Loading...

রহস্যপত্রিকার ৩৮ বছর: সামনে নতুন পথ

| Updated: November 28, 2021 17:22:56


রহস্যপত্রিকার প্রচ্ছদ (নভেম্বর, ১৯৮৪) রহস্যপত্রিকার প্রচ্ছদ (নভেম্বর, ১৯৮৪)

রহস্যপত্রিকা ৩৮ বছরে পা দিয়েছে এ বছর নভেম্বর মাসে।

এটা হলো দ্বিতীয় জন্মের হিসাবে। প্রথম মৃত্যু বা গভীর সুপ্তির আগে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭০-এর নভেম্বর মাসে। বের হওয়া মাত্রই মাতিয়ে তুলেছিল পাঠককুলকে।

পাঠককুল কেনো মেতে উঠেছিল? সে কথা বুঝতে হলে উঁকি দিতে হবে সে সময়কার বাংলাদেশের রহস্য-রোমাঞ্চের হতগৌরব জগতে। বাংলা ভাষায় আগে রোমাঞ্চ ডাইজেস্ট বা এ জাতীয় নামে একটা পত্রিকা রের হতো  ঢাকা হতে। তার না ছিল ছাপার শৈলী না ছিল সম্পাদনার গৌরব। আরেকটা পত্রিকা প্রকাশিত হতো নাম মনে নেই। তবে অলক মিত্র ( স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে এ ভদ্রলোক সম্পর্কে সব তথ্য, প্রবাসে বসে তা উদ্ধার করা কঠিন) নামে এক ভদ্রলোক তার সম্পাদক ছিলেন। হরদেও গ্লাস ফ্যাক্টরির কাছাকাছি ঠিকানা থেকে প্রকাশিত হতো। পত্রিকার লেখা তথ্য অনুযায়ী। সে ঠিকানায় যেয়ে গভীর ভাবে হতাশ হয়েছিলাম। দোকান বন্ধ। কেউ নেই! কখন আসবে? বা দোকান আদৌ খোলে কি? মফস্বল থেকে ঢাকায় বেড়াতে আসা কিশোর আমি ও আমার ছোট ভাইকে সে খবর দিতে পারেনি কেউ।

এমনি এক অবস্থায় প্রকাশ হলো রহস্যপত্রিকা। পাঠকদের প্রতি প্রতিজ্ঞাই ব্যক্তই করল না। বরং প্রমাণ দিল। সিনেমা থেকে রহস্য বা লোমহর্ষক কাহিনি কি সেই তাতে! নানা লেখা ও মতামতে সমৃদ্ধ পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে মাতিয়ে তুলল বাংলাদেশের পাঠককুলকে। কিন্তু সাড়া জাগানো রহস্যপত্রিকার মাত্রটা চার সংখ্যা বের হওয়ার পরই মুক্তিযুদ্ধের ডঙ্কা বেজে উঠল। আর পত্রিকাটির প্রকাশ গেল বন্ধ হয়ে । 

এটা মৃত্যু নাকি সুপ্তি, হিমনিদ্রা! সুদিনের অপেক্ষায় এভাবে সুপ্তিতে চলে যাওয়ার নমুনা দেখতে পাবো চারপাশে। গাছের বীজ থেকে অণুজীব পর্যন্ত নানা জীবনে ছড়িয়ে আছে সে উদাহরণ। 

আবার আসিল আশিতে

১৯৮৪ সালে আবার বের হওয়া শুরু হলো পত্রিকাটি। আর সে থেকেই নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। ভর্তুকির রণপাতে ভর করেনি। বিজ্ঞাপনের দয়া- দাক্ষিণ্যের তোয়াজ করেনি। হকারদের হঠকারিতা হটাতে তৈরি করতে হয়েছে বিপণন শিকল।  কেবলমাত্র পাঠকের ওপর ভরসা করেছে। আর এ ভাবেই পত্রিকাটি চলছে। প্রকাশিত লেখার সম্মানী দেওয়াতে গড়িমসি হয় না। সম্মানীর অর্থ নিতে অনর্থ ঘটে না। দরকার পরে না দেন-দরবারের। সত্যিই রহস্যময় আর বিস্ময়কর। আসলে ১৯৮৪ সালের নভেম্বর থেকে যাত্রাকেই ধরতে হয় মূল যাত্রা হিসেবে।

