বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকেটিং, চেক-ইনসহ ‘প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমের’ যাবতীয় সেবা এ বছরের মার্চ থেকে অনলাইনে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এ বিমান পরিবহন সংস্থার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমি আরেকটা ভালো খবর কিছুক্ষণ আগে আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। মন্ত্রী বক্তব্যে বলেছেন, সচিব বলেছেন সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। সেটা হচ্ছে, মার্চ মাস ২০২২ সাল থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমটাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করে দিচ্ছে।
“অনলাইন টিকেটিং, রিজার্ভেশন, বিমানবন্দরে পৌছানোর পূর্বে চেক-ইন সবকিছু অনলাইনে হবে।”
এটা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘খুবই আনন্দদায়ক’ হবে মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, “বিমানের টিকেট কিনতে গেলে সিট খালি থাকলেও বলে দেয় ‘সিট নাই’। অথবা নানা ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়।
“তা ছাড়া এখন সবাই ব্যস্ত থাকে, কাজ করে। কিন্তু অনলাইনে যখন টিকিট কেনা বা সিট বুকিং করা বা চেক-ইন সবকিছু যখন অনলাইনে…।”
আন্তর্জাতিকভাবে পৃথিবীর সব দেশেই এই ব্যবস্থা আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এক্ষেত্রে একটু পিছিয়ে ছিলাম। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি বিমান সেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছে এবং বিমান এই সেবাটা দেওয়ার ব্যবস্থাটা নিয়েছে। মার্চ মাস থেকে এটা চালু করা হবে।”
‘এক সময় বিমানের দুর্দশা’ ছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিমানকে আধুনিক ও উন্নত করার সমস্ত পদক্ষেপ নিয়েছে।
“বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে। আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং দক্ষ জনবল দ্বারা অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার রিপ্লেসমেন্ট এবং বোয়িং ৭৮৭ এর সি চেক কার্যক্রম এবার আমরাই করতে শুরু করেছি, অর্থাৎ বিমানই করছে।”
বিমান নিজেদের উদ্যোগে সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ কাজগুলো করতে পারায় অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ‘সাশ্রয় হয়েছে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই প্রযুক্তি শেখা এবং এটাকে নিয়ে আসা, এটাকে কার্যকর করার দিকে আমাদের আরও বেশি করে মনোযোগ দিতে হবে, যেন আমাদের আর অন্যের কাছে নির্ভরশীল হয়ে থাকতে না হয়।”
বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংও উন্নত করার ওপর জোর দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “এখন যথেষ্ট… এক সময় খুবই খারাপ অবস্থা ছিল। এখন অনেকটা দক্ষ ও কার্যকর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করার জন্য একটা আলাদা ইউনিট আমরা তৈরি করতে চাই। এটা আমি বিমানকে বলব যে, এটার জন্য কিছু প্রশিক্ষণও দরকার আছে, লোকবল দরকার আছে।”
বিমানের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে স্মারক ডাকটিকেট, উদ্বোধনী খাম এবং ডেটা কার্ড উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.মোকাম্মেল হোসেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলাকা ভবনে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
