দেশের পুঁজিবাজারে আরো বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিদেশি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠনে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছে, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
নিয়মিত কমিশন সভায় সোমবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই বিষয়ে নির্দেশনাও প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে বিদেশি কোম্পানি মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠন করতে উদ্যোক্তা বা স্পন্সর হতে পারবে। ওই বিদেশি কোম্পানি সরকারি বা বেসরকারি হতে পারবে।
বিদেশি কোম্পানি এককভাবে কিংবা যৌথভাবে দেশি যোগ্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে মিলে উদ্যোক্তা হিসেবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠন করতে পারবে।
এই সংক্রান্ত নির্দেশনায় কিছু শর্তও ঠিক করে দিয়েছে বিএসইসি।
এ জন্য বিদেশি কোম্পানিকে একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। এরপর একক বা যৌথভাবে মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা হতে হবে তারা।
কমিশনের অন্য শর্তের মধ্যে রয়েছে, বিদেশি কোম্পানি কোনোভাবেই পুরো ফান্ডের ২৫ শতাংশের বেশি মালিক হতে পারবে না বা ‘সাবস্ক্রাইব’ করতে পারবে না।
মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে থাকে। বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফা ইউনিটহোল্ডারদের মাঝে লভ্যাংশ হিসেবে দেয়।
এখন পর্যন্ত দেশে সাধারণত এমন ফান্ডের উদ্যোগ নেয় সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। ফান্ডগুলোর ব্যবস্থাপনায় থাকে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান।
ফান্ড গঠনের শুরুতে উদ্যোক্তারা কিছু মূলধন যোগান দেন। বাকি টাকা পুঁজিবাজার থেকে তোলা হয়।
বেমেয়াদি (ওপেন এন্ড) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের আইপিও প্রক্রিয়ার বাইরেও ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে টাকা তোলা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা বা স্পন্সর দেশি কোম্পানি। এর বাইরেও বেমেয়াদি ফান্ড রয়েছেভ
নতুন এই বিধানের ফলে বিদেশি কোম্পানির মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা হওয়ার পথ তৈরি হলো।