রহস্যপত্রিকা পুনরায় প্রকাশের আলো জ্বলে ওঠে আশির দশকে। এ নিয়ে কথা বলতে যেয়ে সাবেক সচিব, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাবেক ট্রাস্টি  সর্বোপরি সেবার দুর্দান্ত অনুবাদক এবং প্রচ্ছদ শিল্পী আসাদুজ্জামান জানান, রহস্যপত্রিকা পুনরায় বের করার সময় এসেছে এটা ১৯৮০ এর দশকে তার মনে হয়েছে। আশির দশককে সেবা প্রকাশনীর উদ্দাম যৌবন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। রকিব হাসানের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলেন। তাঁর ভাবনাকে সমর্থন করেন রকিব।  রহস্যপত্রিকা নিয়ে এমন ভাবনার পর তিনি এবং সেবার দুঁদে অনুবাদক রকিব হাসান সম্মিলিত ভাবে দেখা করেন কাজী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তাঁকে বোঝাবার চেষ্টা করেন যে পুনরায় রহস্যপত্রিকা বের করার সময় এসেছে। তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন কাজী আনোয়ার হোসেন।

রহস্যপত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী আনোয়ার হোসেন




-‘কিন্তু না, আনোয়ার ভাই রাজি হলেন না। ডিক্লারেশন বের করা নিয়ে সরকারি হাঙ্গামাসহ নানা যুক্তি তুলে আমার প্রস্তাবকে সরাসরি না করে দেন,’ জানান আসাদ। রহস্যপত্রিকার পুন প্রকাশ প্রসঙ্গে আর কোনো কথা বলেননি আসাদ বা রকিব।

বিষয়টা হয়ত কাজী সাহেবের মাথায় ছিল। কিছুদিন পর নিজেই জানান যে – ‘হ্যাঁ রহস্যপত্রিকা আবার প্রকাশ করা যেতে পারে।’ দ্বিতীয় জন্ম বা হিম নিদ্রা ভেঙ্গে জেগে ওঠার পর্বে শিল্প সম্পাদক হিসেবে রহস্যপত্রিকা পেল আসাদুজ্জামানকে। পত্রিকাটির সম্পাদনার দাঁড়ে রইলেন খোদ কাজী আনোয়ার হোসেন। সহকারী সম্পাদকের গুণ টানার দায়িত্বে রইলেন রকিব হাসান, নিয়াজ মোরশেদ এবং শেখ আবদুল হাকিম। অবশ্য আসাদ কিছুদিন পরে বিরতী দিলে সিরাজুল হক কিছুদিন শিল্প সম্পাদকের  দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে এখন পরযন্ত শিল্প সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন স্বনামখ্যাত প্রচ্ছদখ্যাত ধ্রুব এষ। আসাদুজ্জামা মাঝখানে আবার কিছুদিন সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নিয়াজ মোরশেদ তখন প্রবাসী ছিলেন।

রহস্যপত্রিকার আগের প্রতীকটি তৈরি করেছিলেন শিল্পী হাশেম খান। তারই ভিত্তি করে দৃষ্টি নন্দন আধুনিক নতুন প্রতীক বা লোগোটি সৃষ্টি করলেন আসাদ। দ্বিতীয় দফায় প্রকাশের সময় তৈরি করা সে লোগোই আজও রহস্যপত্রিকার শোভা বিস্তার করে চলেছে।

