মোবাইল ফোনকে সার্বক্ষণিক সঙ্গী করে নেই এমন কাউকে আশেপাশে খুঁজে পাওয়া এখন বেশ দুষ্কর। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে জীবন অনেক দ্রুতগামী হয়ে গেছে। বাজারের স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো পাল্লা দিয়ে চেষ্টা করে আগের স্মার্টফোনগুলো থেকে নতুন কিছু আনতে, আসছে নতুন মাত্রা এবং ভিন্নতা। তাছাড়া যোগাযোগ, একসাথে বিভিন্ন কাজ করা বা মাল্টিটাস্কিং বিষয়টি স্মার্টফোনের কারণে সহজ হয়ে গেছে। স্মার্টফোন আসক্তি কাটানোটা তাই কঠিন হয়ে পড়ছে দিনকে দিন।
জনপ্রিয় ‘হাউ টু ব্রেকআপ উইথ ইওর ফোন’ বইটির লেখক ক্যাথেরিন প্রাইস তার লেখায় যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন তার একটি হলো ফোমো অ্যাংজাইটি। ফোমো অ্যাংজাইটি এর পূর্ণরূপ ‘ফিয়ার অফ মিসিং আউট’, এটির বাংলা করলে অর্থ দাড়াবে, কোনো কিছুর অংশ না হতে পারার ভয়। কোথায় পার্টি হয়ে গেল, কোন বন্ধু কেনাকাটা করলো, ইত্যাদি নানান খবরাখবরের ভীড়ে নিজেদের মনে হয় দূরের কেউ।
মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি কাটানো চ্যালেঞ্জিং। তবে কাজটা অসম্ভব নয়। একদিনে আসক্তি কমিয়ে ফেলা সম্ভব না। আবার মোবাইল ফোন একেবারেই ব্যবহার না করে থাকা যায় না। কিন্তু নিয়মিত চেষ্টা করলে আসক্তি কমানো সম্ভব।
সতর্কতা প্রথম শর্ত
মোবাইল ফোন প্রয়োজনীয় বটে। কিন্তু ল ফোন ঘন ঘন ব্যবহার করা আপনার শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্মার্টফোন থেকে বেরোনো ক্ষতিকর ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কে বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বায়োলোজি ও মেডিসিন জার্নালের মতে, শিশুরা এবং তরুণ প্রজন্ম এই তেজস্ক্রিয়তার অনেকটাই শোষণ করে ফেলতে পারে। এছাড়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস স্বাস্থ্যহানীর কারণ হয়ে উঠতে পারে, যেমন, কাজে আগ্রহ কমে যাওয়া, নিদ্রাহীনতা, দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ, এডিএইচডি ইত্যাদি।
বিকল্প বিনোদন
মোবাইল ফোনে লম্বা সময় গান শোনার অভ্যাস বদলে ফেলতে হবে। এরচেয়ে বাইরে যেয়ে অথবা খোলা জায়গায় হাঁটাহাঁটি বা হালকা শরীরচর্চা করা যায়, সাইকেল চালানো যায়।
ফোনে নেটফ্লিক্স/ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ কমিয়ে ফেলা যায়। এর জায়গায় ভ্রমণ বা কোনো শখকে ফিরিয়ে আনা যায় চর্চায়।
একটানা কাজের অভ্যাস গড়ে তোলা
কাজের ফাকে একটুখানি ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামে ঢুঁ না মেরে এসে কাজের ডেডলাইন নির্ধারিত করা যায়। এরপর কাজটি সম্পাদনা করতেও একই উপায় অবলম্বন করা যায়। এতে করে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করে উঠার অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে এবং সময় বাঁচানো যায়।
শপিং হোক অফলাইনে
নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনে আনা যায় নিজেই। কোথায় কমদামে ভালো শপিং করা সম্ভব সেই ধারণা গড়ে উঠতে পারে এভাবে অফলাইনে শপিং করে। হয়তো সময় কিছুটা বেশি লাগবে কিন্তু মোবাইল ফোনের প্রতি নির্ভরশীলতা অনেকাংশেই কমে যাবে এভাবে।
নতুন কিছু শেখা
নতুন কোনো কোর্সে ভর্তি হয়ে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা যায়। কোর্স হতে পারে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের উপযোগী, যেমন: আঁকাআঁকি, ইংরেজি চর্চা, অথবা হতে পারে পিয়ানো শেখার কোর্স। বাড়তি শেখার আগ্রহ থাকলে নিয়মিত চর্চা করা যায় আগ্রহের জায়গাটি নিয়ে।
শরীরচর্চা ও যোগব্যায়াম
সাইকেল চালানো বা সাঁতার শেখা হতে পারে সবদিক দিয়ে কার্যকরী কিছু শারীরিক অনুশীলন চাঙ্গা রাখবে মন ও শরীর উভয় দিক থেকে। মোবাইল ফোন বা যেকোনো তারবিহীন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার থেকে থেকে শারীরিক চর্চায় সময় দেওয়া যায়। নিয়মিত যোগচর্চায় মানসিক প্রশান্তির সাথে স্বনিয়ন্ত্রণ চর্চাও হয়ে যাবে।
সোফিয়া নুর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।
sofiautilitarian@gmail.com
