Loading...

ভোজ্যতেলে ‘অনিয়ম’: ৪ গ্রুপের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় ভোক্তা অধিদপ্তর

| Updated: March 31, 2022 09:44:20


ভোজ্যতেলে ‘অনিয়ম’: ৪ গ্রুপের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় ভোক্তা অধিদপ্তর

ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও সরবরাহকারী চার কোম্পানি টিকে গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ও বসুন্ধরা গ্রুপের জবাবে সন্তষ্ট না হয়ে আগামী বুধবার আবারও শুনানিতে ডেকেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার এ চার কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

তেল আমদানি, পরিশোধন ও সরবরাহকারী এসব কোম্পানি ছাড়াও দামে ‘কারসাজিরসঙ্গে অন্যান্য পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ে মৌলভীবাজার ও খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কথা বলে স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে অন্তত ৩০ পর্যন্ত বেশি নেওয়া হয়। কোথাও কোথাও তেল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগও ওঠে।

এরপর সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট কমানো হয় এবং উৎপাদন ও পরিশোধন পর্যায়ে ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়।

এ সময়কালে বাজার অভিযানের পাশাপাশি ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর তেল সরবরাহ ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর কারখানা পরিদর্শন শুরু করে। পরিদর্শনে বেশ কিছু তথ্য ‘গরমিলও ‘অনিয়মপাওয়ার কথা জানানো হয় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।

এরপর এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে তেল কোম্পানিগুলোকে অধিদপ্তরে তলব করা হয়। একই সঙ্গে ভ্যাট তুলে নেওয়ার পর কী পরিমাণ তেল আমদানি করা হয়েছে সে তথ্যও জানতে চায় অধিদপ্তর।

এসব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বধুবার এ বৈঠক ডাকা হয়; যাতে তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে অধিদপ্তরের পরিচালক শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, “সম্প্রতি আমরা বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কোম্পানিগুলোর কারখানা পরিদর্শন করি। তাতে বেশ কিছু অনিয়ম ও অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। এ পরিদর্শনে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে বাজারে কম তেল সরবরাহ করছে।

 এছাড়াও আমরা বেশ কিছু অনিয়ম দেখেছি। আমরা কিছু গোপন তথ্যও পেয়েছি। তাই শুদ্ধতার জন্য এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শুনানিতে ডেকেছিলাম।

শুনানি শেষে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, “বৈঠকে যেসব তথ্য দিয়েছে তা আমাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এ জন্যই আমরা তাদেরকে অধিকতর শুনানির জন্য ডেকেছি।

 গত রোজার তিন মাস আগে প্রত্যেকটা মিল কতটা প্রোডাকশনে ছিল, এবারের রোজার তিন মাস আগে কতটুকু ছিল, এসব তথ্য আগামী বুধবারের বৈঠকে দিতে বলা হয়েছে। আমরা চাই তারা এসবের স্বচ্ছ তথ্য আমাদের দেবে।

এসময় শাহরিয়ার বলেন, “ভোজ্যতেলের মূল্য কারসাজি শুধু মিল মালিকরাই নয়, মৌলভীবাজার ও খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরাও করতে পারে। তাই এই দুই বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।

“আমরা দেখেছি মৌলভীবাজারে হঠাৎ করে একটা মূল্য নিয়ে কারসাজি করা হয়, আবার তারা মিলের দোহাই দিয়ে বলেন, মিল থেকে দিচ্ছে না। তাই এবার আমরা দুপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করব।

তিনি জানান, এ বৈঠকে আমরা বলেছি ডিলারেদের যে এসও (সাপ্লাই অর্ডার) দেওয়া হয় সেটা তিন মাসের বেশি হলে তা বাতিল করতে হবে।

ফাইল ছবিফাইল ছবিসম্প্রতি আমরা মিলে গিয়ে দেখেছি সেখান থেকে সরবরাহ স্বাভাবিকের পর্যায়ে আছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত মজুদও আছে।

রমজানে দাম বাড়ানোর চেষ্টা যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের থাকে সে সুযোগ এবার আমরা দেব না, যোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার থেকে সরকার নির্ধারিত প্রতিলিটার ১৬০ মূল্যের বোতলজাত তেল বাজারে আসছে জানিয়ে তিনি এর চেয়ে কেউ বেশি মূল্য চাইলে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হট লাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করেন তিনি।

অধিদপ্তরের পরিচালক শাহরিয়ার শুনানির বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানোর আগে শুনানিতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস মোহাম্মদ দবিরুল ইসলাম বৈঠক থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেনি।

বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। আমরা মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করি। এটা বাজারের চাহিদার খুব ছোট অংশ।

একইভাবে বৈঠক থেকে বের হওয়ার পথে টিকে গ্রপের পরিচালক মো. শফিউল আতহার তাসলিম বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী মিলগেটে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা ঠিক করা হয়েছে।

Share if you like

Filter By Topic