সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলেও ভুগতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায়।
পেট গরম তো মাথাও গরম। পেটের সমস্যা মানে দেহের সবকিছুতেই অস্বস্তি আর সব কাজেই বিরক্তি। পেটের নানান সমস্যার মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য অন্যতম।
তবে এই সমস্যার যেমন জানা কারণ রয়েছে। তেমনি রয়েছে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস। যা হয়ত অনেকেরই অজানা।
আর্দ্রতার ঘাটতি
‘দ্যা ক্লিন অ্যান্ড সিম্পল ডায়াবেটিস কুকবুক’য়ের লেখক জ্যাকি নিউজেন্ট বলেন, “দেহে পানির ঘাটতি হলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্রের এই পুষ্টিবিদ ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলেন, “খাবার হজমের মূল চাবি কাঠি হল পানি পান। এটা অন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত জলীয় উপাদান সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ফল, সবজি ইত্যাদি খাওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়।”
অ্যালকোহল-জাতীয় পানীয়
অ্যালকোহল ধরনের পানীয় কিছুটা মূত্র বর্ধক। ফলে দেহ পানির ঘাটতি দেখা দেয়।
নিউজেন্টের মতে, অ্যালকোহল গ্রহণের প্রয়োজন হলে প্রতিবার এর সঙ্গে পানি কিংবা ‘ফিজি বা সোডা ওয়াটার’ খাওয়া উচিত।
সারাদিন কম্পিটারের সামনে কাজ করা
শরীরচর্চা করলেও দিনের বেশিরভাগ সময় যদি বসে কাজ করা হয় তাহলে নড়াচড়া কম হয় যা অন্ত্রের কাজ ধীর করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই, নিউজেন্ট বলেন, “কম্পিউটারে কাজ করার সময় প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর ছোট বিরতি নেওয়া প্রয়োজন।”
পর্যাপ্ত শরীরিক পরিশ্রম না করা
দেহের পাচন ক্রিয়া বাড়াতে শারীরিক পরিশ্রম জরুরি।
কলোরাডো’র নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ রিচি-লি-হটজ বলেন, “ব্যায়াম করলে মল থেকে তরল কম শোষিত হয়। ফলে মল নিঃসরণ সহজ হয়। শরীরচর্চার সময় হৃদপিণ্ড ও শ্বাস প্রশ্বাসের হার বৃদ্ধি পায় যা অন্ত্রের সংকোচন বাড়ায় ও মল নিঃসরণ ক্রিয়া সহজ করে।”
ঘাম হয় এমন কাজ বেশি করা
নিউজেন্টের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে এমন কিছু শারীরিক ক্রিয়াকলাপ অধিক করার ফলে অথবা বেশি গরম পরিবেশে করার ফলে ঘাম বেশি ঝরে। যে কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।
এর মধ্যে যোগব্যায়াম বা উচ্চ তাপ বা আর্দ্রতায় হাঁটা অন্যতম।
নিউজেন্ট বলছেন, “ঘামের কারণে হওয়া ঘাটতি কমাতে চাইলে বেশি করে পানি পান করতে হবে।”
তাই তার প্রথম পরামর্শে ফিরে গিয়ে বলা যায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে নিজেকে সারাদিন আর্দ্র রাখা জরুরি।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ
হটজ বলেন, “সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, অন্ত্রের সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্ক রয়েছে। মানসিক চাপে থাকলে দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এটা সবার জন্যই প্রযোজ্য। তবে যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা দেয়।”
কম আঁশ গ্রহণ
কার্বোহাইড্রেইটের অপরিপাকযোগ্য অংশ হলো আঁশ। যারা বেশি ভাজাপোড়া খেয়ে থাকেন তাদের আঁশ গ্রহণের মাত্রা কম।
হটজ বলেন, “শস্য, সবজি, ফল ইত্যাদি আঁশের ভালো উৎস। আঁশের ঘাটতি দেখা দিলে খাবার হজমে সমস্যা হয় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। সঠিকভাবে আঁশ খাওয়া অন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ায় এবং পরিপাকক্রিয়াকে দ্রুত করে।”
দ্রুত অতিরিক্ত আঁশ খাওয়া
আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। তবে অতিরিক্ত আঁশ ধরনের খাবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সৃষ্টি করে।
হটজ ব্যাখ্যা করে বলেন, “অন্ত্র বেশি আঁশ হজমে অভ্যস্ত না হলে, তা বাড়তি আঁশ হজম করে মলে পরিবর্তন করতে পারে না। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।”
আঁশ গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে চাইলে কয়েকদিন পর পর পাঁচ গ্রাম আঁশ গ্রহণের পরামর্শ দেন, এই পুষ্টিবিদ।
দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চ আঁশ ধরনের খাবার খাওয়া হলে পর্যাপ্ত পানি পান ও শারীরিক পরিশ্রম করার প্রয়োজন। যদি এতে কাজ না হয় তাহলে আঁশ গ্রহণের পরিমাণ কিছুটা কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।
