Loading...

মেয়ের জন্যে বানানো পিকাসোর আঁকার খাতা

| Updated: July 14, 2022 18:29:05


মেয়ে মায়ার সাথে পিকাসো, ছবি: আর্টনেট মেয়ে মায়ার সাথে পিকাসো, ছবি: আর্টনেট

ছেলেবেলায় নতুন নতুন জিনিস শেখাবার জন্যে বাবা মা কতো শতই কায়দা খুঁজে বের করে, যেন তার শিশু যেন অন্য পাঁচ জনের থেকে একটু এগিয়ে থাকে। এই প্রয়াসটা শুধু সাধারণ ঘরে নয়, বড় বড় রথী-মহারথীর ঘরেও বাদ যায় না। সেই বিশ্ব বিখ্যাত গুয়ের্নিকার আঁকিয়ে পাবলো পিকাসো পর্যন্ত চিন্তিত কি করে মেয়েকে শেখাবে আঁকঝোঁক। যেকোনো বাবাই চান মেয়ে ছাড়িয়ে যাক তার বাবাকে। তাই মেয়ের আঁকার হাত পোক্ত করতে একেবারে ছোট্ট থেকে শুরু করে দেন তালিম।


ছবি: ডেইলি সাবাহ 

পাবলো পিকাসোর ছিল ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা। আঁকার হাতেখড়িটা যদিওবা বাবার কাছে, কিন্তু সেই বেড়ে ওঠার বয়েস হতেই আঁকার জিনিসগুলি নিয়ে শুরু হয়ে যায় তার নিত্যে-নতুন আবিষ্কার। প্রচলিত ভাব ধারা হতে নতুন ছবি বানানোর আশ তার তখন থেকে। তারপরেই তো হেনরি মঁসিয়ের হাত ধরে আঁকার জগতে প্রতিষ্ঠা।


একদিন হয়ে গেলেন আঁকার কলেজের অধ্যাপক। কত্তো কত্তো ছেলে আঁকা শিখতে আসে রোজ! কিন্তু এবার মেয়ের আঁকার প্রতি আগ্রহ বাড়াবেন যে কি করে? মাথায় আসলো একটা চমৎকার উপায়। মেয়ের জন্যে একখানা স্কেচবুক করে ফেললেন কিউবিজম সম্রাট। শিশুমনে যা দাগ কাটে তাই দিয়ে সাজালেন আঁকার খাতাটা। পাতায় পাতায় সহজ-সরল আঁকের রেখায় ফুটে উঠলো সঙ, আক্রোব্যাট, পশু-পাখি, আর চেনা জানা ফলের ছবি। তাতে মেখে নিলেন সহজে চোখের পড়ার মতো লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, গোলাপি। ব্যস, হয়ে গেলো - সোনামণির কেমনে করে আঁকে বই।




বড় মেয়ে মায়া রুইজ পিকাসোর তখন পাঁচ থেকে সাত বছর। মেয়ে তো যার পর নাই খুশি সেই বই নিয়ে। নিজেই বিচারক হয়ে বসলো বাবাকে নম্বর দিতে। একটা সার্কাসের দৃশ্যের ড্রয়িং তার খুবই ভালো লাগলো। হমম্ , কত দেয়া যায়? বাবা আমার পুরো দশে দশ। সেই যে শেয়াল আঙ্গুর ফল খেতে গিয়েছিল - সেই ছবিটাও বাবা এঁকে দিয়েছে। তাতে বসালো মনের মতো রং। বাবা তার মাত্র একটি রেখায় একে ফেললো সুন্দর একটা ঈগল পাখি, একবারটির জন্যে খাতা হতে তার পেন্সিল ওঠেনি। বাবার আঁকাটা দেখে দেখে পরের পাতায় মেয়েও একটু আঁকার চেষ্টা করলো। বাবা এঁকেছে একটা বাটি, তার নিচে মায়া আঁকলো আরেক খানি বাটি।

কোথাও একটু ভুল হলে বাবা আবার সেটা হাতে ধরে ঠিক করে দিতো। বাবা পশুপাখিদের শুধু আঁকার খাতায় রাখেনি। অরিগ্যামি কাগজে মেয়ের জন্যে জীবন্ত করে দিয়েছেন তাদের।

মায়ের কাছে শোনা গল্পের স্মৃতিচারণ করে এমনটা বলছিলেন পিকাসোর নাতনি ডায়না উইডমায়ার, যিনি পেশায় একজন শিল্প ঐতিহাসিক ও সংরক্ষক এবং একইসাথে গহনার নকশাকার। এখন তার মায়ের বয়স ৮৬। সেই কবেকার খাতাটা স্টোর ঘরে কিছু কাজের জিনিস খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসলো। খাতাটা দেখেই তার মা মায়ার মনে পড়ে গেলো সব ছোট্টকালের কথা।

পিকাসোর মেয়েকে লেখা চিঠি, ছবি: ক্লোসাল আর্ট 

 

স্থানীয় একটা পত্রিকায় মায়া জানালেন, "তখন চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। রঙ আর আঁকার তখন বড় অভাব। বাবা তাই তখন আমার আঁকার পেন্সিলেই আঁকতেন। আমরা দুজনে রান্নাঘরের উষ্ণ আবহে আঁকিবুকি কাটতাম।"


পিকাসোর আঁকা নৌকা হাতে মায়া , ছবি: ক্লোসাল আর্ট






হঠাৎ পাওয়া আঁকার খাতাটা পিকাসোর নাতনির কাছে ভাগ্যে পাওয়া জিনিস। মেয়ের প্রতি ভালোবাসার এই অমূল্য স্মারক হিসেবে  সাধারণের দেখার জন্যে ডায়না প্যারিসের 'পিকাসো মিউজিয়ামে' প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছেন। যেখানে ছিল স্কেচবুক,কিছু স্থিরচিত্র, ব্যক্তিগত জিনিস আর অরিগ্যামিগুলি।


দাদুর আঁকাগুলি তার কাছে জাদুর মতো। তাই দাদুকে ভালোবেসে উইডমেয়ার 'পিকাসো সসার' নামে বই ছাপিয়েছে। বইটি ছিল পিকাসোর কিছু কুসংস্কার আর জাদুটোনার বিশ্বাস নিয়ে।

 

সুস্মিতা রায় বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজে ৪র্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

susmi9897@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic