বাংলাদেশের টিকাদান কার্যক্রমকে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ও দৃষ্টান্তমূলক বলে অভিহিত করা হয়েছে দি ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিসিস জার্নালের এক প্রতিবেদনে।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কোভ্যাক্স উদ্যোগ এর আওতায় ইন্দোনেশিয়ার পর বাংলাদেশেই কভিড-১৯ এর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক টিকা প্রদান করা হয়েছে।
কানাডার ট্রান্সলেশনাল ভাক্সিনোলজি এন্ড ইনফ্লামেশন এর রিসার্চ চেয়ার অধ্যাপক ডেভিড কেলভিন এর তত্বাবধানে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে শুরুর দিকে কভিড-১৯ এর টিকা নিয়ে ব্যবস্থাপনায় জটিলতা ও সংকট তৈরি হলেও জুলাই ২০২১ এর পর থেকে ত্বরিৎ পদক্ষেপ বাংলাদেশের টিকাপ্রদানের দক্ষতা ও ঐতিহ্যকেই প্রমান করে।
বিশ্বব্যাপী টিকা নিয়ে শঙ্কা ও সংশয় এর মধ্যেও দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনগণকে এক বছরের কম সময়ের মধ্যে টিকা দেয়ায় আগ্রহী করে তুলতে পারা ও টিকার গ্রহনযোগ্যতা প্রমান করতে পারা, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য এটি একটি বিশাল সাফল্য।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, উন্নত দেশগুলোর মধ্যে টিকা নিয়ে বৈষম্য ও অসমতা তৈরির কারনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাজনীতির স্বীকার হচ্ছে। উন্নত অনেক দেশে বাংলাদেশের তুলনায় ৬৯ গুন বেশী টিকা দেয়া হয়েছে। এটি টিকার বন্টনে অসমতার চিত্র তুলে ধরে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয় গ্লোবাল কমন গুড বা বিশ্বের সবার জন্য ভালো এই কর্মসূচি একটা বড় সাফল্য হলো বাংলাদেশে একইসাথে চার রকমের টিকার উপস্থিতি।
টিকা নিয়ে উদ্বেগ বা আশংকার মাঝেও বাংলাদেশের মানুষের বিপুল পরিমানে সাড়া টিকা প্রদান কার্যক্রমের জন্য ব্যাপক উৎসাহজনক।
গবেষকগন উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নত দেশগুলোর তুলায় উল্লেখযোগ্য হারে টিকা সরবরাহ কম করা হলে তা হবে জনগনের জন্য নৈতিক ব্যর্থতা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে আকাশপথে যাতায়াত বন্ধ বা ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা কখনই বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ফলপ্রসু হতে পারে না। বরং সব দেশেই টিকার সরবরাহ বাড়িয়ে যেকোন মুল্যে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্বরিত পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক দক্ষতা টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রেখেছে এবং একই সাথে নোবেল বিজয়ী অর্থনিতিবিদ ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের গ্লোবাল কমন গুড এর শক্তিশালী আহ্বান কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করা হয়।
গবেষকগণ মনে করেন, টিকা উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে টিকা তৈরির জন্য গ্লোব বায়োটেকের উদ্যোগটি খুবই ইতিবাচক এবং তা প্রমান করে বাংলাদেশ এখন টিকা তৈরির জন্য প্রস্তুত এবং পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা পেলে এই দেশেই তা উৎপাদন করা যাবে।
ইনসেপ্টা ভ্যাক্সিন ও অন্যান্য বড় ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানির এক্ষেত্রে টিকা উৎপাদনের সামর্থ্য আছে বলেই মনে করেন গবেষকগণ।
এই মন্তব্য প্রতিবেদনে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে আরও ছিলেন কানাডার ডালহৌসি ইউনিভার্সিটির আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাফাত,বেনজামিন হিউয়িন্স, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মোরসালিন বিল্লাহ, এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ডঃ আদনান মান্নান এবং চীনের সান্তোউ ইউনিভার্সিটির গবেষকগণ।
পুরো গবেষণা প্রতিবেদনটি পড়তে এই লিংকে ভিজিট করুন - https://cutt.ly/dO6lEzD