বর্তমান বিশ্বে জনসংখ্যা ৭ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে আরো আগেই। ২০৫০ সালে এ সংখ্যা ৯.৩ বিলিয়নে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়তি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য। ভবিষ্যৎ বিশ্ববড় ধরনের খাদ্যসংকটে পড়তে পারে ধারণা করে গবেষকরা বিকল্প সব খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যমতে, বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন হবে পূর্বের চেয়ে অন্তত ৬০ শতাংশ বেশি খাদ্য। সিএনএন- এর তথ্যসূত্র অনুযায়ী যে খাদ্যদ্রব্যগুলো ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে তা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
শৈবাল
কেল্প নামে এক ধরনের শৈবালপাওয়া যায়। তাতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং আয়োডিনের সাথে এমনসব খাদ্যউপাদান আছে যে এটিকে বেশ টেকসই একটি খাদ্যসামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করছেন বিজ্ঞানীরা। কেল্পসহ বেশকিছু সামুদ্রিক শৈবালের আছে আগামী বিশ্বের প্রধান খাদ্য উপাদান হওয়ার সম্ভাবনা।
জেলিফিশ
বৈশ্বিকভাবে জেলিফিশ খায় এমন মানুষের সংখ্যা নগণ্য। জেলিফিশে আছে তুলনামূলক কম চর্বি, আমিষ এবংখনিজ। এর খাদ্যগুণের জন্য হয়তো শীঘ্রই মানুষ জেলিফিশের নিরাপদ কিছু প্রজাতির দিকে ঝুঁকবে।
কৃত্রিমখাদ্য
এখন কৃত্রিম খাদ্যের যোগানের কথা অনেকেই বলছেন। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা 'সোলার ফুডস' নামে ফিনল্যান্ডের এক কোম্পানি বাজারে কৃত্রিম খাদ্য সুলভ করার ঘোষণা দিয়েছে। এ কাজের প্রথমধাপ হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার করে হাইড্রোজেন সৃষ্টি করা। এই হাইড্রোজেনকে পরে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, পানি, ভিটামিন এবংখনিজের সঙ্গে মেশানো হবে। এখান থেকে পাওয়া বায়োম্যাসকে পরবর্তীতে খাবার উপযোগী প্রোটিন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
কীটপতঙ্গ
কীট পতঙ্গে খাওয়ার ব্যাপারটা আসলে প্রায় সবার কাছেই অরুচিকর। বিশ্বের প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষ ঘাস ফড়িং খায় বলে জানা যায়। তবে আসন্ন বৈশ্বিক খাদ্যসংকট কালে কীটপতঙ্গ হতে পারে মানুষের খাদ্য!
কালচার করা মাংস
সংকট মোকাবেলায় সহায়তাকারী আরেকটি খাদ্য হতে পারে কালচার করা মাংস। পরীক্ষাগারে এই মাংস তৈরি করা হয়। প্রাণীর সতেজ কোষের কালচার সংগ্রহ করে পরবর্তীতে একে বায়ো রিঅ্যাক্টরে রাখা হয়, যাতে করে কোষ বৃদ্ধি হয়ে টিস্যুতেপরিণত হতেপারে; এবং কয়েক সপ্তাহ পরে এই পরীক্ষাগারে উৎপাদিত মাংস খাওয়া যায়। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে দেখা যেতে পারে পরিচিত মাংসের বাইরে 'নতুন' প্রাণীর মাংস নিয়ে বাজারে হাজির হতে।
এইসব খাদ্যের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা এখনো নতুন কিছু উদ্ভাবনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে এইখাবারগুলো কাজে লাগানোর প্রক্রিয়াও শুরুকরেছে।
অর্থী নবনীতা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন।
aurthynobonita@gmail.com
