Loading...
The Financial Express

বেইকিং সোডা পান করার উপকারিতা

| Updated: March 20, 2022 18:15:41


বেইকিং সোডা পান করার উপকারিতা

বেশি না, এক চামচ বেইকিং সোডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে মিলবে নানান স্বাস্থ্যোপকারিতা।

বিশেষ কিছু রান্নার প্রয়োজন ছাড়া বেইকিং সোডা কৌটায় দিনের পর দিন পড়ে থাকে। তবে এবার সেটা পরিবর্তন হতে পারে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

কারণ বেইকিং সোডা যা মূলত প্রাকৃতিক খনিজ সোডিয়াম বাইকার্বোনেট পানির সঙ্গে গুলে পান করলে নানান রকমের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমায় বলে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নিবন্ধিত সনদপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ব্রিট ব্র্যান্ডন।

পুষ্টিবিষয়ক বিভিন্ন বইয়ের লেখক ব্র্যান্ডন তার ‘বেইকিং সোডা ফর হেল্থ’ বইয়ের তথ্যানুসারে ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বেইকিং সোডা পান করার পাঁচটি স্বাস্থ্যোপকারিতা সম্পর্কে জানানো হল।

হজম ক্রিয়া উন্নত করে

পেট বা হজমের যে কোনো সমস্যা সারাদিন নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া পেটের সমস্যা নানান স্বাস্থ্য সমস্যাও সৃষ্টি করে। তাই প্রতিদিন সকালে আট আউন্স পানির সঙ্গে এক চা-চামচ বেইকিং সোডা মিশিয়ে পান করার পরামর্শে দেন, ব্র্যান্ডন।

এতে দেহের পিএইচয়ের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে হজম ক্রিয়া ভালো হয়। আর পেট পরিষ্কারও হয় সহজে।

হৃদস্বাস্থ্য উন্নত করে

হৃদস্বাস্থ্য ভালো না থাকলে দুর্বলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে হজম ও রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতার ওপর।

এই বিষয় লক্ষ করে ব্র্যান্ডন বলেন, “এর নেতিবাচক প্রভাব হৃদস্বাস্থ্য, দীর্ঘমেয়াদী রোগ এবং রক্তের নানারকম সমস্যা সৃষ্টি করে।”

আট আউন্স পানিতে এক চা-চামচ বেইকিং সোডা পান রক্তের প্রবাহ উন্নত করে। আর রক্ত জমাট বাঁধা এড়াতে সহায়তা করে।

পেট ফোলাভাব কমায়

অনেক সময় পেটে ফোলাভাব অস্বস্থির কারণ হয়। এমন পরিস্থিতিতে ছয় আউন্স পানির সঙ্গে এক চা-চামচ বেইকিং সোডা গুলে পান করা স্বস্থি দেয় বলে জানান, ব্র্যান্ডন।

তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, “পিএইচ’য়ের স্বাভাবিক মাত্রা দেহের গ্যাস ও হজমক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে, অ্যাসিড ও এনজাইম স্বাভাবিক মাত্রায় আসে এবং কোনো রকম সমস্যা ছাড়াই খাবার ধীরে ভাঙা শুরু করে।”

যা বরাবরই পেট ফোলাভাব সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।

বৃক্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখা

দেহ সুস্থ রাখতে সুস্থ কিডনি বা বৃক্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্যাখ্যা করে ব্র্যান্ড লিখেছেন, “দেহের দুষিত পদার্থ এবং হরমোনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে এটা সহায়তা করে।”

রয়েল লন্ডন হাস্পাতালের ১৩৪ জন দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগীর ওপর করা গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রতিদিন বেইকিং সোডার পানি পান নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি ভালো কাজ করে।

ব্র্যান্ডন বলেন, “প্রতিদিন এক কাপ পানির সঙ্গে এক চা-চামচ বেইকিং সোডা পান দেহের পিএইচ’য়ের ভারসাম্য বজায় রাখে, হরমোন স্বাভাবিক রাখে, পুষ্টি শোষণ করে আর রক্তের মান উন্নত করে। যা বৃক্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণ

নিয়মিত ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’য়ের সমস্যা থাকলে এমন খাবার খাওয়া প্রয়োজন যা দীর্ঘমেয়াদে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা কমাবে।

তবে দ্রুত এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আধা কাপ পানিতে আধা চা-চামচ বেইকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়। এতে দ্রুত গ্যাস্ট্রিকের অ্যাসিড সমস্যা দূর হয় বলে জানা যায় ব্র্যান্ডনের লেখা থেকে।

সতর্কতা

তবে অতিরিক্ত বেইকিং সোডা খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো ধরনের অ্যান্টাসিড ধরনের চিকিসা পদ্ধতির সঙ্গে বেশি পরিমাণে বেইকিং সোডা গ্রহণ করলে পাকস্থলিতে আরও বেশি গ্যাস উৎপাদন করে।”

তাই প্রয়োজন ও পরিমাণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা প্রয়োজন।

Share if you like

Filter By Topic