আমাদের সবারই ছোটবেলায় সবচেয়ে বেশি শোনা প্রশ্ন—‘তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?’
বড় তো হয়ে গেলেন, এখনো উত্তরটা পাননি?
তা জানার আগে আপনাকে পেরোতে হবে কিছু ধাপ। মূল প্রশ্নে যাওয়ার আগে জেনে নিতে হবে কিছু ছোটখাটো ইচ্ছেকে। বুঝতে হবে নিজের ভেতরটাকেও।
নিজেকে জানুন
আপনি মানুষটা আসলে কেমন? তাত্ত্বিক নাকি প্রায়োগিক? দুটো পথ কিন্তু একেবারে আলাদা এবং দুটোরই এ সমাজে অনেক প্রয়োজন। তাই আপনার ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতা অনুযায়ী বেছে নিন আপনার পথটি। সবার দক্ষতার মাপকাঠি এক নয়, তাই নিজেকে বারবার কারও সঙ্গে তুলনা করার আগে জেনে নিন আপনার স্বাতন্ত্র্য কোন জায়গায়। নিজেকে জানাই আপনাকে জানিয়ে দেবে জীবিকার্জনের উপায়টিও। হয়তো নিজের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য স্থানও পেয়ে যাবেন।
পছন্দের কাজ বেছে নিন
কোন কাজ পছন্দ আপনার? অবসরের শখ কী? তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কিছুকেই কি বেছে নেওয়া যায় ক্যারিয়ার হিসেবে? যেমন ধরুন আপনি মঞ্চে কথা বলতে পছন্দ করেন, স্কুল-কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আপনাকেই উপস্থাপক রাখা হতো বারবার। কারণ এতে আপনার ভীষণ পটুত্ব রয়েছে। একটু কি চেষ্টা করা যায় না টিভি উপস্থাপনা কিংবা সংবাদ পাঠে? আজকাল কিন্তু রেডিও জকিরও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। আবার যদি আপনি লিখতে পছন্দ করেন, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও ব্লগ রয়েছে যারা খুঁজে বেড়াচ্ছে আপনারই মতো আগ্রহীদের। এ জন্য বেশ ভালো সম্মানীও পাওয়া যায়। যাচাই করে নিন নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা, যা কিনা পুরোপুরি ইচ্ছের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নিজের পছন্দের কাজটিকে যখন আপনি পেশা হিসেবে বেছে নেবেন, তখন কর্মজীবনে একঘেয়েমি আসার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। মনের খোরাক আর পেটের খোরাক যদি একই কাজে মেটে, তবে এর চেয়ে ভালো আর কীইবা হতে পারে?
প্রত্যাশিত আয় নির্ধারণ করুন
মাসিক কিংবা বাৎসরিক কতটুকু আয় আপনার লক্ষ্য? সেটা অবশ্যই ভেবে নিতে হবে। সে অনুযায়ী কাজ খোঁজাটাও সহজ হয়ে যাবে। আপনি যদি ছাত্রাবস্থায় থেকে থাকেন, তবে বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ এবং টিউশনির দুয়ার আপনার জন্য প্রশস্ত। শখ ও সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা চালাতে পারেন। কে জানে, হয়তো এই টুকরো কাজই আপনাকে বলে দেবে একদিন, আপনি বড় হয়ে কী হতে চেয়েছিলেন।
আয় নির্ধারণ করাটা অনেক বেশি জরুরি কারণ মুখে আমরা যতই বলি না কেন ‘অর্থই অনর্থের মূল’, তবু দিন শেষে প্রতিটি পদক্ষেপে অর্থ না থাকলে হোঁচট খেতে হয়। জীবনের বন্ধুর পথে যাতে বারবার হোঁচট না খেতে হয়, সে জন্য আগেভাগেই আয়-রোজগারের প্রত্যাশা সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিন এবং সে অনুযায়ী কাজ করা শুরু করুন। এতে করে আপনার পরিকল্পনাটি যথেষ্ট সুচিন্তিত ও সুষ্ঠু হবে।
ভবিষ্যতের কথা ভাবুন
মানুষ নিয়ত পরিবর্তনশীল। পাঁচ বছর আগের আপনি আর এখনের আপনি নিশ্চয়ই এক নন? বিখ্যাত দার্শনিকের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে—এক নদীতে দুবার পা ভেজানো যায় না। কারণ, নদীর পানি কখনোই এক জায়গায় থাকে না, ঠিক তেমনি মানুষের মনও, মানুষের চিন্তা-ভাবনাও। বর্তমানের কথা ভেবে আপনি হয়তো একটি কাজ বেছে নিলেন, আপনার পরিকল্পনাতেও নেই ফাঁক-ফোকর। আপনি এখন বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করছেন। কিন্তু সত্যিই কি তাই? ভবিষ্যতের আপনি কি আজকের আপনাকে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য দোষ দেবেন? ভেবে নিন। শুধু বর্তমানের কথাই নয়, ভবিষ্যতের কথাটাও ভাবুন, তারপর কোনো সিদ্ধান্ত নিন। কথায় আছে না, ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না?
নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘কেন?’
প্রতিটি কাজের পেছনে কিছু কারণ থাকে। প্রতিটি কারণের মধ্য দিয়ে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় এবং জীবনে চলার পথে এই উত্তরগুলো জানতে পারাটা খুবই জরুরি। যেকোনো কাজ করার আগে এবং পরে তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, কেন করছেন? কাজটি করার পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করুন। এ কারণগুলো আপনাকে স্বচ্ছতা দান করবে এবং সকল প্রকার দ্বিধা ধীরে ধীরে দূর হতে থাকবে।
‘কেন?’ প্রশ্নটি আমাদের জীবনের খুবই প্রয়োজনীয় একটি অংশ, তারপরও আমরা বেশির ভাগ সময় এটি ভুলে যাই। আজকালকার যুগে সবাই এত বেশি বিভ্রান্তি নিয়ে বেঁচে আছে যে, কোন কাজটি কী কারণে করছে, তার কোনো সুচিন্তিত উত্তর থাকে না। এর ফলে বিভ্রান্তি আরও বাড়তেই থাকে, জীবনের পথে সৃষ্টি হয় ধোঁয়াশার। এ ধোঁয়াশা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ আপনার জীবনের লক্ষ্য অনেক কাছে হলেও আপনার চোখে তা ধরা দেবে না। লক্ষ্য যদি ভেদ করতেই চান তবে এ ধোঁয়াশা দ্রুত কাটিয়ে উঠুন এবং আপনার নিজস্ব ‘কেন’র উত্তর খুঁজে নিন।
