বছরজুড়েই নানা আলোচিত সমালোচিত ঘটনার দরুন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ছিলো সরগরম।
নাসির-তামিমার বিয়ে থেকে হালের ভুবন বাদ্যকারের ‘বাদাম বাদাম’ গান – এমন বেশকিছু ট্রেন্ড এ বছর মাতিয়ে রেখেছিল অন্তর্জালের দুনিয়াকে। বছরের শেষ প্রান্তে এসে একবার ঘুরে আসা যাক এবছর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এমন কিছু মজার ঘটনা থেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচরণ থাকলে এবছর একবার হলেও শোনা গেছে ‘হ্যাভ আ রিল্যাক্স’ আর ‘সি ইউ নট ফর মাইন্ড’ এই বাক্য দুটি।
ব্যাকরণিক দিক থেকে দুটো বাক্যই ভুল হলেও এ দুটি বাক্যের জন্য বছরের শুরুর দিকে রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়া তারকায় পরিণত হয়েছিলেন গাইবান্ধার বামনডাঙা গ্রামের রেলকর্মচারী শ্যামল।
স্বল্পশিক্ষিত শ্যামলের একটি নিউজ চ্যানেলে দেওয়া ইন্টারভিউ লাখো মানুষের বিনোদনের খোরাক যুগিয়েছে। ব্যাকরণের মারপ্যাচে না গিয়ে হ্যাভ আ রিল্যাক্স বাক্যটি হয়তো জীবনকে সহজভাবে নেওয়ার বিষয়টিই জানান দেয়। একারণেই এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্যামলের বলা এই বাক্যগুলো তুমুল জনপ্রিয়।
উক্তির কথা টানলে, এ বছর ভাইরাল হওয়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এক উক্তির কথা না বললেই নয়।
টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে বিআরটিএর উপপরিচালক মাসুদ আলমকে বলা তার “ভালো হয়ে যাও, মাসুদ” কথাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোড ল্যাংগুয়েজে পরিণত হয়েছিল।
তরুণদের নিউজফিডে গেলেই দেখা মিলতো “মাসুদ, তুমি কি কোনোদিনও ভালো হবা না?”-এর মতো স্ট্যাটাস। অনেকে তো এই উক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ অনুসন্ধানে রীতিমতো গবেষণা চালিয়েছেন, কেউবা আবার ছুঁড়ে দিয়েছিলেন দার্শনিক প্রশ্ন - “মাসুদরা কি কখনো ভালো হয়?”
এবছরের প্রায় পুরো সময় জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত ছিলেন বাংলা সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমণি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলায় কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় তার হাতে মেহেদি দিয়ে লেখা ছিলো “Don't love me,” যার বাংলা ভাবার্থ দাঁড়ায়, তোমার ভালবাসার পরোয়া করি না। এই মেহেদি চিত্র রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশনে পরিণত হয়।
এবছরের এপ্রিলে কঠোর লকডাউনের সময়ে এলিফ্যান্ট রোডে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ায় এক ডাক্তারের সাথে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটের বাকবিতন্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে তা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে জাকারবার্গের ফেসবুকের নীল দুনিয়ায়।
কে সঠিক? ডাক্তার না কর্তব্যরত পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট? এই নিয়ে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ফেসবুকবাসী, বেশ কয়েকদিন ধরে চলে তুমুল আলোচনা আর চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভাইরাল হওয়া থেকে বাদ যাননি এদেশের ক্রিকেটাররাও। বছরের শেষদিকে ক্রমাগত খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য অনলাইন দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে টাইগারদের নিয়ে। এ
র মধ্যে মুশফিকের ‘আয়না তত্ত্ব,’ মাহমুদউল্লাহর ‘পেইনকিলার তত্ত্ব’ কিংবা একদম শেষের দিকে সাকিবের পঞ্চপান্ডব নিয়ে মন্তব্য – সবকিছুই ছিলো সোশ্যাল মিডিয়ার ‘টক অব দ্যা মোমেন্ট।’ মাঝখানে সাকিবের লাথি মেরে স্ট্যাম্প ভাঙা ‘বিপ্লবী’ নাকি ‘উদ্ধ্বত’ আচরণ, তা নিয়ে হয়েছে জলঘোলা।
খেলার মাঠে সরাসরি না থেকেও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির নানা বিস্ফোরক মন্তব্য করে হয়েছেন সমালোচনার শিকার।
বিদেশে ভাইরাল হওয়া কিছু ঘটনাও সেসব দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিলো এবছর।
তার মধ্যে বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের ১৯ বছর বয়সী দানানীর মুবিনের ‘পাওরি হো রাহি হ্যা’ অন্যতম। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে অনেকটাই মজার বশবর্তী হয়ে দানানীর ভিডিওটি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডে পরিণত হয়; পাকিস্তানসহ, ভারত ও বাংলাদেশের বহু সেলিব্রেটি ও আমজনতা এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন, টিকটক বানিয়েছেন।
বছরের শুরুটা দানানীরকে নিয়ে হলেও শেষটা হয়েছে সালমান খানকে দিয়ে। ক্যাটরিনা-ভিকির বিয়েতে বর-কনের চেয়েও বেশি আলোচিত ছিলেন বলিউডের এই সুপারস্টার। সালমান খান তার সাবেক প্রেমিকার বিয়ে মেনে নিতে পেরেছিলেন কি পারেননি না নিয়ে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য মিম, ভিডিও আর টিকটক।
সালমানের মনের আসল অবস্থা না জানা গেলেও অন্তর্জালের অধিবাসীরা ঠিকই মজে ছিলেন এই ত্রিমুখী প্রেমকাহিনীর পরণতি রসায়নে।
তৌসিফা ফারহাত বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করছেন।
ftousifa@gmail.com