দ্বিতীয় দফায় পত্রিকাটা বের হওয়া মাত্রই পাঠকের সোহাগ বৃষ্টিতে সিক্ত হওয়ার গৌরব জুটল। রীতিমতো হৈ চৈ সৃষ্টি করল মাসিক পত্রিকাটি। দ্বিতীয় দফার প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ সৃষ্টি করেছিলেন আসাদুজ্জামান। তাতে ছিল বজ্রাহত গোলাপ। এখনও অনেক বোদ্ধা  পাঠক এবং শিল্প সমজদার সে প্রচ্ছদের কথা মনে করেন। সে সময় সেবার লেটার প্রেস থেকেই ছাপা হতো রহস্যপত্রিকা।

সম্পাদনার গুণে

রহস্যপত্রিকার অনেকটা সময় জুড়েই সহকারী সম্পাদক ছিলেন খ্যাতিমান অনুবাদক ও নামকরা সাংবাদিক নিয়াজ মোরশেদ। অল্প কথায় রহস্যপত্রিকার এ সম্পাদকীয় পর্বে নিজ অভিজ্ঞতা বয়ান করেন তিনি এভাবে:  “নতুন একটি বিষয়ে একেবারে কাঁচা লেখক হয়ত লেখা দিয়েছে। দেখা গেছে, সম্পাদনা করতে যেয়ে ওটাকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করতে হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা যেহেতু ওই লেখকই প্রথম নিয়ে এসেছেন তাই ওটা তার নামেই গেছে।” রহস্যপত্রিকার সম্পাদকের এই সততাই অনেক নতুন লেখকের জন্ম দিয়েছে। লেখক হওয়ার কথা ভাবেননি এমন অনেকেই এ ভাবে লেখার পথকেই পাথেয় করেছে। 




সেবা প্রকাশনীর দ্বিতীয় কিশোর ক্লাসিক মুসতাসীর মামুন অনূদিত বেনহুরের শেষ পাতায় রহস্যপত্রিকা  প্রকাশ হওয়ার বিজ্ঞাপন । এছাড়া বইটির তৃতীয় প্রচ্ছদে কিশোর ক্লাসিক সিরিজের তৃতীয় বই নিয়াজ মোরশেদ অনূদিত রবিনসন ক্রসোর বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশের আর কোনো মাধ্যমেই হয়ত আজো সম্পাদনার এই কঠিন নীতি মেনে চলা হয় না। সম্পাদনা মানে এখানে দাড়ি, ওখানে কমা, দুয়েকটি বানান বদল আর কিছু শব্দ এধার ওধার করার এক আয়াসের চক্রে আটকে আছে। আরাম হারাম করে, ঘাম ঝরিয়ে সম্পাদনা করার কাজে অনীহাই ঘিরে রেখেছে লেখালেখির গ্রহকে।

পাশাপাশি নিজের ভূমিকাকে বড় না করে নেহাত গৌণ করে তোলার বিনয়ে নিয়াজ বলেন, “পাতা ভরবার তাগিদ ছিল তাই হয়ত এ ভাবে সম্পাদনা করেছি।” এমন বিনয় সেবার অনেকেরই মধ্যেই সহজজাত স্বভাব হিসেবে দেখা যাবে।

পেশাদার লেখার জগতে সম্পাদকের গুরুত্ববহ ভূমিকার কথাও বলেন নিয়াজ। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে সে ভূমিকার এখনো বিকাশ ঘটেনি বলে  জানান তিনি।

নীলের কোলে সবুজ সে দ্বীপ

সেন্ট মার্টিন নিয়ে আজকের বাংলাদেশে রয়েছে ব্যাপক মাতামাতি। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। ১৯৮০-র দশকের মাঝামাঝি সময়ে (লে. জে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনমালে) ওই দ্বীপ ঘুরতে যাই মূলত মোহাম্মদ মামুনুর রশিদের উদ্যোগ এবং খরচে। ঢাকা- চট্টগ্রাম রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয়েছে কিছুদিন হলো। সেই ট্রেনে চেপেই প্রথমে চট্টগ্রাম। তারপর বাসে চেপে কক্সবাজার হয়ে সেন্ট মার্টিনে রোমাঞ্চকর যাত্রা। সে সময় দ্বীপটিতে হোটেল-মোটেল কিছুই ছিল না। আমরা রাত কাটিয়েছিলাম স্থায়ী থানার ব্যারাকে। ওই ভ্রমণের কাহিনি ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছিল রহস্যপত্রিকায়। ফিচারটির আমার দেওয়া শিরোনাম সরিয়ে উপরের শিরোনাম বসিয়ে দিয়েছিলেন বিভাগীয় সম্পাদক নিয়াজ মোরশেদ।

