Loading...

বি পজিটিভ রক্তকে গরুর রক্ত বলে কেন?

| Updated: March 31, 2022 09:36:16


বি পজিটিভ রক্তকে গরুর রক্ত বলে কেন?

রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ বলার পর ‘গরুর রক্ত’ কথাটি শুনতে হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ছোটবেলা থেকে শুনতে শুনতে অনেকের মনে এমন ধারণাও জন্মে যে গরুর রক্তের গ্রুপ হয়ত বি পজিটিভ। কিন্তু আসলেই কি তাই? মানুষের রক্ত আর গরুর রক্ত কি এক? তাহলে বি পজিটিভ রক্তের গ্রুপের অধিকারী কোনো মানুষের দেহে রক্তের প্রয়োজন হলে কি গরুর দেহ থেকে রক্ত নেওয়া যাবে?

এরকম অনেক বিচিত্র প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। কিন্তু বি পজিটিভ রক্তকে গরুর রক্ত কেন বলা হয় তার সঠিক কারণ অনেকেরই অজানা।

যদিও পৃথিবীতে যত মেরুদন্ডী প্রাণী রয়েছে তাদের সকলের রক্তই সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে রাসায়নিক গঠনের জন্য বেশ কিছু পার্থক্য সৃষ্টি হয়। আর তাই এক প্রাণীর রক্ত কখনো অন্য প্রাণীর রক্তের অনুরূপ হতে পারেনা। তবে অন্য রক্তের গ্রুপ নিয়ে এ কথা সবাই মেনে নিলেও বি পজিটিভ রক্তের গ্রুপ নিয়ে অনেকেই তর্ক-বিতর্ক জুড়ে দিতে পারেন। এ কারণে প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে।

মানুষের রক্তে তিন ধরনের কণিকা আছে। লোহিত কণিকা, শ্বেতকণিকা ও অনুচক্রিকা। এর মধ্যে রক্তের লোহিত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয় রক্তের গ্রুপ। এ গ্রুপ মানুষের দেহে একটি বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য।

রক্তে অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের বিভিন্ন ধরনের গ্রুপিং সিস্টেম করা হয়েছে। মানুষের রক্ত গ্রুপিংয়ের ক্ষেত্রে ‘এবিও’ সিস্টেম এবং আরেইচ ফ্যাক্টর সিস্টেম সারা পৃথিবীতে প্রচলিত আছে। তার মধ্যে এবিও সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে চার ধরনের ব্লাড গ্রুপ আলাদা করা হয়েছে। এগুলো হলো- এ, বি, এবি এবং ও গ্রুপ।

এদিকে আরএইচ ফ্যাক্টর হলো রক্তের লোহিত কণিকায় উপস্থিত এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন। যাদের রক্তের অ্যান্টিজেনে  আরএইচ ফ্যাক্টর থাকে তাদের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ ধরা হয় এবং যাদের রক্তের অ্যান্টিজেনে আরএইচ ফ্যাক্টর থাকে না তাদের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ ধরা হয়। অর্থাৎ মানুষের রক্তের গ্রুপ মোট আটটি।

অপরদিকে গরুর রক্তে ১১ টি প্রধান গ্রুপ রয়েছে। এগুলো হলো- এ, বি, সি, এফ, জে, এল, এম, আর, এস, টি ও জেড। তার মধ্যে কেবলমাত্র বি গ্রুপটিরই রয়েছে ৬০টির বেশি অ্যান্টিজেন!

এ ১১ টি ছাড়াও আরো কিছু রক্তের গ্রুপ আছে যেগুলো সচরাচর পাওয়া যায়না। অর্থাৎ গরুর রক্ত মানুষের দেহে দেওয়া তো দূরে থাক, এক গরুর রক্ত আরেক গরুর দেহে দেওয়াই প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।

এত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কেন বি পজিটিভ রক্তকে গরুর রক্ত বলা হয়?

এর মূল কারণ হলো এশিয়া মহাদেশে অন্য যেকোনো গ্রুপের চেয়ে বি পজিটিভ গ্রুপধারী মানুষের সংখ্যা বেশি। এশিয়ার প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষই এ রক্তের গ্রুপের অধিকারী। অর্থাৎ অন্য যেকোনো গ্রুপের রক্তের চেয়ে অনেক বেশি সহজলভ্য বি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত। আর এ সহজলভ্যতার বিষয়টি বোঝাতেই বি পজিটিভ গ্রুপের রক্তকে গরুর রক্ত বলা হয়ে থাকে। কিন্তু লোকমুখে শুনতে শুনতে অনেকেই এটাকে সত্যি ভেবে নিয়েছেন। আর সেখান থেকেই এ কথাটি অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু তাই বলে বি পজিটিভ রক্তকে যে এভাবে পৃথিবীর সর্বত্রই গরুর রক্ত বলা যাবে, এটা ভেবে থাকলে তা হবে নিছক ভুল ধারণা। যেমন ইউরোপ বা আমেরিকাতে গেলে বি পজিটিভ রক্তকে গরুর রক্ত বললে তা হবে পুরোপুরি অযৌক্তিক। কারণ সেখানে কেবলমাত্র ৮.৫ শতাংশ ব্যক্তি বি পজিটিভ রক্তের গ্রুপধারী।

আমেরিকায় সবচেয়ে সহজলভ্য রক্তের গ্রুপ হচ্ছে এ পজিটিভ। দেশটিতে প্রায় ৩৫ শতাংশের বেশি ব্যক্তি এ পজিটিভ গ্রুপের রক্ত বহন করে। এর মানে হচ্ছে আমেরিকায় কোনো গ্রুপের রক্তকে গরুর রক্ত বলা গেলে তা হবে এ পজিটিভ গ্রুপের রক্ত।

মোঃ ওমর ফারুক তপু বর্তমানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

jafinhasan03@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic