Loading...
The Financial Express

ব্যাংক হিসাব জব্দ: তাপসের বিরুদ্ধে ‘প্ররোচনার’ অভিযোগ তুললেন খোকন

| Updated: June 29, 2021 19:34:17


ফাইল ছবি ফাইল ছবি

দুদকের আবেদনে আদালত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন সংবাদ সম্মেলন করে দুষলেন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

খোকনের অভিযোগ, মেয়র তাপস নিজের ‘ব্যর্থতা ঢাকতে’ দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাকে ‘হয়রানি’ করছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবেক মেয়র বলেন, “আমার ও আমার পরিবারের আটটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। সেখানে ৭ কোটি ৬২ লক্ষ ৭২ হাজার ৬০৩ টাকা ছিল। দুদক আমার পরিবারের কোন সদস্যকে কোনরূপ নোটিস না করে আত্মপক্ষ সমর্থনেরর সুযোগ না দিয়ে ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে।

"আমি বিশ্বাস করি, মেয়র তাপস নগর পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে, নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছে। দুদকের এহেন কর্মকাণ্ড তাপসের প্ররোচনায় সংগঠিত হয়েছে।”

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য খোকনের এই অভিযোগের বিষয়ে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য তাপসের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেনি।

মেয়র ‘মিটিংয়ে আছেন’ জানিয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী নাছিরুল হাসান সজীব বলেন, “এটা সম্পূর্ণ আদালত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়। এটা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আদালতের আদেশ পেয়ে উনার মাথা ঠিক নেই, যা ইচ্ছে তাই বলছেন। মেয়র মহোদয় এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবেন না।”

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের একজন উপপরিচালক গত রোববার খোকন ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার আবেদন করেছিলেন। ঢাকা মহানগরের একজন জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ওইদিনই তা মঞ্জুর করেন।

এর মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তিনটিম তার মা ফাতেমা হানিফের একটি, বোন শাহানা হানিফের দুটি এবং স্ত্রী ফারহানা আলমের দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে ‘অস্বাভাবিক ও বিপুল অংকের অর্থ লেনদেন করা হয়েছে, যা ‘সন্দেহজনক’।

“তাই সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা হস্তান্তর বন্ধ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।”

ওই ব্যাংক হিসাবের অর্থ এরইমধ্যে ‘স্থানান্তরের চেষ্টা হয়েছে’ দুদকের আবেদনে আদালতে জানানো হয়েছে। তবে সেখানে টাকার কোনো অংক উল্লেখ করা হয়নি।

সাবেক মেয়র খোকনের অভিযোগের বিষয়ে দুদকের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে খোকন ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মে পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

২০২০ সালের নির্বাচনেও তিনি মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে তার জায়গায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মনির ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপসকে প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ। তিনিই এখন দক্ষিণের মেয়র।  

গত বছরের শেষ দিকে গুলিস্তান এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সাবেক ও বর্তমান মেয়রের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

দোকান উচ্ছেদ শুরু হলে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলে মালিকরা। প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খোকনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

এরপর ফুলবাড়িয়া মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এক মানববন্ধনে যোগ দিয়ে মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন সাবেক মেয়র খোকন।

ক্ষমতাসীন দলের এই দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে তাপসের সমর্থক দুই ব্যক্তি সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আবেদন করেন আদালতে।

মেয়র তাপস সে সময় বলেছিলেন, ‘অতি উৎসাহীদের‘ ওই মামলায় তার সায় নেই। পরে একটি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, অন্যটি খারিজ করে দেয় আদালত।

 

Share if you like

Filter By Topic