কোভিড মহামারীর প্রায় পুরোটা সময় ঢাকায় বইয়ের সবচেয়ে বড় বাজার নীলক্ষেতে ব্যবসা ছিল মন্দা; সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় যখন ছিলেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা, তখনই হানা দিল আগুন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
“আমাদের মতো পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে চলা ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিল এই আগুন,” বলছিলেন নীলক্ষেতের বইয়ের দোকানি কামরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রাতে নীলক্ষেতের বইয়ের এই বিপণির একটি খাবারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বইয়ের দোকানে।
সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভালেও ততক্ষণে ৩০-৪০টি দোকান পুড়ে যায় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স)) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।
বইয়ের দোকানি কামরুল বলেন, নীলক্ষেতে ছোট ছোট কয়েকটি মার্কেটে সাড়ে চারশর মতো বইয়ের দোকান রয়েছে। এদিনের আগুনে ২৫টি দোকান প্রায় পুড়ে গেছে। আরও ১০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মহামারীর বিরতিতে প্রায় দুই বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল বলে বইয়ের ব্যবসা মন্দা। ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করায় বই ব্যবসায়ীরাও স্বপ্ন বুনছিলেন।
কামরুল বলেন, “গত দুই বছর ১০ ভাগের এক ভাগ বই বিক্রি হয়েছে। আমরা কোনোরকম টিকে ছিলাম। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু আজকে আগুন অনেক ক্ষতি করে দিল।”
‘মা বুক কর্ণারের’ মালিক নিজের দোকানের সামনে বলছিলেন, “অল্প পুঁজি তিনি ব্যবসা করি। গত দুই বছর প্রায় এক লাখ টাকা লোকসানের পড়তে হয়েছে, আর এখন পুরো পুঁজিই আগুনের পুড়ে আর পানিতে ..।
আগুনে শাহজালাল, ইসলামিয়া, বাবুপুরা ও সিটি করপোরেশনের মার্কেটের দোকানগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আগুন লাগার পরপরই আল আমিন নামে ওই মার্কেটের বইয়ের দোকানি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মার্কেটের পশ্চিম দক্ষিণ কোণে আগুনের সূত্রপাত হয়। আস্তে আস্তে তা ভেতরের দিকে যায়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় লাভলী হোটেলে রাত পৌনে ৮টার দিকে প্রথম আগুন ধরে। পরে মার্কেটের নিচ তলায় অন্য দোকানগুলোতে ছড়িয়ে যায়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর বলেন, “সেখানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। এই ওয়েল্ডিং থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
