Loading...
The Financial Express

ভ্রমণের সিনেমা, সিনেমায় ভ্রমণ

| Updated: June 16, 2022 19:16:35


ভ্রমণের সিনেমা, সিনেমায় ভ্রমণ

ভ্রমণ কখনো শখ, কখনো নেশা, কখনো জীবন। আবার জীবনের মধ্যের জীবনকেও চোখে তুলে আনে ভ্রমণ। মন চায় বেরিয়ে পড়তে। একটু ক্লান্তির অবসানে, নগর জীবনের পীড়ন থেকে ছুটি নিতে নয়তো অবসরে মানুষ ভ্রমণ করে। কিন্ত সবসময় তা হয়ে ওঠে না।

তবে চিত্তবিনোদনের খোরাক সিনেমাতে একটু অবসর কাটানো তো তুলনামূলক সহজ। ভ্রমণের তৃষ্ণাকে সামান্য নিবারণের সাথে গল্পের খোরাক মেটাতে পারে কেবল ভ্রমণবিষয়ক চলচ্চিত্রই।

ওয়াইল্ড (২০১৪)

শেরিল স্ট্রেড, একজন সদ্য বিবাহ-বিচ্ছেদ হওয়া নারী, যিনি অবসাদ কাটানোর মাধ্যম হিসেবে ১,১০০ মাইল দীর্ঘ প্যাসিফিক ক্রেস্ট ট্রেইল বরাবর হাইকিং শুরু করেন। ট্রেকের উদ্দেশ্যে বের হবার সাথে সাথে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে শুরু করেন। বারবার তার পুরনো সমস্যাগুলোকে মনে করতে থাকেন, সেসব সমস্যা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগও পান এ ভ্রমণের মাধ্যমে। এভাবেই চলচ্চিত্রটির গল্প এগিয়েছে।

নানা চড়াই-উতরাই ও মানবীয় সম্পর্কের জটিলতা আর তা থেকে মুক্তির পথ বাতলে দেওয়া এক চলচ্চিত্র ওয়াইল্ড। অনভিজ্ঞ হাইকার শেরিলের চরিত্রে রিজ উইদারস্পুন অসাধারণ অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রটিতে। পরিচালক জ্যঁ-মার্ক ভ্যালি এতোটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থেকে সিনেমাটি বানিয়েছেন যে সবগুলো এডভেঞ্চার দৃশ্য ধারণ করেছেন একদম বাস্তব স্পটগুলোতেই।

ইনটু দ্য ওয়াইল্ড (২০০৭)

আমেরিকার ইস্ট কোস্টের সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে ক্রিস্টোফার জনসন ম্যাক্যান্ডেলস, গ্র্যাজুয়েশনের পর নিজের কাছে থাকা অর্থ সম্পদ সব কিছু দাতব্য সংস্থায় দান করে দেয়। নিজের গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। আইডেন্টিটি কার্ড, ক্রেডিট-ডেবিট সব ধরনের কার্ড পুড়িয়ে ফেলে, এমনকি নিজের সব জামাকাপড়ও ফেলে নতুন মানুষ হিসেবে জীবন শুরু করে। এরপর হাঁটা শুরু করে উত্তর আমেরিকার পথে পথে। সেই পথে পথে হাঁটতে হাঁটতে একদিন তিনি পৌছে যান আলাস্কা। শুরু হয় এক অন্যরকম জীবনযাপনের।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে একই নামে একটি বই থেকে চলচ্চিত্রটি নির্মিত, যেটি ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয়। ২০০৭ সালে নির্মাতা শন পেন এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। কেন্দ্রীয় চরিত্রে দূর্দান্ত অভিনয় করেছেন এমিল হার্শ। সারা পৃথিবীর চলচ্চিত্রপ্রেমীরাই চলচ্চিত্রটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।

অন দ্য রোড (২০১২)

