Loading...
The Financial Express

বিজিএমইএর সদস্যভূক্ত শতভাগ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস বুধবারের মধ্যেই

| Updated: May 12, 2021 21:38:23


বিজিএমইএর সদস্যভূক্ত শতভাগ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস বুধবারের মধ্যেই

মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটি নিয়ে কড়াকড়ি থাকলেও বুধবারের মধ্যেই শতভাগ পোশাক কারখানায় বেতন ও বোনাস দেওয়া শেষ হবে বলে দাবি করেছেন বিজিএমইএর নব নির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান।

বুধবার ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই আশার কথা শোনান তিনি।

ফারুক হাসান জানান, বিজিএমইএর সদস্যভূক্ত ১ হাজার ৯১৩টি (ঢাকায় ১ হাজার ৬৬৭টি ও চট্টগ্রামে ২৪৬টি) কারখানার মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে ১ হাজার ৮৬৬টি কারখানা। শতাংশের হিসাবে যা ৯৭ দশমিক ৫৪।

ঢাকায় ১ হাজার ৬৫২টি এবং চট্টগ্রামে ২১৪টি কারখানা বেতন দিয়েছে। আর বোনাস দিয়েছে ১ হাজার ৮৮৩টি কারখানা বা ৯৯ শতাংশ কারখানা।

“বুধবারের মধ্যে ঢাকায় ১৫টি কারখানা এপ্রিল মাসের বেতন ও ১৮টি কারখানা বোনাস পরিশোধ করবে। সেই প্রস্তুতি তারা নিচ্ছে। চট্টগ্রামেও ৩২টি কারখানা এপ্রিলের বেতন ও ২৩টি কারখানা বোনাস পরিশোধ করবে,” বলেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে লকডাউন চলছে, এর মধ্যেই এবার উদযাপিত হচ্ছে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।

এই পরিস্থিতিতে সব নাগরিককে গ্রামের বাড়ি না গিয়ে নিজ কর্মস্থলে থেকে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং দূরপাল্লার যাত্রীবাহী গাড়ি ও ট্রেন বন্ধ রয়েছে। তবে শিল্প-কারখানা চালু রয়েছে।

এবার ঈদের সাধারণ ছুটি তিনদিন। পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও ছুটি তিনদিন বহাল রাখার পরামর্শ দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

তবে ঢাকা, সাভার, গাজীপুরে বেশকিছু পোশাক কারখানা ঈদের ছুটি বাড়িয়ে দিতে আগেই শ্রমিকদেরকে দিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাড়তি কাজ করিয়ে নিয়েছে। ফলে এসব কারখানায় ঈদের ছুটি কমিয়ে তিনদিনে সীমাবদ্ধ করতে গিয়ে ঘটেছে বিপত্তি।

গত দু’দিন কারখানায় ভাংচুর হয়েছে, পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গটি তুলে এনে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বিজিএমইএর সভাপতি। ছুটির বিষয়ে শ্রম আইনের ধারাগুলোও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

“আমরা ‍দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, ছুটিকে কেন্দ্রে করে কিছু কারখানায় শ্রম অসন্তোষ ঘটেছে। শ্রমিক ভাই-বোনেরা ঈদের ছুটি কিছুটা বাড়িয়ে নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামে ঈদ করতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক, এর সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু এবারের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

তবে শ্রমিকরা চাইলে মালিক শ্রমিক আলোচনার ভিত্তিতে সপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করে সেই দিনটি উৎসব ছুটির সঙ্গে যোগ করে ভোগ করতে পারবেন। এটা শ্রম আইনে বলা আছে।

তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজের জন্য বেতন বা অন্য কোনো অধিকার দেওয়া হবে না। সেই হিসাবে ঈদের ছুটি কারখানাভেদে ৪ থেকে ৮ দিন করে দেওয়া হয়ে থাকে,” বলেন তিনি।

“শ্রমিক ভাইবোনদের প্রতি অনুরোধ, ছুটি নিয়ে যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলুন। এবারের ঈদে গ্রামের যাওয়া থেকে বিরত থেকে কর্মস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করে ঈদ উদযাপন করুন। এই ত্যাগ শিকারের মাধ্যমে সবার জীবন ও জীবিকা রক্ষা পাবে।”

Share if you like

Filter By Topic