ছবি তোলার জন্য জন্য ধার করে নিয়ে গিয়েছিলাম সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি জেনিথ ক্যামেরা। কয়েকটা ছবি তোলার পর ফিল্ম যায় ছিঁড়ে। এটা জেনিথের একটা মারাত্মক ‘অসুখ।’ পরে জেনেছি। এ ‘অসুখ’ সম্পর্কে আগে জানা থাকলে, হক (ফার্মগেটের কাছে ছিল ক্যামেরা মেরামতের দোকান) ভাইয়ের কাছ থেকে ‘চিকিৎসা’ করিয়ে সারিয়ে নেওয়া নাকি সম্ভব হোতো! ছোট স্পুলের আরেকটা ক্যামেরা ছিল সাথে তাই দিয়ে ছবি তোলার দায় সারা হয়েছিল। 

দুঃখ এবং আশার কিছু কথা

ভূপালে ইউনিয়ন কারবাইডের কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে ফিচার ‘প্রতিনিয়ত ভূপাল’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে রহস্যপত্রিকায় লেখার শুরু করি। ভূপালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবেশ বিষয়ক লেখা ছিল। এই লেখা দেওয়ার আগে ফোনে কথা বলি কাজী (আনোয়ার হোসেন) ভাইয়ের সঙ্গে। পরে তাঁর সাথে দেখাও করি। এটাই প্রথম সাক্ষাৎ। রহস্যপত্রিকার সন্ধ্যার আড্ডাতে দেখা মেলে আসাদুজ্জামান, রকিব হাসান, নিয়াজ মোরশেদ, শেখ আবদুল হাকিম, ধ্রুব এষ, জিএইচ হাবিব, সহ আরো অনেকের সঙ্গে। রওশন জামিলের দেখা পেয়েছিলাম অনেক পরে। তবে ওসমান পরিবারকে নিয়ে লেখা তার ওয়েস্টার্নের ভাষার আজো কোনো তুলনা নেই।

 ‘অরণ্য’কি এখনো আছে? পোষা প্রাণী, মাছ বা অন্য কিছু নিয়ে যে বিপণনের সুযোগ  সৃষ্টি হয়েছে কাঁটাবন ঘিরে তার অগ্রদূতদের অন্যতম  শানু ভাই। তার দোকানটির নাম ছিল অরণ্য। সে সময়ে কাজী ভাই মেতে উঠেছিলেন অ্যাকুরিয়ামে। মূলত মাছ পোষা নিয়েই শানু ভাইয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা ছিল।  কাজী ভাইয়ের সাথে শানু ভাইয়েরে সখ্যতা ছিল। কাজী ভাইই অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন এ ফিচারের। শানু ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলো। বইও নিয়ে আসলাম। কিন্তু সে সাক্ষাৎকার শেষ অবধি করতে পারেনি। নিজের ঝামেলার কারণে। তারপরই ঢাকা ছাড়ি। অনেক পরে জানতে পারি চলে গেছেন শানু ভাই। তার চলে যাওয়াটা স্বাভাবিক ছিল না।

