Loading...

মেগা প্রকল্পগুলোর বিদেশি কর্মীরা এখনও টিকাদান কর্মসূচির বাইরে

| Updated: March 13, 2021 17:57:00


মেগা প্রকল্পগুলোর বিদেশি কর্মীরা এখনও টিকাদান কর্মসূচির বাইরে

মাঠ-পর্যায়ে কর্মরত হাজারো বিদেশি নাগরিক এখনও টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছেন বলে দেশের বৃহৎ প্রকল্পগুলোর কাজে ছেদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার প্রথম পর্যায়ের টিকার নিবন্ধনে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে কূটনীতিক ও কূটনৈতিক মিশনগুলোয় কর্মরতদের প্রাধান্য দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা, যেমন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেটিভ এজেন্সি (জাইকা), ডিএফআইডি ও ইউএসএইডে কর্মরতদের টিকা নিবন্ধনের সুযোগ দিতে যাচ্ছে। কিন্তু, বিভিন্ন সূত্রমতে, দেশের মেগা প্রকল্পগুলোর মাঠ-পর্যায়ে হাজার হাজার চীনা, জাপানি, ভারতীয় ও থাই নাগরিক কাজ করছেন।

ঢাকা ম্যাস ট্র্যানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) গত মঙ্গলবার আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছে যে, এমআরটি লাইন-৬এ কর্মরত ৬ বিদেশি নাগরিক সম্প্রতি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। ছয়টি ম্যাস-র‌্যাপিড ট্র্যানজিট লাইনের মধ্যে এমআরটি-৬-এরই এখন নির্মাণকাজ চলছে, যেখানে পদ্মা বহুমুখী সেতু বা কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের মতো বিচ্ছিন্ন থেকে কাজ করার সুযোগ নেই।

ঢাকা ম্যাস ট্র্যানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক জানান, সাম্প্রতিক এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি মিলে ৩৪৩ জন কোভিড-১৯-এ সংক্রামিত হয়েছেন। ভাইরাসের মহামারী শুরুর পরই কিছু ভারতীয় নাগরিক আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এমএএন সিদ্দিক জানান, কাজের অগ্রগতিতে ছেদ না পড়ার জন্য মেট্রোরেল প্রকল্পের স্টাফদের দ্রুত টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে ডিএমটিসিএল ইতোমধ্যেই সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে।

সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অগ্রাধিকারভিত্তিক পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্তারাও এটির কাজ চলমান রাখতে ছয়শ’র বেশি বিদেশি স্টাফকে টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ খুঁজছেন।

তিনি জানান, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প সংরক্ষিত হওয়ায় সেখানকার চীনা কর্মীদের টিকাদানের দরকার নেই।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর অনেক উচ্চপদস্থ চীনা কর্মকর্তা ইতোমধ্যে নিজেদের দেশ থেকে টিকা নিয়েছেন বলে জানান সেতু সচিব। সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) ও ম্যাস র‌্যাপিড ট্র্যানজিট লাইনের (ডিএমটিসিএল) অধীনে মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে চীনা ছাড়াও ভারতীয় ও থাই নাগরিকরা কাজ করছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পদ্মা সেতু রেল-সংযোগ প্রকল্প ও বঙ্গবন্ধু রেল সেতুতেও বিদেশি কর্মীরা রয়েছেন।

গত বছরের প্রথমদিকে বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর কয়েক মাসের জন্য দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষিত হলে বেশিরভাগ বিদেশি নাগরিক নিজ দেশে চলে গিয়েছিলেন। বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু বিদেশি নাগরিককে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু বেশকিছু প্রকল্পের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিশেষজ্ঞরা এখনও নিজ দেশে থেকে কাজ করছেন।

মাঠ-পর্যায়ের কর্মী ছাড়াও ডিএমটিসিএলে বেশ কিছুসংখ্যক বিদেশি কনসালটেন্ট রয়েছেন যাঁরা অন্যান্য এমআরটি প্রকল্পের গবেষণা ও পূর্ণ নকশা তৈরির কাজ করছেন।

Share if you like

Filter By Topic