২০২০ সালের প্রথম এগারো মাসে বাংলাদেশ থেকে মাস্ক রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় তা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের বহুমুখীনতায় নতুন যোগ হয়ে উঠেছে।
বাণিজ্য-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের বিশ্বসেরা উৎস ট্রেড ডাটা মনিটর (টিডিএম) জানাচ্ছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ৯ কোটি ৫৯ লাখ ইউএস ডলার মূল্যের মাস্ক রপ্তানি করেছে।
এই সময়ে মাস্কের বিশ্ববাজার প্রায় ৬,৫০০ কোটি ইউএস ডলারের, যেটির ৮০ শতাংশ দখলে রেখে চীন ছিল নেতৃস্থানীয়।
জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের ওই সময়ে বাংলাদেশ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৪ কোটি ইউএস ডলার মূল্যের সার্জিক্যাল ও কেএন৯৫ মাস্ক রপ্তানি করেছে।
টিডিএম-এর হিসাবে, বাংলাদেশের মোট মাস্ক চালানের ৪১ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই হয়েছে, আর জার্মানি হচ্ছে বাংলাদেশের এই পণ্যের দ্বিতীয় বৃহৎ আমদানিকারক। গত বছরের প্রথম এগারো মাসে বাংলাদেশের মাস্কের তৃতীয় বৃহৎ আমদানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর আমেরিকান দেশ কানাডা নিয়েছে ৭৭ লাখ ইউএস ডলার মূল্যের মাস্ক।
তবে কোনো কোনো দেশ পিস হিসেবে ও কিছু দেশ কেজি দরে মাস্ক ক্রয় করে বলে, টিডিএম বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত মাস্কের পরিমাণ-সংক্রান্ত কোনো উপাত্ত দিতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র পিস হিসেবে মা্স্ক আমদানি করে থাকে, যেখানে কানাডা আমদানি করে কেজি দরে।
বাংলাদেশ থেকে অন্য যেসব দেশ মাস্ক আমদানি করেছে সেগুলো হল, ফ্রান্স, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। টিডিএম বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের ফলে চীনও বাংলাদেশ থেকে মাস্ক আমদানি করেছে। চীন সম্ভবত আংশিক-প্রস্তুত মাস্ক আমদানি করে সেগুলোকে উন্নততর করে বাইরে রপ্তানি করে।
জেনেভা-ভিত্তিক টিডিএম-এর সিইও ডন ব্রেজার সম্প্রতি এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র খাত কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মাস্ক, গাউন ও অন্যান্য দরকারি জিনিসের বৈশ্বিক প্রয়োজন মেটানোর মতো অসাধারণ দক্ষ।
তিনি যোগ করেন, এতে মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য এসেছে।
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশের এই খাতটি বিশেষ করে গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে লকডাউনের সময় বড় হুমকির মুখে পড়ে। কিন্তু এ-ধরনের পণ্যের রপ্তানি আদেশ শুধু যে মহামারীকালে দেশের রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্যকরণে সাহায্য করেছে তা নয়, রপ্তানির সামগ্রিক বৃদ্ধিতেও অবদান রেখেছে বলে মনে করেন টিডিএম প্রধান।
বাংলাদেশি মাস্ক রপ্তানিকারক স্মার্ট গ্রুপ জানায়, বিভিন্ন ধরনের বস্ত্র তৈরির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে বাংলাদেশের।
স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম হওয়া সত্ত্বেও বস্ত্র তৈরি শিল্পের সঙ্গে এই পণ্যের সংযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশ প্রচুর পিপিই গাউন ও অন্যান্য কোভিড-সংক্রান্ত পোশাকও রপ্তানি করেছে।