দেশের দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণে রুশ প্রতিষ্ঠান গ্লাভকসমসের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি।
বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ২০১৮ সালের ১২ মে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ফরাসি কোম্পানির তৈরি সেই কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তার সাড়ে তিন বছরের মাথায় দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে ‘নতুন মাইলফলক’ হিসাবে অভিহিত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে এটা একটা মাইলফলক। কারণ, বাঙালির একটা না, দু’টা স্যাটেলাইট হবে, এটা দেখে হেনরি কিসিঞ্জার হয়ত আত্মহত্যা করতেন।”খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকার জন্য সমালোচিত সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একসময় তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
বুধবার বিকালে ভার্চুয়াল আয়োজনে দুই প্রতিষ্ঠানের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান গ্লাভকসমসের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দিমিত্রি লসকুতভ। মোস্তাফা জব্বারের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সিইও শাহজাহান মাহমুদ।
টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে টেলিযোগাযোগ খাতে তিনটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল তৃতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন, ফাইভ-জি চালু এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ।
দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য ২০১৯ সালেই কাজ শুরু হয়েছিল।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, “এর মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ করেছি, তাদের রিপোর্ট পেয়েছি। তারপরে আমরা চূড়ান্ত করেছি, কী ধরনের স্যাটেলাইট করব আমরা।
”সেগুলো করার পরে আমরা ঠিক করেছি সরকারের দিক থেকে আমরা কাদেরকে দিয়ে এটা করাব। এবং এর সহযোগিতার জায়গাটা কোথায় হবে। সেটার ভিত্তিতে এগিয়ে গিয়েছি। এগিয়ে যাওয়ার পরে আজকে সহযোগিতার সমঝোতার স্মারক সই করতে পেরেছি।”
আগের বক্তব্য অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি। তবে বিষয়টা কারিগরি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ক্ষেত্রে আপনারা দেখেছেন, সব প্রস্তুতির পরও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গিয়েছিল। আমরা প্রস্তুত, দেখা যাক কী হয়।“
সমঝোতা স্মারকের কিছু অংশ উদ্ধৃত করে গ্লাভকসমসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুশ মহাকাশ ইন্ডাস্ট্রি থেকে বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ তৈরি, উৎক্ষেপণ এবং রুশ ও বিদেশি মহাকাশ যান থেকে ভূমিতে তথ্যগ্রহণের অবকাঠামো নির্মাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতায় একমত হয়েছে উভয়পক্ষ।
সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছে গ্লাভকসমস।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রান্তে ঢাকায় রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভিকেন্তিয়েভিচ ম্যান্টিটস্কি এবং রাশিয়া প্রান্তে সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।
