যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণতন্ত্র সম্মেলন 'সামিট ফর ডেমোক্র্যাসি'র অংশগ্রহণকারীদের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যে তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে গণতন্ত্র যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, যৌথভাবে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে কী ধরণের প্রতিশ্রুতি, সংস্কার পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন - তা নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে এই সম্মেলন।
গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে একটি দেশের সরকারের সাথে নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, মানবাধিকার ও বেসরকারি সংস্থা, মিডিয়ার প্রতিনিধি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হবে সম্মেলনে।
ডিসেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখ ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই সম্মেলনে মূলত যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, তা হলো: গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা ও কর্তৃত্ববাদ প্রতিহত করা, দুর্নীতি চিহ্নিত করা ও প্রতিহত করা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ইতিবাচক প্রচারণা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে হতে যাওয়া এই গণতন্ত্র সম্মেলনের প্রথম ধাপে বাংলাদেশ আমন্ত্রিত না হলেও এই বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তিত নয়। খবর বিবিসি বাংলার।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বিবিসিকে বলেন, "এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত নই আমরা। তাছাড়া এবারই প্রথম এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এর প্রথম ধাপে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সম্মেলনের পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ আমন্ত্রিত হতে পারে।"
এ বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মি. মোমেন।
তিনি বলেন, "এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আহ্বানে আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলনে মাত্র ৪০টির মত দেশ আমন্ত্রিত ছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। সেখানে তো অনেক দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।"
কীসের ভিত্তিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ডিসেম্বরে হতে যাওয়া 'সামিট ফর ডেমোক্র্যাসি' সম্মেলনে কেন কিছু দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলভেদে প্রতিষ্ঠিত ও অপেক্ষাকৃত তরুণ গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সম্মেলনের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে যেসব দেশ অকৃত্রিম আগ্রহ প্রকাশ করবে, সেসব দেশের সাথে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এবং এর বাইরের দেশগুলোর সরকারের সাথে মানবাধিকার বিষয়ক প্রচারণা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার কাজ অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র চালিয়ে যাবে বলে এই ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে, যেসব দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, কেন তাদের সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
