আয়াম সেমানি, ইন্দোনেশিয়ার একটি বিরল জাতের মুরগী যার পালক থেকে শুরু করে মাংস এমনকি শরীরে ভেতরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও কালো রঙের।
ব্ল্যাক প্যানথার, দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার (চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বার্মা, নেপাল, ভারতের দক্ষিণাঞ্চল, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চল) কালো রঙের লেপার্ড বা জাগুয়ার।
সাইপ্রাসের ব্ল্যাক ফ্ল্যামিংগো।
আমাজনের বুক চীড়ে বয়ে চলা বেসিন নদীর কালো কুমির কিংবা স্পেকটেকেলড কেইম্যান।
ইউরোপীয় অঞ্চলের কালো রঙের ইউরোপীয়ান এডার সাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ইস্টার্ন গ্রে স্কুইরেল।
এই তালিকার প্রত্যেকটি প্রাণীই ‘মেলানিজম’ নামক একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। শরীরে অতিরিক্ত মেলানিনের (মেলানিন এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা মেলানোসাইট নামক কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। প্রকৃতিগতভাবেই প্রাণীদেহের ত্বক, চুল বা পালকে উপস্থিত থাকে) উপস্থিতির কারণে কালো বর্ণের প্রাধান্য তৈরি হয়। এর ফলে ত্বক, পালক বা চুল কালো রঙের হয়। জেনেটিক মিউটেশনের ফলে এমনটা হয় বলে বিজ্ঞানীরা মত পোষণ করে থাকেন।
মেলানিজমে আক্রান্ত প্রাণী কখনো আংশিক বা পুরোপুরিভাবে কালো রঙের হতে পারে।
বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের ক্ষেত্রে মেলানিজম ঘটতে দেখা যায়, যেমন - স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, কীটপতঙ্গ। তবে মেলানিজমের কথা আসলে সবেচেয়ে বেশি আলোচিত হয় যে দুটি প্রাণীর নাম তা হচ্ছে কালো চিতাবাঘ এবং জাগুয়ার। ব্ল্যাক প্যানথার বলতে মূলত এই দুটি প্রাণীকে বোঝায়।
দুটো প্রাণীর ক্ষেত্রে একই নামকরণ, বিষয়টি খানিকটা খটকা জাগায় মনে। মূলত, এশিয়া এবং আফ্রিকায় কালো চিতাবাঘকে ব্ল্যাক প্যানথার আর আমেরিকায় কালো জাগুয়ারকে ব্ল্যাক প্যানথার বলা হয়।
আচ্ছা, আমাদের চারপাশে থাকা বিভিন্ন গৃহপালীত প্রাণী যেমন ঘোড়া, বিড়াল, কুকুর, ছাগল বা গরু যেগুলো কালো রঙের হয়, এরাও কী তবে মেলানিজমের শিকার? না, গৃহপালীত এই প্রাণীগুলো মোটেও মেলানিজমের শিকার নয়। বরং প্রকৃতিগত কারণে সঠিক জিনের উপস্থিতিতে এবং স্বাভাবিকভাবেই এদের রং কালো হয়। তবে বন্য বেড়ালদের মধ্যে মোট ৩৬ টি প্রজাতির প্রায় ১১ টি প্রজাতির মধ্যে মেলানিজম হয়।
মেলানিজম বিরল রোগ হলেও তা মালয়েশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপকভাবে বিরাজমান। এইসব অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশ চিতাবাঘ মেলানিজমে আক্রান্ত।
এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাস বা জীবনধারণে কোনো পরিবর্তন আসে কিনা, এই প্রশ্নটি অনেকটা প্রাসঙ্গিকভাবেই এসে যায়।
নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব অটাগোর প্রাণীবিদ্যা অনুষদের একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, এই রোগের কারণে প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারণ বা আয়ুষ্কালের উপর কোনো প্রভাব পড়ে না। অন্যান্য প্রাণীর মত সবধরনের অভ্যাস বা বৈশিষ্ট্য একই হয়।
তবে বলা হয়ে থাকে, স্বাভাবিক চিতাবাঘ বা জাগুয়ারের চেয়ে ব্ল্যাক প্যানথার অধিক হিংস্র শিকারী প্রাণী এবং মেলানিস্টিক গ্রাস স্নেক স্বাভাবিক গ্রাস স্নেকের চেয়ে দৈর্ঘ্যে কিছুটা ছোট হয় ও স্বভাবেও বেশি হিংস্র হয়।
মেলানিজমে আক্রান্ত হওয়ার ফলে মেলানিস্টিক প্রাণীরা একটি বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। শিকার ধরার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মেলানিস্টিক প্রাণীরা খুব সহজেই নিজেদের আড়াল করতে পারে, যার ফলে নিজেদের খাবার সংগ্রহে যেনো একটু বাড়তি সুবিধাই পায় এরা।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
