প্রায়ই শোনা যায় ‘অমুকের ব্যক্তিত্ব আছে বটে।’ এই ব্যক্তিত্ব দিয়ে সাধারণ গাম্ভীর্যকেই বোঝানো হলেও ব্যক্তিত্বের সংজ্ঞা গাম্ভীর্যের ছকে বাঁধা নয়। সুন্দর ব্যক্তিত্ব অনেকগুলো উপাদের সমষ্টি। আর সেসব উপাদান সচেতন প্রয়াসের মাধ্যমে আয়ত্ত করা যায়।
ভালো শ্রোতা হওয়া
হরদম বলেই যাচ্ছেন, আশেপাশে থাকা মানুষের কথা শোনার ইচ্ছা, আগ্রহ কোনোটাই নেই, তবে ব্যক্তিত্ব অর্জনে অনেকটাই পিছিয়ে আপনি।
অন্যকে গুরুত্ব দেয়া, অন্যের কথা শোনা - এগুলোর মধ্যেই নিহিত থাকে আপনাকে মানুষ কতটা সম্মান করবে, কতটা সুনজরে দেখবে। তাই, যথাসম্ভব অন্যকে শুনুন, বোঝার চেষ্টা করুন, এতে মানুষের ভালোবাসা লাভের পাশাপাশি নিজেকেও অন্যভাবে আবিষ্কার করা সম্ভব।
নতুন মানুষ
ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা। যতবেশি মানুষের সাথে মেশা যায় ততবেশি নতুন নতুন বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। এতে জানার পরিধিও যেমন বাড়ে তেমনি নিজেকে সুন্দর কায়দায় সমাজে পরিচিত করার কাজটিও সহজ হয়।
চট করে মতামত
হয়তো কেউ একজনের সাথে আপনার কোনোদিনই বসা হয়নি, অথচ ফোনে দু'চার মিনিট আলাপ সেরে আপনি তার সম্পর্কে যেকোন মন্তব্য করে বসলেন। কিংবা, কোনো এক শনিবার রাতে একটি মেয়েকে ওষুধের দোকানে দেখতে পেয়ে বন্ধুমহলে মনগড়া এক মন্তব্য দিয়ে দিলেন।
আসলে দেখে বলে ফেলায় পরিশ্রম কম, কিন্তু কোনোকিছু ভেবে বলতে চাইলে অবশ্যই তা গভীরভাবে ভেবে বলতে হয়। আর সবার আগে মন্তব্য করতে পারাই সফল ব্যক্তিত্বের লক্ষণ, এরকমটা ভাবাও ভুল। বরং একটু সময় নিয়ে চিন্তা করে কিছু একটা বলার চেষ্টা করতে হবে।
সম্মান দিয়ে কথা বলা
সবধরনের মানুষকে সম্মান দেয়ার প্রবণতা অনেকসময়ই চোখে পড়ে না। সম্মান দেয়ার ক্ষেত্রেও বাছবিচার পদ্ধতি অবলম্বন করেন অনেকেই। কিন্তু, একজন ভালো মানুষ তথা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ তার সম্মান প্রদর্শনে শ্রেণী বিচার করেন না। তিনি দিনমজুর থেকে তার অফিসের বস, সকলকেই সম্মান দেখাতে পারেন।
সততা
মানুষ খুব সামান্য কিছুর জন্যই অনেকসময় নিজেকে ছোট করে। যা সবসময়ই ব্যক্তিত্ব রক্ষায় পরিপন্থী। মনে রাখা ভালো, একটিবারের জন্যও যদি কেউ সততা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে, তবে সে মানুষের সবধরনের সম্মান পাওয়ার অবস্থান থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলে। তাই, নিজেকে মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চাইলে অবশ্যই সৎ হতে হবে।
স্পষ্ট হওয়া
কর্মে কিংবা জীবনে বলার মতো যা-ই ঘটুক, তা স্পষ্ট করে বলার অভ্যাস থাকা ভালো। ইনিয়েবিনিয়ে কথা বলা ব্যক্তি ধীরে ধীরে নিজেকে ব্যক্তিত্বহীন করে তোলেন। সব কথা অবশ্য সবাইকে বলার উপযোগী হয় না। তবে আমরা যাকে যেটুকু বলছি সেটুকুতে যেন ফাঁকফোকর না থাকে।
চরিত্র বা চারিত্রিক গুণাবলি ছাড়া আসলে মানুষের হারাবার কিছুই নেই। তাই সায়ানের গানের সাথে তাল মিলিয়ে জীবনকে বলা যায়, “আমি সুন্দর হবো সুন্দর হবো একটু একটু করে, নেবো এই পৃথিবীর সব সুন্দর আমার দু-চোখ ভরে।”
সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
sanjoydatta0001@gmail.com
