Loading...

বাসা থেকে কাজে বানিয়ে নিন নিজের ওয়ার্কস্টেশন

| Updated: December 24, 2021 11:33:23


প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত) প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)

সময়ের সাথে সাথে ঘরে বসেই কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এবং দিনে দিনে এই সুযোগ বেড়ে চলেছে। ঘরে বসে কাজ মানে অনেকেই মনে করে থাকেন ঘরের যেকোনো জায়গায় যেমন আরাম করে সোফায় গা এলিয়ে বা বিছানায় শুয়ে বা বারান্দায় বসে একভাবে ল্যাপটপে বা ডেস্কটপে কাজ করে গেলেই তো হলো। তবে ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম না। ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা ঘরে বসে কাজের ক্ষেত্রে একটি সঠিক ওয়ার্ক স্টেশনের প্রয়োজন। দিনশেষে তুলনা করলে দেখা যায় সঠিক ওয়ার্ক স্টেশনে বসে আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে।

কাজের জায়গাটুকু মনের মত (পছন্দসই ডিজাইন বা রং এর আসবাবপত্র) করে সাজিয়ে নেওয়া যায়, তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে ভালো।

সঠিক জায়গা নির্বাচন

যাদের নিজের জন্য একটি আলাদা ঘর রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে জায়গা নির্বাচন খুব সহজ। ঘরের যেকোন প্রান্তকেই তারা বেছে নিতে পারেন। তবে সকলের ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা কিন্তু এরকম না। অনেককেই বাসার কিছু কমন জায়গাকে কাজের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে হয়।

যেমন ডাইনিং টেবিল, পড়ার টেবিল এবং কাজ শেষে প্রতিবারই জিনিসপত্র গুছিয়ে সেখানে থেকে সরিয়ে ফেলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে বাসার কোনো একটি জায়গা (বড় কোন ঘরের অব্যবহৃত কোণার জায়গাটুকু) নির্বাচন করতে হবে যেখানে অনায়াসে, নির্বিঘ্নে ও একাগ্রচিত্তে কাজ করা যায় এবং কাজ শেষে প্রতিবার বাক্স-পেটরা গুছিয়ে ফেলারও প্রয়োজন পড়বে না। 

প্রাইভেসি বজায় রাখা

অফিসে হোক বা ঘরে বসে হোক কাজের ক্ষেত্রে প্রাইভেসি বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। ব্যক্তিগত ঘরে যখন কাজ করছেন তখন চারদেয়ালের বেষ্টনী আর বদ্ধ দরজা প্রাইভেসি দিতে পারে। অহেতুক হট্টগোল বা হুটহাট মানুষের আনাগোনা ব্যতিরেকে নিশ্চিন্তে কাজ করে যাওয়া যাবে।

তবে কমন স্পেস শেয়ারের ক্ষেত্রে সহজেই কাজের জায়গাটুকু একটি ডিভাইডার দিয়ে আলাদা করে ফেলা যায় বা রডের সাহায্যে সিলিং থেকে মেঝে পর্যন্ত পর্দা ঝুলিয়ে দেওয়া যায়।

ধরা যাক, কেউ একজন কোনো ক্লায়েন্টের সাথে ভিডিও কলে মিটিং এ রয়েছেন। এখন ব্যাকগ্রাউন্ডে যদি শোবার ঘরের জিনিসপত্র দেখা যায় তাহলে কি তা নিশ্চয়ই খুব শোভনীয় হবে না। তাই চেয়ার টেবিলটিকে এমন পজিশনে রাখতে হবে যাতে পিছনে ওয়াল বা সলিড জাতীয় কিছু দৃষ্টিগোচর হয়।

কাজের জায়গাটি অন্য কেউ ব্যবহার করলে করণীয়

যদি প্রতিদিনের ব্যবহার করা টেবিলটি সন্তানেরাও পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করে থাকে বা কারো সঙ্গীও হোম অফিসের সময় ব্যবহার করেন, তবে তাই ডেস্কটি এমনভাবে বানিয়ে নিতে হবে যাতে একই সময় পাশাপাশি দুজনে বসে কাজ করা যায়।

সঠিক আসবাবপত্র বাছাই

দীর্ঘসময় কাজের ক্ষেত্রে বসার চেয়ার ও ডেস্কটাকে  এমনভাবে বানিয়ে নেওয়া যায় যাতে বাজেট, কাজের ধরণ ও চাপ এবং সীমিত পরিসরের মধ্যে সুন্দরভাবে বসানো যায়।

আরামের প্রাধান্য

কেউ হয়তডাইনিং টেবিলের একটি চেয়ার টেনে বসে পড়লেন কাজ করতে। ঘন্টার পর ঘন্টা টানা কাজ করে চলেছেন এভাবে। কিন্তু ভেবে দেখতে হবে যে সঠিকভাবে না বসার কারণে কোমরে এবং মেরুদন্ডে ব্যথা হতে পারে। তাই চেয়ার নির্বাচনের সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেমন চেয়ার উচ্চতা যেন এডজাস্টটেবল হয়, হাতলওয়ালা চেয়ার, পিঠের পিছনে যাতে সাপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

মনিটরের সঠিক অবস্থান

মনিটরটি এমন অবস্থানে রাখতে হবে যাতে কাজের সময় ব্যবহারকারীর শিরদাঁড়া সোজা থাকে, স্ক্রিনের উপরিতল যাতে চোখ বরাবর বা খানিকটা নিচে থাকে, মনিটরটি চোখ থেকে অন্তত ২০ ইঞ্চি দূরে রাখতে হবে। এতে করে ঘাড় ও চোখে বাড়তি কোনো চাপ পড়বে না।

পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা

হোম অফিসে কাজ করার সময় অনেকসময় আলোর পর্যাপ্ততার বিষয়টাকে মাথায় রাখা হয় না।

কাজের জায়গাটুকুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে সেটা প্রকৃতির আলো হলেই ভালো তবে সেটা সম্ভবপর না হলে কৃত্রিম আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। নতুবা চোখে চাপ পড়বে এবং এ থেকে ধীরে ধীরে চোখের জ্যোতি কমতে শুরু করবে এবং মাথাব্যথার সমস্যা সৃষ্টি হবে।

 

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন

zabin860@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic