য্ক্রম শুরু করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।
বুধবার বেলা দেড়টায় শান্তিনগর, রাজারবাগ, বেইলি রোডের প্রধান সড়ক ঘুরে বর্জ্য বস্তায় ভরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়িতে উঠাতে দেখা যায়।
সুলায়মান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জোহরের নামাজের পর থেকে গাড়ি রাস্তায় নেমেছে। অলি-গলি থেকে ময়লা-আবর্জনা সরাতে রাত লেগে যাবে।
“কারণ এখনো কোরবানি পশু জবাই শেষ হয়নি।”
রাজারবাগের কাছে বিশাল একটি ট্রাকে বর্জ্য উঠাচ্ছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী সুফিয়া বেগম বলেন, “আমরা রাস্তার পাশে যত বর্জ্য-ময়লা আছে তা বস্তায় ভরে ট্রাকের কাছে এনে দিছি। ট্রাকের লগে যারা আছে তারা হেইগুলা উঠাইতেছে। আমরা ১২টা থেকে কাজ করছি।”
পল্টন, মালিবাগ, রাজারবাগের কয়েকটি গলিতে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির পশুর রক্ত রাস্তায় জমে আছে। শিং, টুকরো চামড়াসহ পশুর বিভিন্ন বর্জ্য এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
পল্টন লেনের বাসিন্দা শুক্কর আলী বলেন, “দেখেন, আমাদের অসচেতনতার জন্য রাস্তায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে। নিয়ম হচ্ছে, পশু জবাই করার সাথে সাথে আপনি পানি ঢেলে দিন, রক্তগুলো ড্রেনে চলে যাবে। কিন্তু সেটা না করলে যা হওয়ার তাই আপনি দেখছেন।”
ঈদের নামাজ সেরে পশু কোরবানি, প্রস্তুত দুই সিটি
রাজারবাগের কাছে ফুটপাতে গরু জবাই করে চলে গেছেন এপার্টমেন্টের বাসিন্দারা। সংলগ্ন ফুটপাতে রক্ত ও বিভিন্ন বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
তা দেখিয়ে সেখানকার বাসিন্দা শফিকুল আলম বলেন, “আমরা এতো আত্মকেন্দ্রীক যে নিজের এপার্টমেন্টের ভেতরে পশু কোরবানির কাজটি না করে রাস্তার ফুটপাতে করছি। ঠিক আছে করেছেন, ভালো কথা। কাজ শেষ করে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে যান। সেটা তারা করছেন না?
“তাহলে সিটি করপোরেশন বলেন, স্থানীয় সরকার বলেন, তাদের কী করার আছে? আমরা আগে ঠিক না হলে এই নগর সুন্দর হবে না। এই যে, কিছুক্ষণ আগেই বৃষ্টি হয়ে গেছে এক পশলা। সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমও রাস্তায় দেখা যাচ্ছে, কিন্তু আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে এসব কাজ-কর্মে সফলতার মুখ দেখবেন কীভাবে?”
‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা হবে’
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
বুধবার সকালে বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার নামাজ সেরে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
মেয়র তাপস নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বর্জ্য সংগ্রহকারীর বিশাল জনবল আজ থেকে কাজ করবে। আপনাদের কোরবানির বর্জ্য তাদের হাতে দেবেন, যাতে করে আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহর থেকে সব বর্জ্য অপসারণ করতে পারি।”
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ইতোমধ্যে বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা ‘বড় চ্যালেঞ্জ’। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নগরবাসীর সহায়তা প্রয়োজন। আমাদের টার্গেট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরিয়ে নেওয়া।
নগরবাসীকে বর্জ্য ফেলার জন্য ব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করবে সিটি করপোরেশন। এরপরও কোনো বাসার সামনে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে রাখা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
