Loading...

মহাসড়কে কমেনি তিন চাকার বিপদ

| Updated: October 23, 2021 18:30:30


স্থানীয়ভাবে তৈরি গাড়িগুলো- ভটভটি, নসিমন, করিমন, আলমসাধু ইত্যাদি নামে পরিচিত - ছবিঃ সংগৃহীত স্থানীয়ভাবে তৈরি গাড়িগুলো- ভটভটি, নসিমন, করিমন, আলমসাধু ইত্যাদি নামে পরিচিত - ছবিঃ সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক আলী বলছেন, ভ্যানটি মহাসড়ক অতিক্রম করতে গিয়ে মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে যায়। দ্রুতগামী কোনো গাড়ি তখন সেটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ সেই গাড়িকে শনাক্ত করতে পারেনি।

বিগত বছরগুলোতে মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে তিনচাকার এই বাহনগুলো। সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরও মহাসড়কে এসব বাহন চলাচল বন্ধ হয়নি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

দূরপাল্লার বাসচালক, পরিবহন মালিক এবং গবেষকেরা বলছেন, চালকদের অদক্ষ, ধীর গতি, নির্মাণত্রুটি জনিত ভারসাম্যহীনতা, যথাযথ ব্রেক ও সিগন্যাল লাইটের অভাবে এসব যানবাহন মহাসড়কে চলতে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় সড়কে চলতে দিলেও সেগুলোকে অবশ্যই নিয়ম আর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। বাহনের নিবন্ধন এবং চালকদের প্রশিক্ষণ এবং লাইসেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩১০ জন ছিলেন বিভিন্ন ধরনের তিন চাকার বাহনের চালক ও যাত্রী।

দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০১৫ সালের অগাস্ট মাসে দেশের ২২টি মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজে সে সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক থেকে তিন চাকার বাহনের উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন। কিন্তু মহাসড়কে এসব বাহনের চলাচল থামেনি।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের সড়কগুলোতে মূলত স্থানীয়ভাবে তৈরি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত কিছু থ্রি হুইলার, চীন থেকে আমদানি করা ব্যাটারিচালিত এবং ভারত থেকে আমদানি করা ডিজেল ও সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার চলাচল করে।

স্থানীয়ভাবে তৈরি গাড়িগুলো- ভটভটি, নসিমন, করিমন, আলমসাধু ইত্যাদি নামে পরিচিত। এছাড়াও দেশীয় রিকশা বা ভ্যানে ব্যাটারিচালিত মোটর বসিয়ে চালানো হচ্ছে ব্যপকভাবে।

গত জুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আবারও মোটরচালিত রিকশা-ভ্যান নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জানান। কিন্তু এসব বাহন এখনও শহর এলাকা থেকে শুরু করে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন পথে চলাচলকারী হানিফ পরিবহন বাসের সুপারভাইজার পইমুল ইসলাম বলেন, “এই অটোগুলো হাইওয়েতে যেমন-তেমনভাবে চলে। হুট করে কানেকটিং রোড থেকে হাইওয়েতে উঠে পড়ে। ‍যখন তখন মোড় ঘোরায়। আবার যেখানে সেখানে উল্টো পথে চলে। উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের কয়েকটা জায়গায় তো ব্যাটারি রিকশার স্ট্যান্ডই বসানো হয়েছে।”

পঞ্চগড় থেকে সিলেটের পথে চলাচলকারী আহাদ পরিহন নামে একটি বাসের চালক বলেন, তাকে এক নাগাড়ে প্রায় সাতশ কিলোমিটার গাড়ি চালাতে হয়। রাত ১১টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত মহাসড়কে ভ্যান-অটোরিকশার ‘অত্যাচার’ কিছুটা কম থাকে। বাকি ১৮ ঘণ্টা এসব বাহনকে পাশ কাটিয়েই চলতে হয়।

Share if you like

Filter By Topic