বিএনপির কর্মীদের হট্টগোলে ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াস থেকে চলে গেলেন মির্জা ফখরুল


FE Team | Published: November 06, 2021 18:34:42 | Updated: November 07, 2021 10:39:20


বিএনপির কর্মীদের হট্টগোলে ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াস থেকে চলে গেলেন মির্জা ফখরুল

ঢাকায় এক স্মরণসভায় বক্তৃতার সময় নেতা-কর্মীদের হট্টগোলে ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াস থেকে চলে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে সবাই চুপ করলে তিনি ফিরে এসে বক্তব্য শেষ করেন।

রাজধানী ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের নিচতলার মিলনায়তনে বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের স্মরণসভায় হাজির হয়েছিলেন হাজারো নেতা-কর্মী, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

শনিবার আয়োজিত এ সভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। শুরু থেকেই হৈচৈ লেগেই ছিল।

সভা শুরুর পর নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সময়ও মিলনায়তনে কর্মীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতেই থাকেন। পেছনের দিকে এবং মূল মঞ্চের দুই পাশে কর্মীরা সারাক্ষণ কথা বলতে থাকেন।

এ নিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বক্তব্য দিতে এসে কর্মীদের কানাঘুষা ও কথা বলা বন্ধ করতে বলেন।

এরপরও কিছু কিছু কর্মী তাতে কর্ণপাত করছিলেন না।

এক পর্য়ায়ে তারা বলেন, কথা শুনতে না চাইলে এ কক্ষের বাইরে চলে যান অথবা আপনারা মাইকে এসে কথা বলেন, আমরা মঞ্চে বসে শুনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতির বক্তব্য দেয়ার সময়ও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াস থেকে চলে গিয়ে তিনি নিজের আসনে বসে পড়েন।

হট্টগোল দেখে মহাসচিব বলেন, সমস্যা হচ্ছে আমরা কেন এরকম সভায় আসি, সেটা বোধহয় আমরা নিজেরাও জানি না। এটা একটা স্মরণসভা, এমন একজন নেতার যিনি আমাদের অতীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন এবং সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন।

তার স্মরণ সভায় এসে আমাদেরকে এই সমস্ত সমস্যা সামাধান করতে হয়।

বিরক্ত প্রকাশ করে তিনি বলেন, কীভাবে কথা বলবেন। দেখুন এখানে ইয়াং ছেলেরা আছে, তরুণরা আছে। হয় তারা ছাত্রদল, না হয় যুবদল, না হয় স্বেচ্ছাসেবক দল অথবা মহানগরের নতুন কমিটির ছেলেরা।

তারা তো এখানে কথা শুনতেই আসেনি। অনেকে বহুবার বলেছেন এখানে। কিন্তু আমরা কেউ কর্ণপাত করছি না। আমাদের এ কান দিয়ে ঢুকে ওই কান দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ডানদিনে হট্টগোলকারীদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ওইখানকার সমস্যাটা কী? হোয়াট ইজ প্রবলেম দেয়ার। এভাবে আমি কথা বলব না।

এসময়ে দলের সঞ্চালক শামীমুর রহমান মাইকে এসে বলেন, আপনারা চুপ করেন। কেউ কথা বলবেন না। প্লিজ মহাসচিব এখন বক্তব্য রাখবেন। সবাই বসে পড়েন। শান্ত হয়ে বসেন। আমাদের সংগ্রামী মহাসচিব স্যার কথা বলছেন।

তখন পিনপতন নিরবতা তৈরি হয় মিলনায়তনে। পরে আবার ডায়াসে এসে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আবারো বলছি আপনারা মিটিং শুনতে আসেন, উনাকে স্মরণ করতে চান তাহলে দয়া করে শান্ত হয়ে থাকেন। তা না হলে আমাদের এখানে থাকার দরকার নাই, কোনো প্রয়োজন নাই।

আমি বলতে চাই, এভাবে কিছু হয় না। বিশেষ করে আমাদের তরুণ যুবক, ছাত্র-যুবদল তাদের প্রতি আহবান জানাতে চাই- আসুন আপনারা নিজেরা কিছু জানুন এবং নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। তা না হলে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে না।

অনুষ্ঠান শেষেও বিপত্তি তৈরি হয় সভাকেন্দ্রে। নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বেরুতে গিয়ে ইন্সটিটিউটের মূল গেইটের একটা গ্লাস ভেঙে যায়।

কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী সামাদ বলেন, বার বার বলছিলাম, আপনারা আস্তে যান। কেউ কথা শুনছে না। বিএনপির লোকজন এক সঙ্গে বেরুনোর সময়ে গ্লাসটি ভেঙে যায়। আমি নিজেও আহত হয়েছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তরিকুল ইসলাম। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন এই নেতা বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত তরিকুলের ছোট ছেলে বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয়, সহযোগী বিভিন্ন সংগঠন ও যশোর-খুলনার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share if you like