তাকে তাকে সাজানো বই, হরেকরকমের বই। প্রতিমাসেই একটা বা একাধিক ঝকঝকে বই না কিনলে যেন চলেই না অনেকের।
কিন্তু নতুন নতুন বই যে ঘরে এসেই সোজা জায়গা খুঁজে নিচ্ছে শেলফে, এর সামাধান কী? বই কিনে আনাটা যত সহজ, পড়ে ফেলাটা ততটা সহজ কীভাবে করা যাবে?
উল্টে ফেলা কায়দা বর্জন
অনেকের মধ্যেই হঠাৎ করে কিছু একটা করার তাড়না জন্মে। এমন কায়দা জোশদায়ক বটে, তবে তা নিতান্তই সাময়িক৷
বই পড়ার ক্ষেত্রেও তা সমভাবে দায়ী। ধীরেসুস্থে খুবই সামান্য লক্ষ্যে বইয়ে চোখ রাখার অভ্যাস তৈরি করা যায়। সেটা হতে পারে রোজ বিশ পৃষ্ঠা কিংবা দুই পৃষ্ঠা করে পড়া। এতে করে অল্প অল্প করে বইয়ের প্রতি আকর্ষণ জাগে।
নিজের লক্ষ্য নিজের কাছে
বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যারা তাদের লক্ষ্য শুধুই নিজের কাছে রাখে, তারা যতটা সহজে গন্তব্যে পৌঁছুতে পারে, অন্যদের ক্ষেত্রে তা বিপরীত। বই পড়ার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টিকে কাজে লাগানো যেতে পারে। সবার কাছে আগেভাগে বলে না বেরিয়ে নিজের মতো করে পড়ার কাজটা সেরে নেয়াই ভালো।
পছন্দসই বই দিয়ে শুরু
পড়ার ব্যাপারে যেকোনো বিষয়ে বাড়তি আগ্রহ থাকতেই পারে; সেটা ভালো-মন্দ যেমনই হোক। অন্যের পছন্দমত পুস্তক হাতে না নিয়ে বা অন্যের দেখাদেখি কোনো বইয়ে চোখ না বুলিয়ে, নিজের পছন্দমত যেকোন একটা বই দিয়ে শুরু করতে পারেন। এতে পড়ার আগ্রহ বাড়ে৷
সবসময়ের সঙ্গী হোক বই
পড়ার জন্য অন্যতম সময় খুঁজে বের করা মুশকিল। কার কখন কী ভালো লাগে কী মন্দ লাগে তা ঠাহর করা শক্ত।
এক্ষেত্রে একটি বই সবসময়ের জন্য সাথে রাখা যায়। কর্মবিরতি কিংবা সময় নষ্ট হয় এমন যেকোনো জায়গায় মেলে ধরা যায় সে বইয়ের পাতা।
কিছু করতে করতে পড়াকে না বলা
টিভি খুলে বসে কিংবা ফেসবুকে ঢুঁ মারতে মারতে পাতার পর পাতা পড়ে যাওয়ায় আদতে লাভ বলে কিছু হয় না। বইয়ের সঙ্গে মানসিক সংযোগ ঘটাতে চাইলে অবশ্যই এসমস্ত ব্যাপারগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া দরকার৷
প্রযুক্তির সাহায্যে পড়া
প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার মানুষকে নানাবিধ সুযোগ করে দিচ্ছে। এখন চাইলেই পছন্দের অনেকগুলো বই আমরা মোবাইলে নিয়ে নিতে পারি এবং নিজেকেও হাজারটা অজুহাত থেকে মুক্তি দিতে পারি। যারা কিনা সবসময়ই দাবি করি, অর্থের জন্য বই কেনা হয় না কিংবা বই হাতে নিয়ে ঘোরায় অভ্যস্ত নই, তাদের জন্য পিডিএফের বই আশীর্বাদ।
পড়ার পর বলার অভ্যাস
পড়ার আগেই বলে ফেলাটা মন্দ অভ্যাস হলেও, কোনোকিছু পড়ার পর তা নিয়ে আলাপ করাটা বেশ কাজের। এতে আরও পড়া, আরও আনন্দ পাওয়ার তৃষ্ণা বাড়ে এবং বইটি সম্পর্কেও গভীরভাবে জানাশোনা হয়।
বই পড়া সংগঠন
আশেপাশে দৃষ্টি রাখলে এমন অসংখ্য সংগঠন পাওয়া যাবে, যারা কি-না মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করে। কেউ চাইলে এমন যেকোন একটি সংগঠনে যোগ দিতে পারেন৷
কারণ, অনেক অভ্যাসই পরিবেশ নির্ভর। যখন এজাতীয় সংগঠনে আমাদের যাওয়া আসা থাকবে, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই চারপাশে অনেক বই পড়ুয়া বন্ধুর সংখ্যা বাড়ে, এতে পড়ার আগ্রহও বাড়ে৷
লিখে রাখা ও জোরে পড়া
যেকোনো বই পড়ার সময় যে লাইনটি যদি ভেতরটাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় সে লাইনটি চট করে লিখে রাখতে পারেন ডায়েরির পাতায়। এবং জোরে জোরে পড়ার অভ্যাসও বেশি পাঠের আগ্রহ বাড়ায়। যদিও তা অনেকসময় অন্যকে বিরক্ত করার পর্যায়ে পড়ে, তবুও, যথাসম্ভব তা করতে পারলে বছর শেষে নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করা অসম্ভব নয়।
সঞ্জয় দত্ত বর্তমানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
sanjoydatta0001@gmail.com
