বিশ্ব ঘুম দিবস: ঘুম হোক পর্যাপ্ত


শবনম জাবীন চৌধুরী | Published: March 18, 2022 14:15:32


বিশ্ব ঘুম দিবস: ঘুম হোক পর্যাপ্ত

মানুষের জীবনে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সকলকে সচেতনতা করে তোলার জন্য প্রতি বছর পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে বসন্ত ঋতুর আগমনের প্রথম দিনটি ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে বা বিশ্ব ঘুম দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেই হিসেবে এ বছর ১৮ মার্চ বিশ্ব ঘুম দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড স্লিপ সোসাইটির তত্ত্বাবধানে দিবসটি পালিত হয়। এ বছর বিশ্ব ঘুম দিবসের স্লোগান হচ্ছে পর্যাপ্ত ঘুম, সুস্থ মন, সুখী জীবন। মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সঠিক ঘুম ঠিক কতটা প্রয়োজন সেটা এবারের স্লোগানের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

কোন অভ্যাসগুলো ঘটায় ঘুমের অনিয়ম

একজন মানুষের রাতের ঘুমের ব্যাপ্তি গড়পরতায় ৮ ঘণ্টার কাছাকাছি হওয়া উচিত এটা কমবেশি সকলেরই জানা। কিন্তু স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি ৩ জনে ১ জন ঘুমজনিত নানারকম সমস্যায় ভুগছে।

নানারকম কারণ, যেমন-দীর্ঘদিনযাবত হাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা, ফাইব্রোমায়ালজিয়া, হতাশা, উদ্বিগ্নতা, নাক্রোলেপসির মত জিনগত কারণ (একধরনের নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার), বয়স বেড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন রকম ঔষধ সেবন, যেমন-কিছু কিছু এন্টিডিপ্রেসেন্ট, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ঔষধ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে থাকে।

দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, যেমন-ঘুমাতে যাওয়ার কিছু আগে পেট ভরে খাবার গ্রহণ ও প্রচুর পানি পান করা বা অ্যালকোহল,কফি, সিগারেট খাওয়া, বিছানায় শুয়ে দীর্ঘসময় জেগে থাকা, অতিরিক্ত ঠান্ডা, গরম বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে ঘুমাতে যাওয়া, দিনের বেলায় লম্বা সময় ঘুমানো, ব্যস্ততার সময়গুলোতে ঘুমের সময় কমিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করা, একেক রাতেএকেক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া-এই বিষয়গুলো স্বাভাবিক এবং পর্যাপ্ত ঘুমকে ব্যাহত করে।

এ তো গেল শারীরিক অনিয়ম। মানসিক অবসাদ, হতাশা, মনঃকষ্টও জাগিয়ে রাখতে পারে রাতের পর রাত। দীর্ঘসময় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা, রাত জেগে টিভি শো, সিনেমা দেখা বা যেকোনো স্ক্রিনে বেশিক্ষণ ব্যস্ত থাকা ঘুমের প্রবণতা কমিয়েও দিতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে কোন সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে?

হঠাৎ কোনো কারণে এক রাত ঘুম ঠিকমতো না হলে পরেরদিন ক্লান্ত মনে হয় এবং মেজাজটাও খানিকটা চিড়চিড়ে থাকে। কিন্তু এতে স্বাস্থের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না।

কিন্তু এভাবে পরপর অনেকগুলো রাত নির্ঘুম কাটালে বা খুব অল্প সময় ঘুমালে তা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। স্থির চিত্তে চিন্তা করা, কোনোকিছুতে সঠিকভাবে মনোনিবেশ করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলো একজনের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।ফলে একজন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদ এবং বিষন্নতায় ভুগতে শুরু করে।

এছাড়াও ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, শরীরে বাড়তি মেদ জমে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যায় এবং বন্ধ্যাত্বের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ভালো ঘুমের জন্য কী কী করা যেতে পারে?

রাতের পর্যাপ্ত ঘুম একজন ব্যক্তির সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির সঞ্চার করে এবং এর ফলে স্নিগ্ধ অনুভূত হয়। রাতে ভালো ঘুমের জন্য কিছু কিছু কাজ দৈনন্দিন অভ্যাসের আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে।

ঘুমোতে যাওয়ার ৯০ মিনিট আগে হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করা।

বিছানায় যাওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে থেকে সকল রকম ডিভাইসের ব্যবহার থেকে দূরে থাকা।

দুপুর ৩ টার পরে ক্যাফেইন রয়েছে এমন পানীয়, চকলেট বা ব্যথানাশক ঔষধ গ্রহণ থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকা।

নিয়ম করে প্রতিদিন প্রায় একই সময় রাতে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকালে ঘুম থেকে উঠা। ব্যস্ততার মাঝেও দৈনিক রুটিন তৈরি করে কাজ করলে ঘুমের সময়ে হেরফের হয় কম।

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা। মানসিকভাবে ফিট থাকতে হলে শারীরিক কসরতের জুড়ি নেই। ব্যায়াম না করতে পারলেও অন্তত নিয়মিত হাঁটাহাঁটির অভ্যাস করতে হবে।

শবনমজাবীনচৌধুরীইউনিভার্সিটিঅবএশিয়াপ্যাসিফিকেরফার্মেসিবিভাগথেকেস্নাতকসম্পন্নকরেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like