Loading...
The Financial Express

বিশ্ব ব্যাংককে তার ঋণ কার্যক্রম নিয়ে ভাবতে হবে: স্পিকার

| Updated: June 19, 2022 18:26:35


স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী/ ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী/ ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বিশ্ব ব্যাংকের পিছুটান সত্ত্বেও বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করায় বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিকে এখন তাদের ঋণ প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

তিনি বলেছেন, স্ব-অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়া দিয়েছে। বিশ্ব ব্যাংককে তাদের বৈশ্বিক লেন্ডিং সিস্টেম নিয়ে আবার ভাবতে হবে।

“যারা অংশীজন তাদের সবার প্রতি ন্যায্যতা করতে হবে-এটা আমরা শুনে থাকি। কিন্তু পদ্মা সেতুর ব্যাপারে কী হলো? বিশ্বব্যাংক হঠকারীভাবে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের ভিত্তিহীন অভিযোগ করে।

“সেই কথিত দুর্নীতির প্রমাণ চাওয়ার পরও আমরা পাইনি। লেনদেন ব্যতীত অনুমান নির্ভরতার ওপর ধারণা করে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায়।”

শনিবার ‘শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণ: বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ তথা উন্নয়নশীল দেশসমূহের এক যুগান্তকারী বিজয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন স্পিকার।

ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে এই সেমিনার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটি।

স্পিকার বলেন, “পদ্মা সেতু দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। আজ আর স্বপ্ন নয়। আজ বাংলাদেশের বাস্তবতা, আমাদের অহংকার। বাঙালির আত্মনির্ভরতার এক অনন্য উদাহরণ, অতুলনীয় নিদর্শন।

“চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজস্ব অর্থায়নে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ধন্যবাদ।”

পদ্মা সেতু কেবল ইট-পাথরের নির্মিত সেতু নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর সাথে জড়িয়ে আছে লক্ষ-কোটি বাঙালির আবেগ। আমাদের ভালোবাসা, আমাদের গৌরব। দেশের মানুষ সেদিন শক্তি যুগিয়েছিল; কারণ মানুষের শক্তিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন। আমরা আজ আমাদের সক্ষমতাকে উদযাপন করছি।

“আবারও প্রমাণ হয়েছে, বাঙালি জাতি যেকোন প্রতিকূল পরিবেশে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, আমরা পারি। পদ্মা সেতু আমাদের বিজয়ের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক, আমাদের হার না মানার প্রতীক, আমাদের সক্ষমতার প্রতীক।”

নিজের পরিবারে পদ্মা সেতু নিয়ে আলোচনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সর্বত্র। বাড়িতেও আলোচনা। ছেলেমেয়েদের সাথে আলোচনা হয়।

“আমার মেয়ের বয়স ২৮ আর ছেলের ১৮। তাদের সাথে আলোচনায় যে অভিমত পাই, মেয়ে বলেছে, পদ্মা সেতু আমাদের নেতা শেখ হাসিনার সাহসের প্রতীক। শেখ হাসিনার দৃঢ়তার প্রতীক। ছেলে বলেছে, পদ্মা সেতু আমাদের নৈতিক সততার প্রতীক। ভবিষ্যতের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রতীক।”

“তরুণ প্রজন্ম আজ প্রস্তুত। পদ্মা সেতুর স্পিরিটকে ধারণ করে তারা এগিয়ে যাবে”, বলেন স্পিকার।

পদ্মা নদীর বুকে নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে বসে প্রথম স্প্যান। মাঝে ২২টি খুঁটির নিচে নরম মাটি পাওয়া গেলে নকশা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। তাতে বাড়তি সময় লেগে যায় প্রায় এক বছর।

করোনাভাইরাস মহামারী আর বন্যার মধ্যেও কাজের গতি কমে যায়। সব বাধা পেরিয়ে অক্টোবরে বসানো হয় ৩২তম স্প্যান। এরপর বাকি স্প্যানগুলো বসানো হয়ে যায় অল্প সময়ের মধ্যেই। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় পূর্ণ আকৃতি পায় স্বপ্নের সেতু, যুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড়।

দেশের বৃহৎ এই অবকাঠামো আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ প্রতিক্ষিত এই সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঘিরে পদ্মার দুই পাড়েই নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন।

সিরডাপ মিলনায়তনে সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সামসুল আলম, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আইনুন নিশাত, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ।

অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পদ্মা সেতুর জন্য আমাদের মর্যদা বেড়েছে। নিজের টাকায় করলাম। এর আগে প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন এই বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। এই মর্যাদা আমাদের সবার, সারা বাঙালি জাতির গৌরব। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে হবেই।

“সারাদেশে যোগাযোগ বিস্তৃত হল। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। মোংলা-বেনাপোল বেশি ব্যবহার হবে। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে।এই সেতু নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন।”

পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, “পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা ও ডিজাইন কাজে আমি যুক্ত ছিলাম। প্রথমদিকে মনে হচ্ছিল প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। এই সেতু থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। যখন কোনো প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা অর্থায়ন করে তখন কিছু প্রক্রিয়া আছে। পরে তারা ফিরতে চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তাদের নেননি।”

“প্রি ফিজিবিলিটি, ফিজিবিলিটি, ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং এসব আমরা শিখেছি। পত্রিকায় খরচ নিয়ে অনেক উল্টোপাল্টা কথা বলা হয়। সেগুলো অনেক আগের কথা। আপনারা ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে তথ্য নেবেন।”

তিনি বলেন, “গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র মিলে পদ্মা। বর্ষার সময় এটা যে কত শক্তিশালী বর্ষাকালে বুঝতে পারবেন। বার্জ ছিঁড়ে চলে গেছে। সেতুর কাজ শেষ হয়েছে নদী শাসনের শেষ করতে ২০২৩ এর শেষ নাগাদ লাগবে। মাওয়া সাইডের নদী ভরাট হয়ে গেছে। নদী সুয়িং করে।

“গত একশ বছর ধরে দেখেছি। পদ্মা যখন নির্মাণ শুরু করি, তখন মাওয়া ঘেঁষে ছিল। এখন কিছুটা সরে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল কোনোভাবেই নদী সংকুচিত করা যাবে না। নদী ভাঙন রোধের জন্য তীর রক্ষার জন্য কাজ করতে হয়। খুব কঠিন কাজ।”

তিনি আরও বলেন, “ইলিশের যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য নির্মাণের সময় শব্দ নিয়ন্ত্রণ করেছি। মাছ যাতে যাওয়া-আসা করতে পারে,সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, “অনেকে বলছেন, অনেক টাকা লেগে গেল। মূল্যস্ফীতি… ১০ হাজার ১০০ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি ধরলে ২৪ হাজার কোটি টাকা হয়ে যায়। নদীর শাসন ১৪ কিলোমিটার হল। সেখানে টাকা গেল। পিয়ার গভীরে গেল। অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হয়নি।”

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের পেছনে আর্থিক কারণ নয়, বরং ষড়যন্ত্র ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

Share if you like

Filter By Topic