Loading...
The Financial Express

ভ্রমণ হোক স্বাস্থ্যবিধি মেনে

| Updated: October 29, 2021 13:13:40


ফাইল ছবি (সংগৃহীত) ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

যাত্রায় বেঁচে গেলে, ভীষণ করে বাঁচবো,

সবাইকে জড়িয়ে ধরে অনেক করে কাঁদবো

অঞ্জন দত্তের মত এভাবেই চাইলেও প্রায় দুই বছরব্যাপী চলা করোনার এ যাত্রায় বাঁচার উপায় জানেন কি? বা জানলেও তা আদৌ মানছেন কি?

হয়তো খামখেয়ালিতে, আবার প্রয়োজনের কাছে অসহায় হয়ে মরণঘাতী এ অতিমারীতে অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। আর বিশ্বব্যাপী করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে পেতে মরিয়া মানুষ। এরই হাত ধরছে বাড়ছে ভ্রমণ- প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে।

তবে এ সময়ে ভ্রমণটাও হোক পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে। মরণঘাতী এ ভাইরাস থেকে সুরক্ষা নিয়ে নিন নিজেরই হাতে।

ঘন ঘন হাত ধোয়া

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতে এসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো হাত ধোয়া। কেবল সাবান এবং পানি দিয়ে কোনোমতে ধুয়ে ফেলা নয়, যখনই সুযোগ পাওয়া যাবে কমপক্ষে বিশ থেকে ত্রিশ সেকেন্ডের জন্য ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। বিশেষ করে জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে এর বিকল্প নেই।

সব জায়গায় সাবান ও পানির ব্যবস্থা থাকে না, সবসময় সাথে একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে পারেন। হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করা পর্যন্ত মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি ধোয়া হাত দিয়েও মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলা ভালো।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা

করোনাভাইরাস রোগের লক্ষণ কিছুটা সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডার মতো। তাই যদি আশেপাশে কারো কাশি, হাঁচি বা ফ্লুর সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে সেই ব্যক্তির থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। 

পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন জায়গায় থাকুন:

ভ্রমণের সময় হোটেলে থাকতে হলে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, করোনা সতর্কতায় তৎপর- এমন হোটেল বেছে নেয়া উত্তম।

ভিড় এড়িয়ে চলুন

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় জনাকীর্ণ স্থান হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। করোনা থেকে বাঁচতে ভিড়, বিশেষত করোনা সংক্রমণের হার যে এলাকায় বেশি সেখানের ভিড় এড়িয়ে চলু্, সাথীদেরও এ বিষয়ে সাবধান করে দিতে হবে।

মাস্ক পরুন

কোভিড -১৯ এর লক্ষণগুলি নিজের মধ্যে থাকুক বা না থাকুক অবশ্যই  মাস্ক পরুন। অন্যের থেকে আসা ভাইরাস নাক মুখ দিয়ে প্রবেশ করা প্রতিহত করতে এবং নিজের মধ্যে ভাইরাস থাকলে তা ছড়িয়ে পড়া প্রতিহত করতে মাস্ক পড়া অত্যাবশকীয়।  সতর্কতাস্বরূপ একের অধিক মাস্ক নিয়ে বাসা থেকে বের হন। এবং মাস্ক ব্যবহার শেষে বদ্ধ ঢাকনাযুক্ত বিনে ফেলে দিন।

এছাড়াও,

সম্ভব হলে ঘুরতে যাওয়ার দিন তারিখ পিছিয়ে দিন, অপেক্ষা করুন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার। ঘুরতে যাওয়ার আগে এবং ফিরে এসে কোভিড পরীক্ষা করান, নিজে সংক্রমিত হলে বিশ্রাম ও আইসোলেশন মেনে চলুন।

নগদ টাকার নানা হাতবদলে ভাইরাসের সংস্পর্শ থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি, যতটা সম্ভব মোবাইল ব্যংকিং অ্যাপ বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে লেনদেন করুন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ফেরির মতো গণপরিবহনগুলো এড়িয়ে চলুন। তা সম্ভব না হলেও পরিবহনের হাতল বা সিট হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকুন। যাত্রাপথের জন্য পানি এবং শুকনা খাবার সঙ্গে রাখতে পারেন। এবং হাতের কাছে রাখুন স্থানীয় হাসপাতালের নম্বর, অ্যাম্বুল্যান্সের নম্বর।

এ সময়ে ভ্রমণে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি তা সম্পর্কে কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ড. ফাহিম আহমেদ। তিনি বলেন, "এসময়ে সতর্ক হতে হবে আসলে দুটি দিক থেকে। এক নিজের জন্য এবং অপরটি অন্যদের জন্য। নিজের জন্য নেওয়া সতর্কতার অংশ হিসেবে,

 ১. মাস্ক পড়ুন; ২. টিকা নিন; ৩. সম্ভব হলে গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন;  ৪. যদি গণপরিবহন ব্যবহার করতেই হয় তবে তা যথাসম্ভব কম স্পর্শ করা নিশ্চিত করুন; ৫. হোটেলের রুম ব্যবহার করতে হলে প্রথমে সেটির পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন।

আর অন্যদের জন্য নেয়া সতর্কতার অংশ হিসেবে,

১. করোনার উপসর্গ দেখা দিলে অন্তত র্যা পিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (RAT) পরীক্ষা করুন;

২. প্রয়োজনে মানুষকে পরীক্ষা করে টিকা নিতে সচেতন করুন।"

যদিও আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে করোনার প্রকোপ, কিন্তু এখনো বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। তাই সতর্ক থাকুন, সতর্ক রাখুন জীবনের দায়ে।

 

ফারিয়া ফাতিমা বর্তমানে পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে।

fariasneho@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic