যুক্তরাজ্যে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ।
কোভিড বিধি ভঙ্গ করায় শনিবার কঠোর সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ম্যাট হ্যানককের পদত্যাগের পর তার স্থলে জাভিদের নাম ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
৫১ বছর বয়সী জাভিদ করোনাভাইরাসের সংকটকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন। ‘যত দ্রুত সম্ভব দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চান’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে জাভিদ বলেন, দেশের জনগণের সেবায় তিনি যথাসম্ভব সবকিছু করবেন।
বিবিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে অভিজ্ঞ মন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। এর আগে স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রণালয়সহ পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
১৬ মাস আগে নিজের সহযোগীদের বরখাস্ত করার জন্য জাভিদকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী জনসন। কিন্তু জাভিদ সেই নির্দেশ অমান্য করে চ্যান্সেলরের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন তিনি আবার ফিরলেন মন্ত্রিপরিষদে।
সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারীর এই সংকটকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদটি সরকারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই পদে সাজিদ জাভিদের নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী জনসনের সাবেক ঊধ্র্বতন সহযোগী ডমিনিক কামিংস এবং লেবার পার্টিও।
কামিংসের অভিযোগ, নতুন এই নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হস্তক্ষেপ রয়েছে, যিনি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য ‘ভয়ানক’ এবং ‘শিরোনামের পেছনে ছোটেন’। কামিংস আরও বলেন, গতবছর তিনি বরিস জনসনকে ‘কৌশলে’ রাজি করিয়েছিলেন জাভিদকে অপসারণের জন্য, যা না করলে অর্থমন্ত্রণালয় একজন ‘অপদার্থ’ মন্ত্রী পেত।
ওদিকে, লেবার পার্টির অভিযোগ, জাভিদ কৃচ্ছ্র ব্যবস্থার স্থপতি, যে কৃচ্ছ্রের কারণে দেশের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এর আগে মহামারীর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের লড়াইয়ে কেন্দ্রীয় স্থানে ছিলেন ম্যাট হ্যানকক (৪২) । করোনাভাইরাসজনিত কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য জনগণকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে এসেছেন তিনি।
করোনাভাইরাস বিধিনিষেধের মধ্যে নিজ দপ্তরে এক নারী সহকর্মীকে চুমু দেওয়া নিয়ে সমালোচনা এবং চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
গত মাসে তিনি তার দপ্তরে একজন জ্যেষ্ঠ সহযোগিকে চুমু খাচ্ছেন ও আলিঙ্গন করছেন, সান সংবাদপত্র এমন একটি ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার পর ক্ষমা চেয়েও পার পাননি হ্যানকক।
ব্রিটেনের সবগুলো প্রধান সংবাদপত্র হ্যানককের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার পদত্যাগ দাবি করে এবং হ্যানককের নিজ দলেও তার পদত্যাগের দাবি ওঠে।