এখনো কাক দেখলেই শানু ভাইয়ের কথা মনে হয়। ঝামেলা-হুজ্জতের এক সাগর পাড়ি তিনি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাতিকাক রফতানি করেছিলেন জার্মানিতে । ইউরোপীয় বায়সকুল ‘শ্রীকাকেশ্বর’ কুচকুচে কালো নয়। তাদের শরীরে সাদার জেল্লা আছে। একই জেল্লা দেখা যায় ইরানের কাকেও। এ জন্যেই ইউরোপ বিশেষ করে জার্মানবাসীদের বাংলাদেশের কাকে আগ্রহ বিস্তর। জানিয়েছিলেন শানু ভাই। তাই, দেশটিতে কাক রফতানিও করেছিলেন সরকারি অনুমোদন নিয়ে। পরবর্তীতে পরিবেশ দফতরের কর্কশ কর্তাগিরিতে কাক রফতানি কার্যক্রম এগোয় নি।

পোল্যান্ডের এক চিকিৎসা বিজ্ঞানী এলেন ঢাকায়। তিনি নতুন এক যন্ত্র এবং পদ্ধতি বের করেছেন। দেহ-তাপের হেরফের ধরে তার যন্ত্রে অনেক প্রাণঘাতী রোগের উপস্থিতি নাকি আগে ভাগেই টের পাওয়া যায়। হোটেল পূর্বাণিতে তার সাক্ষাৎকার নিলাম। পরদিন এ যন্ত্রের আমদানিকারক সংস্থাটির প্রধানের সাক্ষাৎকার নিতে গেলাম শান্তিনগর। কিন্তু ভদ্রলোক সেদিন স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না, হয়ত। রহস্যপত্রিকায় এমন বিষয়ে কেনো লেখা হবে? প্রশ্ন করলেন শ্লেষপূর্ণ স্বরে। ভদ্রলোকের সঙ্গে তর্কাতর্কি হলো।

সংস্থা বা ভদ্রলোকের নাম প্রকাশ না করে বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎকারে এ ঘটনা ছোট করে তুলে ধরলাম। রহস্যপত্রিকা য় প্রকাশের পর কাজী ভাইকে ফোন করে বিখ্যাত চিত্র পরিচালক খান আতা ওই সংস্থা এবং ভদ্রলোকের নাম জানতে চাইলেন। ভালো একটা শিক্ষা দেওয়া হবে তাকে। কাজী ভাই ফোন করে আমার কাছে সংস্থার নামধাম ও ভদ্রলোকের পরিচয় জানতে চাইলেন। দিলাম না। জীবনের টানাপড়েনের নানা পর্যায়ে মানুষের মতির অধোগতি হতেই পারে! সে জন্য তাকে আর হেনস্তা করার দরকার নেই। জীবনের চেয়ে ভালো শিক্ষক হয় না। জীবন তাদের শিখিয়ে ছাড়ে। আমার এমনই মনে হয়েছে। এ জন্য কাজী ভাইয়ের অনুরোধ রাখিনি সেদিন। ভদ্রলোকেরও আর কখনোই দেখা পাইনি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, সে দিন তথ্য দিতে অস্বীকার করায় খুশি হয়েছেন কাজী ভাই। তিনিও হিংসায় বিশ্বাস করেন না। হাকিম ভাইয়ের ইন্তেকালের পর গভীর বেদনার কথা বলেছিলেন তিনি।

রহস্যপত্রিকার প্রচ্ছদ (জানুয়ারি, ১৯৯২)

৩৮ বছর পরে

রহস্যত্রিকা ৩৮ বসন্ত পার করে চিরবসন্তের ডিজিটাল রূপ পরিগ্রহণ করতে চলেছে। টেলিফোনে আলাপকালে এ কথা আমাকে জানালেন কাজী ভাইয়ের ছোট ছেলে কাজী মায়মূর হোসেনের সহধর্মিণী এবং রহস্যপত্রিকার উপদেষ্টা  মাসুমা মায়মুর। মায়মূর ও তাঁর বড় ভাই কাজী শাহনূর হোসেন এখন রহস্যপত্রিকার দুই সহকারী সম্পাদক। তাঁরাই সামলাচ্ছেন বিভিন্ন দিক। তাঁদের হাত ধরে ডিজিটাল রূপটি কি হবে তা দেখার অধীর আগ্রহে অনেকের মতো আছি আমিও ।

syed.musareza@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic