Loading...

মানুষের চুল দিয়ে তৈরি যে পোশাক

| Updated: April 04, 2022 13:07:00


মানুষের চুল দিয়ে তৈরি যে পোশাক

চেহারার শ্রীবৃদ্ধির জন্য চুলকে বিভিন্ন নিত্যনতুন সাজে সাজানো হয়, কেউ কেউ চুলে রঙ চড়িয়ে মনের মেজাজের সাথে চুলের মেজাজ স্থির করেন। প্রিয়জনের চুল নিয়ে কাব্যরচনাও হয়, বিজ্ঞাপনের বাহারে চুলকে গুছিয়ে রাখার পাঁয়তারা হয় প্রতিদিনই। কিন্তু এই চুল নিয়েই মুশকিলটা হয়, যখন তা অসময়ের বর্ষার মতো ঝরে যায়। সেই ঝরে যাওয়া চুল যখন আর মাথার শোভা বৃদ্ধি করতে পারছে না, তখন দুঃখী মনে তাকে ফেলে দেয়াই শ্রেয়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, সবাই তা করেন না। কেউ কেউ সেগুলো জমিয়েও রাখেন। তবে ঠিক স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নয়, বিসর্জিত কেশমালা থেকে যদি পকেট একটু ভারি হয়, সে আশায়। ফেরিওয়ালারা এই বিশেষ ‘কাঁচামাল’-এর বিনিময়ে হাঁড়ি-পাতিল ইত্যাদিও দিয়ে থাকেন।

শহরে অতটা জনপ্রিয় না হলেও মফস্বল বা গ্রামের দিকটায় এই চুল জমিয়ে রাখা বিশেষত গৃহিণীদের উপরি আয়ের একটা মাধ্যম হয়ে ওঠে। শুধু ঝরা চুলই নয়, কাটা চুলও এ থেকে বাদ যায় না। বরং কাটা চুলের পরিমাণ ও ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক হওয়ায়, ওটাই বেশি কাজে লাগে। সেলুনের বাইরে থেকেও সংগ্রহ করা হয়।

কিন্তু ফেরিওয়ালা বা সংগ্রহকারী সেসব চুল নিয়ে কী করেন? এই চুলগুলো দিয়ে আসলে তৈরি করা হয় বিভিন্ন পণ্য, ঠিক যেমন ভেড়ার উল বা অন্য পশুর দেহাংশ দিয়ে করা হয়। তবে বিদেশের বাজারেই তা বেশি চলে। তাই সংগ্রহকৃত এসব চুলের বেশিরভাগই রপ্তানি হয়ে যায় অন্যান্য দেশে। মূলত উইগ বা পরচুলা এবং হেয়ার প্লান্টেশনের কাজে ব্যবহার করা হয় এই চুলগুলো। কিন্তু কেমন হতো, যদি মানুষের চুল দিয়ে তৈরি হতো মানুষেরই পোশাক?

মানুষের চুলের সাথে অন্যান্য প্রাণীর চুল বা লোমের প্রতি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গিটা একেবারেই আলাদা। এর কারণ স্বাজাত্যবোধ। মানুষের চুল দিয়ে তৈরি পোশাক মানুষ পরবে, এ ধারণাটা এখনো সাধারণের কাছে ‘অদ্ভুত’। অথচ হরহামেশাই মানুষ প্রাণিজ উলের পোশাক পরছে, ব্যবহার করছে বিভিন্ন পশুর চামড়া দিয়ে বানানো পণ্য। ঘোড়ার চুল দিয়ে তৈরি হতে পারে একজন বিচারকের পরচুলা। ওটা অস্বাভাবিক রূপে ধরা দেয় না। যদিও দুই ধরনের উপাদানই শেষমেশ কেরাটিনে গিয়ে থামে, তবু এর ধারণাগত রূপটা কখনো এক মনে হয় না।

ডিজাইন ইন্ডাবা ওয়েবসাইটের বরাতে জানা যায়, নিজের গ্রাজুয়েশন প্রজেক্ট হিসেবে ফরাসি শিক্ষার্থী অ্যালিক্স বিজেট এই দিকটিতেই আলোকপাত করেছেন। সোশ্যাল ডিজাইনের এই প্রজেক্টটিতে রয়েছে মানুষের চুল থেকে তৈরি করা পোশাক– তিনটি জ্যাকেট ও তিনটি হেডপিস।

তিনি মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিতে সমাজে এর প্রতীকী অর্থটা খুঁজতে চেয়েছেন। সানডে টাইমসের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এরও আগে জেনি ডাটন নামী এক নারী মানুষের চুল দিয়ে পোশাক ডিজাইন করেছিলেন। ট্যাবিথা মোজেস বানিয়েছেন একটি থলে। 

এই কাজগুলো ছিল সম্পূর্ণ নিরীক্ষামূলক। ভবিষ্যতে আদৌ এর ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটবে কি না, মানুষ আসলেই মানুষের চুল দিয়ে তৈরি পোশাক পরতে স্বচ্ছন্দ হবে কি না– কাঁচামাল হিসেবে মানবকেশের বাজার কতদূর পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে মানুষের ফ্যাশনজগতে অভিযোজনের উপর। স্বভাবগতভাবে মানবজাতি বিভিন্ন পরিস্থিতি এবং নতুন বিষয়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারদর্শী বলেই পরিচিত, তাই সম্ভাবনা একেবারে ফেলে দেয়া যাচ্ছে না। হয়তোবা নিজের চুল দিয়েই কারুকাজ করে কেউ একদিন গায়ে দেবেন একটা ‘কেশমিনা’ শাল। 

অনিন্দিতা চৌধুরী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন

anindetamonti3@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic