প্রতি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দৈনন্দিন জীবনের দারুণ সব মুহূর্তগুলোকে এখন খুব সহজেই মুঠোফোনের ক্যামেরায় বন্দী করে ছড়িয়ে দেয়া যায় বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী বা ওইসব মাধ্যমের অনুসারীদের মাঝে। কিন্তু মুঠোফোনে তোলা ছবি সামান্য ঘষামাজা করলেই কিন্তু দেয়া যায় সম্পূর্ণ নতুন এবং নান্দনিক রূপ। তবে এ কাজে মোবাইলে প্রয়োজন উপযুক্ত ফটো এডিটিং অ্যাপ্লিকেশন।
পিকসআর্ট ফটো স্টুডিও
পিকসআর্ট সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবহারকারীদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এর সহজ ব্যবহারোপযোগিতার কারণে। খুব সহজেই যে কেউ পিকসআর্ট ব্যবহার করে ছবির অবাঞ্ছিত অংশ বাদ দেয়া, একাধিক ছবি একত্র করা, ছবির ঔজ্জ্বল্য কমানো - বাড়ানো, ছবিতে আঁকিবুকি করা বা ছবির ওপর অজস্র ভিন্ন ভিন্ন ফন্টে লেখার মতো কাজগুলি করে ফেলতে পারেন। এছাড়া নিজস্ব শতাধিক ফিল্টারও রয়েছে এই অ্যাপে যা চোখের নিমেষেই ছবিতে যোগ করতে পারে নতুন মাত্রা। পিকসআর্টের মধ্যে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার কাজও হতে পারে সমানভাবে আকর্ষণীয়। গুগল প্লে স্টোর এবং আই টিউনস, উভয় জায়গাতেই এটি পাওয়া যায়।
ইউক্যাম পারফেক্ট
ইউক্যাম পারফেক্ট অ্যাপটি মূলত তৈরি হয়েছে সেলফি তোলার বিষয়টি মাথায় রেখেই। ছবি তোলার সময়েই ছবির মধ্যে পছন্দ অনুযায়ী এডিটিং সম্পন্ন করে ফেলা যায় এই অ্যাপে। পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী রঙ ও আবহ যোগ করার সুযোগ থাকায় ইউক্যামে তোলা ছবিতে নতুন করে এডিট করার প্রয়োজন দেখা যায় না। তবে প্রয়োজনসাপেক্ষে আগে তোলা ছবিতেও এডিট করার সুযোগও রয়েছে এই অ্যাপে। প্লে স্টোর ও আই টিউনসে থাকা ছবি তোলার জন্য এই অ্যাপে রয়েছে অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন ফিল্টার; আর প্রতিদিনই এখানে হচ্ছে নতুন সংযোজন।
ভিএসসিও
মোবাইল ফটোগ্রাফিকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই ভিএসসিও অ্যাপের আবির্ভাব।এটি অন্যান্য ফটো এডিটিং অ্যাপ থেকে সামান্য আলাদা। কারণ একটু ঘষামাজা করেই মোবাইলে তোলা ছবিকে গতানুগতিক ক্যামেরায় তোলা ছবির মতো রূপ দেয়া সম্ভব এই অ্যাপে। অ্যাপটি পেতে পারেন গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপলের আই টিউনসে। এটি সাধারণ মানুষের কাছে অতোটা পরিচিত না হলেও পেশাদার ও শৌখিন চিত্রগ্রাহকদের কাছে এর রয়েছে আলাদা কদর। শুরুতে সামান্য জটিল মনে হলেও একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে ভি এস সি ও অ্যাপটি সমঝদারকে মায়ায় টানতে বাধ্য।
স্ন্যাপসিড
যদি মোবাইলে ফটো এডিটিংকে আরো ফ্যাশনেবল করে তোলার আগ্রহ থাকে, সেক্ষেত্রে স্ন্যাপসিড হয়ে উঠতে পারে ভালো একটি মাধ্যম। যদিও টেক কোম্পানি গুগল এটির সত্ত্ব কিনে নেয়ার পর থেকে এটি খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মাঝে; তবে আইফোনের ব্যবহারকারীরাও আইটিউনস থেকে স্ন্যাপসিড অ্যাপটি ইন্সটল করতে পারবেন। স্ন্যাপসিডের সাহায্যে মোবাইল ফোনেই অনেক জটিল ধরণের এডিটিং করে ফেলা যায়। তবে যেহেতু এটি ব্যবহারে নতুন ব্যবহারকারী খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি এডিটিং এর সাথেই সংযুক্ত রয়েছে ভিডিও নির্দেশিকা।
ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রাম মূলত ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ সমাজের কাছে এটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তবে ছবি শেয়ার করার পাশাপাশি এই অ্যাপে ছবি ও ভিডিও এডিট করারও রয়েছে সুযোগ। হাজার হাজার ফিল্টারের সাহায্যে ভিন্ন ধাঁচে ছবি তোলা যেমন সম্ভব, তেমনি আগে তোলা ছবিকেও দেয়া সম্ভব নতুন চেহারা। ছবির ওপর অ্যানিমেটেড লেখা বা ছবি যোগ করতেও ইনস্টাগ্রামের জুড়ি নেই। অত্যন্ত সহজেই ছোটোখাটো ভিডিও এডিটিং এর সুবিধা থাকায় এটি অন্য সব অ্যাপ থেকে আলাদা। ইনস্টাগ্রাম অ্যাপটি ব্যবহার করতে চাইলে ইন্সটল করে ফেলা সম্ভব প্লে স্টোর বা আই টিউনস থেকে।
সিরাজুল আরিফিন বর্তমানে ইসলামইক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
sherajularifin@iut-dhaka.edu