১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে আর ৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে প্রকাশিত জ্যাক কেরুয়াকের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়। ধ্রুপদী সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ভ্রমণ গল্প রোড ট্রিপ বইটি প্রকাশিত হওয়ার প্রায় ছয় দশক পর নির্মাতা ওয়াল্টার সেলস এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।

চলচ্চিত্রটিতে দেখা যাবে স্যাম রাইলি নামের একজন লেখক যিনি ডেনভার, নর্থ ক্যারোলিনা, সান ফ্রান্সিসকো এবং মেক্সিকোতে গাড়ি এবং মাঝে মাঝে বাসে করে বেড়াতে বের হন। গ্যারেট হেডলুন্ড, ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট, এমি অ্যাডামস, টম স্টুরিজ এবং ক্রিস্টেন ডানস্টরের মতো হলিউডের বাঘা বাঘা অভিনেতাদের লাইন আপ নিয়ে এ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। বোহেমিয়ানদের জীবনযাত্রা, জীবনগল্প আর রাস্তার সৌন্দর্য্য এ চলচ্চিত্রে মূল উপজীব্য।

ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক (২০১৬)

এ চলচ্চিত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমের বনজঙ্গলের সৌন্দর্যে দর্শককে মশগুল করে রাখে। সবুজের মহাসমারোহ, পাখির কলতান এবং ঝোপের মধ্য দিয়ে দূর থেকে বয়ে আসা ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ দর্শককে ভুলিয়ে রাখতে পারে নগরজীবনের পীড়ন।

বোদেভান (জর্জ ম্যাককে)’এর নেতৃত্বে তার পরিবার আর শিশুদের নিয়ে একটি দল রোড ট্রিপে এ এডভেঞ্চারের পথযাত্রী হন। এরপর বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের সহমর্মিতার ব্যাপারটিও গভীরভাবে উঠে আসে এ সিনেমায়। কল্পলোকে গল্প বোনা মানুষদের বিনোদনের খাতায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে এ চলচ্চিত্রটি।

দ্য দার্জিলিং লিমিটেড (২০০৭)

বাবার মৃত্যুর পর তিন ভাই তাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধনকে পুনরায় আবিষ্কার করার প্রচেষ্টায় ভারত জুড়ে একটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। তাদের এ যাত্রায় যে অভিজ্ঞতা হয় তা তাদের আত্মসমীক্ষণে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরো চলচ্চিত্র জুড়ে ভারতের অনন্যসাধারণ সব ঘোরাঘুরির জায়গাগুলোকে তুলে ধরা হয়।

হাস্যরসের ব্যবহার আর তিন ভাইয়ের সম্পর্কের আবেগপূর্র রোমন্থন এ চলচিত্রকে দর্শকগ্রাহী করে তোলে। ইংরেজি ভাষায় নির্মিত ব্যবসাসফল এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন ওয়েস অ্যান্ডারসন।

বিফোর সানরাই(১৯৯৫)

ভিয়েনাগামী একটি ট্রেনে অপরিচিত দুজন হঠাৎ করে একে অপরের বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। একসময় ট্রেন থেকে নেমে যেতে হবে এবং এরপর আর তাদের দেখা হবে না জানা সত্ত্বেও তারা তাদের বোঝাবুঝিকে আরো শক্তপোক্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রেমের টানে ট্রেন থেকে মাঝ পথে নেমে যায় দুজনে এবং সিদ্ধান্ত নেয় সম্পূর্ণ একদিন তারা একে অপরের সাথে কাটাবে। বাকি অংশে কী ঘটে জানতে হলে দেখতে হবে পুরো চলচ্চিত্রটি।

পরিচালক রিচার্ড লিংকলেটার চলচ্চিত্রটিকে বিফোর ট্রিলোজির সবচেয়ে রোমান্টিক চলচ্চিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কর‍তে সক্ষম হয়েছেন। একই সাথে চলচ্চিত্রটি দর্শকপ্রিয়তাও পেয়েছে।

মোজাক্কির রিফাত বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

anmrifat14@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic