বরগুনার তালতলী উপজেলায় মসজিদের ব্যাটারি চুরির পর সালিশে এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রী তালাক দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম জমাদ্দার বলেন, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ২০০৭ সালে বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ফোরকানকে বিয়ে করেন মাসুমা বেগম (৪৬)। এরপর থেকেই তারা তালতলীর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী আবাসনে বসবাস করছিলেন।
শফিকুল বলেন, বিয়ের পর থেকে কাজকর্ম তেমন না করায় ফোরকানের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝগড়া হতো। এরই মধ্যে শনিবার ভোরে নিশানবাড়িয়ার মধ্য পাওয়াপাড়া ও পাওয়াপাড়া দোকানঘাট জামে মসজিদ থেকে সৌর বিদ্যুতের দুটি ব্যাটারি চুরি করেন তিনি।
পরে সেগুলো বিক্রির জন্য বস্তায় করে বরগুনায় নেওয়ার পথে স্থানীয় একজনের সন্দেহ হয়। এ সময় ফোরকানকে আটকে রেখে তিনি ঘটনাটি মোবাইলে শফিকুলকে জানান।
ইউপি সদস্য আরও বলেন, স্থানীয় সালিশে জিজ্ঞাসাবাদে ফোরকান মসজিদ কমিটির কাছে চুরির কথা স্বীকার করে সেগুলো ফেরত দেন। কিন্তু ওই ঘটনায় ফোরকানের স্ত্রী তার সঙ্গে সংসার করবে না জানালে কাজী ডেকে তালাকের ব্যবস্থা করা হয়।
তবে এ ব্যাপারে ফোরকানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাসুমা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, স্বামী আল্লাহর ঘর মসজিদ থেকে ব্যাটারি চুরি করতে পারে, তার সঙ্গে আর যাই হোক, ঘর সংসার করা যায় না। এজন্য কাজী ডেকে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে তালাক দিয়েছি।
কাজী মুহিব্বুল্লাহ বলেন, মাসুমা বেগমের স্বামী ফোরকান মসজিদের ব্যাটারি চুরি করার অপরাধে তাকে শরিয়ত মোতাবেক তালাক দিয়েছে।
এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানান তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন তপু।