সারাদিনের অফিসের খাটুনি শেষে আমজাদ সাহেব সবে ঘরে ফিরেছেন। বিছানার পাশে থাকা ছোট্ট টেবিলটায় হাতঘড়ি খুলে রাখার সময় দেখলেন তার উপরে একটা পাঞ্জাবী রাখা রয়েছে। তিনি একটু অবাকই হলেন, তার ঘরে পাঞ্জাবী এলো কোথা থেকে!
মধ্যবিত্ত সংসারজীবনে যেখানে ঈদের সময় নিজের পাঞ্জাবী কেনাটাই সবসময় ঐচ্ছিক থেকে যায়, সেখানে বছরের এমন আধাখেঁচড়া সময়ে পাঞ্জাবী কোথা থেকে আসলো?
এতো ভাবনা চিন্তার কাজ নেই, দ্রুত তিনি তার গিন্নিকে ডাকলেন। পাঞ্জাবী কোথা থেকে এলো, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি অনেকটা বাচ্চাদের মতো হু হু করে কেঁদে উঠলেন। স্ত্রীর উত্তরটা ছিল অনেকটা এরকম, “তোমার বড় ছেলে তার টিউশনির টাকা জমিয়ে এই পাঞ্জাবীটা কিনেছে; তোমার জন্য। আজকে নাকি বাবা দিবস!“
প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে ‘বাবা’ অসীম এক ভরসার নাম। সব সন্তানের কাছেই তার বাবা যেন এক সুপারহিরো। পিঠে থাকা হাজারো দায়িত্বের বোঝায় নুইয়ে পড়া বাবা নামক মানুষটা সন্তানের সব আবদার হাসিমুখে পূরণ করতে কখনো পিছপা হয় না।
কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য দেয়ালের কারণে দিনশেষে বাড়ি ফেরা ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলা হয় না, “আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি বাবা” বা “বাবা, তুমিই আমার জীবনের সুপারহিরো। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ তোমাকে বাবা।”
প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। আর সেই হিসেবে আজকে অর্থাৎ ১৯ই জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। তাই অনেকেই এই দিনটিকে বেছে নেয় বাবার প্রতি ভালোবাসা বা ধন্যবাদ জ্ঞাপনের দিন হিসেবে। আর তা প্রকাশের জন্য উপহারের চেয়ে ভালো মাধ্যম আর কী হতে পারে?
বই
ছোটকাল থেকে আমৃত্যু, বই সবসময়ের বন্ধু। আর তাছাড়া বই পড়তে কে না ভালোবাসে। বাবার পছন্দের লেখকের বই তার হাতে তুলে দিলে নিঃসন্দেহে তার ভালো কিছু সময় কাটবে।
পোশাক
বাবাদের পছন্দের জিনিসগুলো বেশিরভাগ সময়ই দোকানের তাকেই রয়ে যায়। কেমন হয় যদি বাবার পছন্দের কোনো একটি পোশাক মানে তার অনেক ইচ্ছে ছিল এমন একটা পোশাক কেনার কিন্তু কেনা হয়নি কখনো, এমন কিছু তাকে উপহার হিসেবে দিলে?
ফিটনেস ব্যান্ড
ফিটনেস ব্যান্ডের উপকারীতা কারো অজানা নেই। বয়স বাড়লে নিয়মিত ব্লাড প্রেশার চেক করাটা জরুরি হয়ে পড়ে। এছাড়াও হার্ট রেট, ওয়াক স্টেপ – এসবই যেহেতু এতে কাউন্ট হয় তাই একটা ফিটনেস ব্যান্ড বাবার হাতে থাকলে বেশ উপকারই হবে।
বেল্ট, ওয়ালেট, কাফলিং, টাই
বাবাদের জন্য এগুলো খুব দরকারের জিনিস। তাই বাবার রুচি অনুযায়ী এগুলো উপহার দেওয়া যেতে পারে।
কাপ বা মগ
সকালে নাশতার টেবিলে বা দিনশেষে ঘরে ফেরার পর এক কাপ চা বা কফিতে বাবারা কম বেশি সবাই অভ্যস্ত। তাই নান্দনিক ডিজাইনের বা কাস্টমাইজড করা কাপ বা মগ দেওয়া যেতে পারে।
নিজের হাতের রান্না
বাবারা বোধহয় সবচেয়ে বেশি যে খাবার খেতে পছন্দ করে তা হচ্ছে সন্তানের হাতের রান্না করা খাবার। নুন তিতকুটে বা নুনবিহীন খাবার পরম আগ্রহভরে খেয়ে নিতে পারেন তারা। তাই এই বিশেষ দিনে বাবার পছন্দের খাবার রান্না করা যেতে পারে।
গেট টুগেদার
ব্যস্ততা আর সময়ের ঘোড় দৌড়ে ফেলে আসা প্রিয় মানুষ বিশেষ করে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে দেখা করা হয়ে উঠে না কখনো। স্মৃতির পাতায় উঁকিঝুঁকি দিলেও, কেবল দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কার্যত আর কিছু করা হয়ে উঠে না। তাই পরিবারের সবার কাছ থেকে বাবার পুরনো বন্ধুদের সম্পর্কে জেনে একটা সারপ্রাইজ গেট টুগেদারের প্ল্যান করলে কিন্তু মন্দ হয় না।
ঘুরতে নিয়ে যাওয়া
বাবার পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। পরিবারের সবাইকে বা আজকে না হয় শুধু বাবাকে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
ফুল, কেক
একগুচ্ছ ফুলের তোড়া পেতে কে না ভালোবাসে! আর সেই সাথে কেকের বাক্সে উঁকিঝুঁকি দিতে থাকা কেক – এ দুইয়ের জুড়িটা কিন্তু উপহার হিসেবে বেশ।
পারফিউম
ছোটবেলায় অনেকেই চুপিসারে বাবার পারফিউম দিয়েছে। বাবার পারফিউমের গন্ধটাই যেনো বেশি ভালো। আজ বাবা দিবসে বাবার পছন্দের একটা পারফিউম তাকে কিনে দিলে কেমন হয়!
মুঠোফোন
বাজেটের সেরকম কোনো সমস্যা না থাকলে একটা মুঠোফোন বিশেষ করে স্মার্টফোন কিনে দেয়া যেতে পারে।
zabin860@gmail.com
