জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সহকারী কমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস ও রাউফ মাজৌ বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সহকারী কমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস ও রাউফ মাজৌ বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মোট ১২০টি ক্লাস্টার এবং ১২০টি শেলটার স্টেশন নিয়ে গড়ে উঠেছে ভাসান চরের এ আশ্রয়ন প্রকল্প।
মোট ১২০টি ক্লাস্টার এবং ১২০টি শেলটার স্টেশন নিয়ে গড়ে উঠেছে ভাসান চরের এ আশ্রয়ন প্রকল্প।
বাংলাদেশ সফরে থাকা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সহকারী কমিশনার (অপারেশন) রাউফ মাজৌ বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমরা সরকারের সঙ্গে আছি এবং সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব। বর্তমানে আমরা কক্সবাজারে কাজ করছি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শরণার্থীদের কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখব।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ইউএনএইচসিআরের এই কর্মকর্তা। ভাসানচরে ইউএনএইচসিআর সম্পৃক্ত হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্নে সংস্থার অবস্থান তিনি ব্যাখ্যা করেন।
কবে থেকে ইউএনএইচসিআর ভাসনচরে সম্পৃক্ত হতে পারে- এমন প্রশ্নে মাজৌ বলেন, এখন আলোচনা চলছে, ভাসানচরে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার লোক আছে, যারা বাংলাদেশে থাকা শরণার্থী। তাদেরকে সহযোগিতা ও সহায়তা দেওয়া দরকার। তবে আমি কোনো সময়সীমা বলতে পারছি না।
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার বিরান দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১০ হাজার একর আয়তনের ওই দ্বীপে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় মোট ১২ হাজার ২৮৪ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরও করেছে সরকার।
এই স্থানান্তরের বিরোধিতা করে আসছে জাতিসংঘসহ রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। প্রথম দফা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার পর জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতিও এসেছিল।
ভাসানচরে এ পর্যন্ত স্থানান্তরিত রোহিঙ্গারা এখনও সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ঘোষিত এ বছরের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানেও ভাসানচরবাসীদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সহকারী কমিশনার (সুরক্ষা) গিলিয়ান ট্রিগসকে সঙ্গে নিয়ে রোববার বাংলাদেশ সফরে আসেন মাজৌ।
সোমবার ভাসানচর এবং পরদিন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন তারা। ভাসানচরে তাদের উপস্থিতিতেই বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শরণার্থীরা।