ঢাকার মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় ‘অবহেলার’ অভিযোগ এনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রমনা থানায় এসআই রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তিনি বলেন, “ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি সবাই অজ্ঞাত।”
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে মগবাজার ওয়্যারলেস গেইট এলাকা কেঁপে ওঠে। তাতে আউটার সার্কুলার রোডের ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের তিনতলা একটি ভবন ধসে পড়ার মতো দশা হয়।
বিস্ফোরণের ধাক্কায় রাস্তার উল্টো দিকে আড়ং, বিশাল সেন্টার, নজরুল শিক্ষালয়, রাশমনো হাসনপাতালসহ আশপাশের ডজনখানেক ভবনের কাচ ভেঙে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তায় থাকা তিনটি বাস ও যাত্রীরা।
ওই ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন চার শতাধিক। এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কয়েকজন।
তিনতলা ওই ভবনের দোতলায় সিঙ্গারের বিক্রয় কেন্দ্র ছিল। বিস্ফোরণে ওই বিক্রয় কেন্দ্রের দেয়াল ভেঙে পণ্যের কার্টন বেরিয়ে পড়তে দেখা যায়।
নিচতলায় খাবারের দোকান শরমা হাউজ ও বেঙ্গল মিটের বিক্রয় কেন্দ্র ছিল, যা মোটামুটি মিশে গেছে। লোহার গ্রিল, আসবাবপত্র, ভবনের বিভিন্ন অংশ ছিটকে যায় রাস্তায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ভবনটির কোনো অংশে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট শব্দে ভবনটির পেছনের অংশ ধসে পড়ে, সামনের অংশও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।
পরে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং পিবিআই কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস বলেছে, তিনতলা ওই ভবনে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে। সোমবার ধ্বংসস্তূপের বাতাস পরীক্ষা করে হাইড্রোকার্বন গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছেন বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে কেন, কীভাবে ওই বিস্ফোরণ ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু কেউ বলেননি।
বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস বিস্ফোরক অধিদপ্তর এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
